• ই-পেপার

ভ্যানকে চাপা দিয়ে খাদে ট্রাক, নিহত ১

পানির নিচে রাঙামাটির বিলাইছড়ির অধিকাংশ এলাকা

রাঙামাটি সংবাদদাতা
পানির নিচে রাঙামাটির বিলাইছড়ির অধিকাংশ এলাকা
সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম ফারুয়া বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু ফারুয়া বাজার নয়; চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তত্তানালা, একগুজ্জাছড়ি, গোইয়ানছড়ি, শুক্কুরছড়ি ও যমুনাছড়িসহ সবকটি এলাকা এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফারুয়া ইউনিয়নে। ঢলের পানিতে পুরো ফারুয়া বাজার তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকানপাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বানভাসি মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাইংক্ষ্যং নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে যাওয়ার নৌপথটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় সরাসরি সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

যমুনাছড়ি বম পাড়ার হেডম্যান পালম বম জানান, যমুনাছড়িতে কমপক্ষে ২০ পরিবার এবং দুইটি গির্জা পানিতে তলিয়ে গিয়াছে। বন্যার পানির কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ও বিবরণ জানা সম্ভব নয়।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, অবস্থা ভয়াবহ। ভোর রাত হতে প্রবল বর্ষণে ফারুয়ার নিম্নাঞ্চলের সকল গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। চাইন্দা পাড়া, আলিখিং পাড়া, উলুছড়ি, তক্তানালা উত্তর, তক্তানালা দক্ষিন, ওরাছড়ি পুর্ব, ওরাছড়ি পশ্চিম, লত্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি বাঙ্গালাী পাড়া, গোয়াইনছড়ি, ফারুয়া বাজার, তারাছড়ি, যমুনাছড়ি এসব পাড়াসমূহ ডুবে গিয়েছে।

পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা ফারুয়াতে ত্রাণ বিতরণের জন্য গতকাল(শুক্রবার) থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নদীতে স্রোত বেশি থাকায় সেখানে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে ফারুয়ার স্থানীয় বাজার থেকেই চাল, ডাল ও তেল কিনে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করছি।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন নদীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংক্ষ্যং নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে নদীতে স্রোত থাকায় আমরা ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না। স্রোতের বেগ কিছুটা কমলেই আমরা বড় আকারে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের কাছে রওনা হব।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গতরাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।


 

নারায়ণগঞ্জে ঝোপের ভেতর মিলল বিদেশি পিস্তল

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ঝোপের ভেতর মিলল বিদেশি পিস্তল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঝোপের ভেতর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে সোনারগাঁ উপজেলার বড় চেঙ্গাইন এলাকায় পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১-এর সিপিএসসি কম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দল বড় চেঙ্গাইন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মাদক বিক্রির একটি স্পটে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে ঝোপের ভেতর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ র‍্যাব-১১ কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. নাঈম উল হক বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাব-১১ এর ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

ফেনী

মুহুরীতে পানি বেড়েছে, বাঁধ উপচে লোকালয় প্লাবিত

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

ফেনী প্রতিনিধি
মুহুরীতে পানি বেড়েছে, বাঁধ উপচে লোকালয় প্লাবিত
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামে মুহুরী নদীর পাশে সড়ক ডুবে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। শুক্রবার তোলা। ছবি : সংগৃহীত

চার দিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর পানি বেড়েছে। নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। এতে জেলার ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ বরৈয়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 
 
এদিকে, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পানিবন্দি পরিবারগুলো গত দুই দিন ধরে চুলায় রান্না বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আজ (শনিবার) রাতের মধ্যে বসতঘরে পানি উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।  মুহরী নদীর পানি বাড়লে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলগাজীর উপজেলার সদর ইউনিয়নেরে আক্রান্ত গ্রামের প্রধান সড়কে হাঁটু সমান পানি জমেছে। এতে গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। 

ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের কৃষক করিমুল হক জানান, মৌসুমি ফসলের জন্য প্রস্তুত করা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে এভাবে কৃষিজমি পানিতে ডুবে থাকলে প্রস্তুত করা চারা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। 

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মুজিবুর রহমান জানান, আজ (শনিবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, মুহুরী নদীর পানি গতকাল (শুক্রবার) রাত ১১টা থেকে বাড়লেও রাত থেকে কিছুটা কমতে থাকে। পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে  ভারি বৃষ্টিপাত না হলে পানি বাড়ার আশঙ্কা কম।

সেতু ধসে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অনলাইন ডেস্ক
সেতু ধসে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
সংগৃহীত ছবি

টানা ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় একটি সেতু ধসে পড়েছে। এতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে এ সেতু ধসের ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পানির তীব্র স্রোতের মুখে দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকার সেতুটি ধসে পড়ে। ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুই পাশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা ও নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।