দেশীয় মৌসুমী ফলের বৈচিত্র্য তুলে ধরা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং বাঙালির খাদ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণদের পরিচয় আরো দৃঢ় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌসুমী ফল উৎসবের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
উৎসবে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, আনারস, পেয়ারা, কলা, ড্রাগনসহ মৌসুমের বিভিন্ন দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীরা ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ছবি তোলা, আড্ডা এবং ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করেন। এতে উৎসব প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যস্ত নগরজীবনে একসঙ্গে এত দেশীয় ফলের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ খুব কমই মেলে। তাই এ আয়োজন তাদের কাছে আনন্দের পাশাপাশি শৈশবের স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, বর্তমানে তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে দেশীয় ফলের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অথচ দেশীয় মৌসুমী ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক্ষা রানী, সিনিয়র সহসভাপতি উসয়াতুল হাসানা হাসি, সহসভাপতি প্রিয়া আক্তার, আজিজুর হাকিম ও শারমিন আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী, শাকিল মিয়া, কেন্টন চাকমা ও সাইফুল ইসলাম, সহসম্পাদক সামিয়া তাসনিম ও রওশন ইসলাম, হল প্রতিনিধি ফরহাদ আহমেদ ও জুয়েল রানা এবং সংগঠনের সদস্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন বলেন, দেশীয় ফল শুধু আমাদের খাদ্যের অংশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তরুণদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং বাঙালির সংস্কৃতিবোধকে আরও সমৃদ্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা প্রতি বছর এই আয়োজন করি। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে সবার জন্য উন্মুক্তভাবে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বাঙালির ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।








