ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে একই হলের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, নারী অতিথিরা ওয়াশরুমে থাকায় বাধা দেওয়া নিয়ে ২ জনের মধ্যে কেবল উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ওঠায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।
রবিবার (২০ জুলাই) রাত ১২টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের গেস্টরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আহমেদ শাহরিয়ার নীড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অন্যদিকে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর বিচার চেয়ে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নীড়।
লিখিত অভিযোগে আহমেদ শাহরিয়ার নীড় উল্লেখ করেন, ‘তিনি গেস্টরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গেলে মাহফুজ তাকে বাধা দেন এবং অন্য ওয়াশরুম ব্যবহার করতে বলেন। অন্যগুলো তালাবদ্ধ থাকায় তিনি ফিরে এলে মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাহফুজ তাকে বলেন, ‘তুই আজকে সারা রাত মুতবি না। এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি। আমি তোর সিনিয়র, আমি তোর বাপ।’ এ ছাড়া তাকে রুমে গিয়ে ‘গেস্টরুম’ করার হুমকি দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মাহফুজ। নীড়ের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
মারধরের অভিযোগ ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আবদুল্লাহ আল মাহফুজ। তিনি বলেন, রবিবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে ক্যাম্পাসের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী গেটম্যানের অনুমতি নিয়ে হলপাড়ায় আসেন। তারা ওই ওয়াশরুমটি ব্যবহার করছিলেন। এ সময় নীড় তাড়াহুড়ো করে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি জোর করে ভেতরে যেতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে মাহফুজ বলেন, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরদিন ভোরে কয়েকজন তার কক্ষে গিয়ে মারধরের চেষ্টাও করে। প্রকৃত ঘটনা জানতে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানান।
ঘটনার আংশিক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে রাশেদ নামে এক শিক্ষার্থী হলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে জানান, তিনি অভিযুক্ত মাহফুজকে গালাগাল ও হুমকি দিতে শুনেছেন। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী জানান, তারা অনুমতি নিয়ে ওয়াশরুম ব্যবহার করার সময় এক শিক্ষার্থী জোর করে প্রবেশ করতে চান। অপেক্ষা করতে বললে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন, যা থেকে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোয় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান এবং প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা বলেন।
অভিযুক্ত মাহফুজের বিষয়ে ঢাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন, ‘মাহফুজের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ডাকসু নির্বাচনের সময় তিনি সাদিক কায়েমকে সমর্থন করেছিলেন মাত্র।’ ছাত্রশিবির সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সার্বিক বিষয়ে বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৪-৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শব্দ না থাকায় এবং ঘটনার কিছু অংশ ওয়াশরুমের ভেতরে ঘটায় তা দেখে পুরো ঘটনার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করবে।





.jpg)