• ই-পেপার

ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হলেন যারা

জুলাই আন্দোলনে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই আন্দোলনে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফিন্যান্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। 

এদিকে, ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। মাসব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে– জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণা ও আলোচনাসভা, প্রবন্ধ রচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

ভিসার কঠিন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা

বিকল্প হিসেবে অধিকাংশই ঝুঁকছে ইউরোপে দেশে গবেষণা ও মান বাড়ানোর তাগিদ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা

উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার নিয়ম ব্যাপক কঠিন করেছে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। বিকল্প হিসেবে চীন, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এবং পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো ডিগ্রি বা প্রোগ্রামের জন্য একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছর থাকার অনুমতি পাবেন। কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার জন্য আগে যেখানে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, সেটাও কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। পিএইচডি বা থিসিস বিলম্বিত হওয়ায় চার বছরের বেশি সময় লাগলে সরাসরি মার্কিন অভিবাসন সংস্থার কাছে চড়া ফি দিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে, যা অনুমোদনের ক্ষমতা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে থাকবে না।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন ও ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে নতুন নিয়মে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে। ওপেন ডোরস রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন এই কঠোর নিয়ম এসব শিক্ষার্থীদের ওপর বহুমুখী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ চার বছর হওয়ায় মাস্টার্স ও পিএইডি শিক্ষার্থীরা বেশি চাপে পড়বেন।

স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে এই কোর্স সম্পন্ন করতে ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে চার বছর পর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও গবেষণার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কাজের জন্য ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ এর সুবিধা পেলেও নতুন নিয়মে এর অনুমোদন আরো জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন কিংবা ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ সীমিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা খর্ব করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইডি অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাজরীন ইসলাম তন্বী বলেন, ভিসার এই নতুন নিয়ম আমাদের চরম মানসিক ট্রমায় ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স কিংবা পিএইডি সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে। কারণ ল্যাবভিত্তিক গবেষণা, থিসিস পেপার সাবমিশন বা ফিল্ডওয়ার্কের কারণে পড়াশোনা শেষ করতেই চার বছরের বেশি সময় লেগে যায়। এত দিন ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ থাকার কারণে ভিসা নিয়ে আমাদের বাড়তি কোনো চিন্তা করতে হতো না, পুরো মনোযোগটা গবেষণায় দেওয়া যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে চার বছর পর যখনই আমাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হবে, তখন ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিস আর কোনো সাহায্য করতে পারবে না। আমাদের সরাসরি অভিবাসন সংস্থার কাছে আবেদন করতে হবে। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভরা।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা হলো, যদি কোনো কারণে ভিসার  মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বাতিল হয়ে যায়, তবে মাঝপথে পড়াশোনা ও এত দিনের কষ্ট সব ভেস্তে যাবে। এই অনিশ্চয়তা মাথার ওপর ঝুলতে থাকলে কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষেই গবেষণায় শতভাগ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব না।

উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোকে বিকল্প হিসেবে ভাবছেন। যেখানে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ বা পিআর (স্থায়ী আবাসন) পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এন্ট্রিএব্রড এর স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ভিসা জটিলতা ও নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আর শিক্ষার্থীরাও এসব ঝুঁকি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আমরা ইউরোপের বাজারের দিকে গুরুত্ব বাড়াচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, এটা আমাদের জন্য ভালো কোনো খবর না। ভিসা নিয়ম কঠিন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী হবে না। কারণ সবাই তো লেখাপড়া শেষ করে আরেকটু সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই বিদেশে যায়। সেই সুযোগ না থাকলে অবশ্যই হতাশা কাজ করবে। এই ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। নতুন বাস্তবতার আলোকেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকে যাবে। যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকেই চীনে যাওয়া শুরু করছেন। তবে এটা কোনো সমাধান নয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো ভালো করে ঢেলে সাজাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠিন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য ‘ব্লেসিং ইন ডিসগাইস’ (ছদ্মবেশে আশীর্বাদ) হতে পারে, যদি আমাদের নীতিনির্ধারকরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো ভালো কীভাবে করা যায় তার ওপরে নজর দেন।

বাংলাদেশে শিক্ষা বাজেট দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম উল্লেখ করে সাবেক এই অধ্যাপক আরো বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দের দিক থেকে এই অঞ্চলে আমরা সবার পেছনে, যেখানে নেপাল-মালদ্বীপ অনেক এগিয়ে আছে। আর যা  বরাদ্দ দেওয়া হয় তার বেশির ভাগই শিক্ষকের বেতনের পেছনে খরচ হয়। সেখানে গবেষণা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের জন্য কিছুই থাকে না। এজন্য বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণার মান বৃদ্ধিতে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক

পরিদর্শনে গিয়ে এমপির ক্ষোভ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক
পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ১৭২নং শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭ জন। অথচ তার বিপরীতে পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। আজ রবিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয়টিতে এমন চিত্র দেখতে পান কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন। এ সময় বিদ্যালয়ের এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষগুলো ঘুরে দেখেন। পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পেলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কক্ষ পুরোটাই ফাঁকা দেখতে পান। এদিন মোট ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৭১ জন। অপরদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬ জন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

পরিদর্শনকালে এমপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদ হোসেন এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়টির দুরবস্থার খবর পেয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যাই। পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্র-শিক্ষকের যে উপস্থিতি দেখতে পেলাম তা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করা হবে এবং অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন : ছাত্রদল সভাপতি

জবি প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন : ছাত্রদল সভাপতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, জুলাই শত বছরে একবার আসে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায়। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে ধরে রাখতে হবে। 

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘স্মরণে জুলাই, ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি সবার কাছে একেক রকম। কিন্তু এই আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আরো বেশি আলোচনা ও স্মরণমূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু ৩৬ দিনের নয়, এটি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শক্তির পতন সম্ভব হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

হিমেল আরো বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই। এর প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নিয়মিত আলোচনা, গবেষণা ও স্মরণমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন। এ ছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দীন বাসিত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকারের সাবেক সভাপতি এ কে এম রাকিব, ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ, জকসুর প্রতিনিধি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক নুর নবী, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লাসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হলেন যারা | কালের কণ্ঠ