• ই-পেপার

মৃত্যুপরবর্তী পুনর্জীবন নিয়ে বিজ্ঞান যা বলে

ধন-সম্পদ কেন প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ধন-সম্পদ কেন প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়?
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে সম্পদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। অর্থের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, জীবনযাত্রা সহজ হয় এবং সমাজে নানা কল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব হয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন যুগে যুগে মানুষকে ভাবিয়েছে—অঢেল সম্পদ কি সত্যিই মানুষের হৃদয়ে শান্তি ও প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারে? বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর বহু ধনকুবের ব্যক্তি অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও মানসিক অশান্তি, উদ্বেগ, হতাশা ও একাকীত্বে ভুগেছেন। অন্যদিকে, সীমিত সম্পদের অধিকারী অসংখ্য মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান, সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার কারণে প্রশান্ত জীবন কাটিয়েছেন।

তাই সম্পদ সুখের উৎস নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। প্রকৃত সুখ নিহিত রয়েছে ঈমান, তাকওয়া, আল্লাহর স্মরণ, সন্তুষ্টি এবং পরকালের সফলতার মধ্যে। তাই সম্পদকে লক্ষ্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই মুমিনের কর্তব্য। 

১. সম্পদ মানুষের অন্তরের প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারে না
অর্থ দিয়ে বাড়ি, গাড়ি, বিলাসিতা কেনা যায়; কিন্তু হৃদয়ের প্রশান্তি কেনা যায় না। মানুষের অন্তরের শান্তি একমাত্র আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, প্রকৃত মানসিক শান্তি সম্পদে নয়; বরং আল্লাহর জিকির ও তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেই নিহিত।

২. সম্পদ দুনিয়াবি পরীক্ষার একটি মাধ্যম
অনেকে মনে করেন সম্পদ মানেই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। অথচ কোরআন জানিয়ে দেয়, সম্পদ ও সন্তান উভয়ই মানুষের জন্য পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তো কেবল পরীক্ষা; আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১৫)
অর্থাৎ সম্পদ মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তীও করতে পারে, আবার গাফেলও করে দিতে পারে।

৩. সম্পদের মোহ মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়
যখন সম্পদই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে যায়, তখন মানুষ ইবাদত, নৈতিকতা ও পরকালের কথা ভুলে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফেল করে রেখেছে।’ (সুরা : তাকাসুর, আয়াত : ১)
এ কারণেই সম্পদ কখনো কখনো সুখের পরিবর্তে অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা ও হিংসার জন্ম দেয়।

৪. সম্পদ মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না
মানুষ যত ধনীই হোক, মৃত্যু তার অনিবার্য পরিণতি। মৃত্যুর সময় ধন-সম্পদ কোনো উপকারে আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে এল না। আমার ক্ষমতাও বিলুপ্ত হয়ে গেল।’ (সুরা : হাক্কাহ, আয়াত : ২৮–২৯)
এ আয়াত কিয়ামতের দিন ধন-সম্পদের অসহায়ত্বের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

৫. সম্পদের লোভ মানুষের অশান্তি বাড়ায়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি আদম সন্তানের জন্য স্বর্ণে পরিপূর্ণ একটি উপত্যকা থাকে, তবে সে আরেকটি উপত্যকা কামনা করবে। আর তার মুখ মাটি ছাড়া অন্য কিছু পূর্ণ করবে না। তবে যে তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৩৯)
এ হাদিস প্রমাণ করে, সম্পদের লোভের কোনো শেষ নেই। লোভ যত বাড়ে, সুখ তত কমে।

৬. প্রকৃত ধনী সেই, যার অন্তর তৃপ্ত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ধন-সম্পদের আধিক্যই প্রকৃত ধন নয়; বরং প্রকৃত ধনী হলো অন্তরের প্রাচুর্যের অধিকারী ব্যক্তি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৫১)
অন্তরের তৃপ্তিই প্রকৃত সুখের ভিত্তি। যার অন্তরে সন্তুষ্টি আছে, সে অল্প সম্পদেও সুখী।

৭. সম্পদ মানুষকে অহংকারে নিমজ্জিত করতে পারে
কোরআনে কারূনের ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সম্পদের অহংকার মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। কারূন তার বিপুল ধন-সম্পদের কারণে অহংকারী হয়ে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে তার ধন-সম্পদসহ ভূগর্ভে ধসিয়ে দেন।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৬–৮২)
এ ঘটনা প্রমাণ করে, সম্পদ যদি বিনয় ও কৃতজ্ঞতা না বাড়ায়, তবে তা মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।

৮. আল্লাহর সন্তুষ্টিই প্রকৃত সুখের উৎস
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম করবে—পুরুষ হোক বা নারী—আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)
এখানে ‘পবিত্র জীবন’ বলতে অন্তরের প্রশান্তি, সন্তুষ্টি, বরকতপূর্ণ জীবন এবং পরকালের সফলতা বোঝানো হয়েছে।

সম্পদকে প্রকৃত সুখের মাধ্যম বানানোর উপায় 

১. হালাল উপায়ে উপার্জন করা।
২. জাকাত ও সদকা আদায় করা।
৩. আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের হক আদায় করা।
৪. অপচয় ও অহংকার থেকে বিরত থাকা।
৫. সম্পদের ওপর নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
৬. দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের সফলতাকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানানো।

শেষকথা, ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ নিজে ভালো বা মন্দ নয়; বরং এর ব্যবহারই মানুষের সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে। অর্থ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে, কিন্তু অন্তরের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। প্রকৃত সুখ কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রাসাদ কিংবা বিলাসবহুল জীবনে নয়; বরং আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর স্মরণ, তাকওয়া, সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা এবং সৎকর্মময় জীবনের মধ্যেই নিহিত। তাই একজন মুমিনের উচিত সম্পদকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য না বানিয়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি আমানত হিসেবে ব্যবহার করা। কারণ দুনিয়ার সম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষকে চিরস্থায়ী সুখ ও সফলতার ঠিকানায় পৌঁছে দেবে। ইনশাআল্লাহ।  

আখেরাতে সফল হওয়ার পাঁচ উপায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আখেরাতে সফল হওয়ার পাঁচ উপায়
সংগৃহীত ছবি

জীবনকে সুন্দর, সফল ও বরকতময় করতে মানুষ নানা উপায় খুঁজে বেড়ায়। অথচ ইসলাম আমাদের এমন কিছু মৌলিক নীতিমালা শিক্ষা দিয়েছে, যা মেনে চললে দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জগতেই কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে চলতে পারলে মানুষের ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন এবং পরকাল—সবই আলোকিত হয়ে ওঠে। 

১. লোকচক্ষুর আড়ালে নিজের জীবনকে সুন্দর করা
মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোপনে নিজেকে সংশোধন করা উচিত। যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে ভয় করে, পাপ থেকে বেঁচে থাকে এবং গোপনে নেক আমল করে, আল্লাহ তার প্রকাশ্য জীবনকে সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের চেহারা বা দেহের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

২. আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা
যখন একজন বান্দা তার রবের সঙ্গে সম্পর্ককে মজবুত করে—নামাজ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও তাকওয়ার মাধ্যমে—তখন আল্লাহ মানুষের হৃদয়ে তার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কও সহজ করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা : তালাক,  আয়াত ২–৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি আল্লাহর বিধান সংরক্ষণ কর; আল্লাহ তোমাকে সংরক্ষণ করবেন।’ (তিরমিজি : হাদিস : ২৫১৬)

৩. আখেরাতের প্রস্তুতি নেয়া 
যে ব্যক্তি আখেরাতকে তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানায়, আল্লাহ তার দুনিয়ার প্রয়োজনগুলোও সহজ করে দেন। কারণ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আর আখেরাতই চিরস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আখেরাতই উত্তম এবং অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার প্রধান চিন্তা আখেরাত, আল্লাহ তার অন্তরে প্রাচুর্য দান করেন, তার কাজগুলো গুছিয়ে দেন এবং দুনিয়া তার কাছে অনুগত হয়ে আসে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬৫)

৪. আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনকে প্রাধান্য দেয়া
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যদি দুনিয়ার কিছু স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়, তবে সেটিই প্রকৃত লাভ। কারণ দুনিয়ার ক্ষতি পূরণ হতে পারে, কিন্তু আখেরাতের ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা চিরস্থায়ী।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৬)

৫. আখেরাতকে মূল লক্ষ্য বানানো 
দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য ইমান, সততা ও নেক আমল বিসর্জন দেওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে সাময়িক সুখের চেয়ে চিরস্থায়ী মুক্তিকে বেছে নেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন তো অতি সামান্য ভোগসামগ্রী।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৩৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৫৬)

জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়; বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক, আন্তরিক ইবাদত, বিশুদ্ধ চরিত্র এবং আখেরাতমুখী জীবনবোধে। যে ব্যক্তি গোপনে নিজেকে সংশোধন করে, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভের চেয়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী সফলতাকে প্রাধান্য দেয়, সে-ই প্রকৃত সফল মানুষ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই পাঁচটি উপায় আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

যে ছয় শ্রেণির মানুষ শয়তানের বন্ধু

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে ছয় শ্রেণির মানুষ শয়তানের বন্ধু
সংগৃহীত ছবি

শয়তান মানবজাতির চিরশত্রু। পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে তার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তাকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব, তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৬)

শয়তানের এ শত্রুতা আজকের নয়; মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই তার বিদ্বেষের সূচনা। আল্লাহ তাআলা যখন হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের সিজদার নির্দেশ দিলেন, তখন ইবলিস অহংকারে সেই আদেশ অমান্য করল। (সুরা : সাদ, আয়াত : ৭১-৭৪)

এরপর ইবলিস প্রতিজ্ঞা করল, ‘আপনার ইজ্জতের শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব, তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের ব্যতীত।’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ৮২-৮৩)

এ থেকে স্পষ্ট হয়, শয়তান আল্লাহর বান্দাদের বিভ্রান্ত করার জন্য সর্বদা তৎপর। এর মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার কারণে হয়তো শতভাগ তার চক্রান্ত সফল হবে না। কিন্তু বহু মানুষ তাদের কর্ম ও চরিত্রের কারণে শয়তান তাদের বন্ধু, সহচর কিংবা ভাইয়ে পরিণত হবে। নিম্নে এ রকম কিছু মানুষের কথা তুলে ধরা হলো—
১. আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ ব্যক্তিরা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রহমানের জিকির থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি; অতঃপর সে হয় তার সহচর।’ (সুরা : জুখরুফ : আয়াত : ৩৬)

আল্লাহর স্মরণই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ নিরাপত্তা। জিকির শুধু জিহ্বার তাসবিহ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর বিধানকে সঙ্গী করাই প্রকৃত জিকির। মানুষ যখন এই স্মরণ থেকে দূরে সরে যায়, আল্লাহর বিধান মানে না, তখন শয়তান তার হৃদয়ে আধিপত্য বিস্তার করে এবং তার সহচর হয়ে যায়।

২. যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে বিশ্বাস করে না : যারা ঈমান গ্রহণ করে না, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি শয়তানদের তাদের বন্ধু বানিয়েছি, যারা ঈমান আনে না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২৭)

আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন, ‘যারা কুফরি করে, তাদের বন্ধু হলো তাগুত (শয়তান বা বাতিল শক্তি)। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৫৭)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না—যাদের সহচর শয়তান, সে কতই না নিকৃষ্ট সঙ্গী।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৮)

৩. লোক-দেখানো দাতা : যারা লোক-দেখানোর জন্য সম্পদ খরচ করে শয়তান তাদের সঙ্গী হয়। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা লোক-দেখানোর উদ্দেশ্যে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে... (তারা শয়তানের সঙ্গী)। আর শয়তান যার সহচর (সঙ্গী) হয়, সে কতই না নিকৃষ্ট সহচর।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৮)

৪. অপব্যয়কারীরা : ইসলাম অপচয়কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সম্পদ আল্লাহর আমানত। তাই বাজে খরচ ও অপচয়কে কোরআন শয়তানের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই, আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭)

এখানে শুধু বন্ধু নয়, অপব্যয়কারীদের শয়তানের ভাই বলা হয়েছে, যা বিষয়টির গুরুতরতা আরো স্পষ্ট করে।

৫. মুনাফিক : মুখে ঈমানের দাবি করলেও অন্তরে কুফরি ও মুসলমানদের ক্ষতি করার চিন্তা যারা লালন করে, তারা মূলত শয়তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। তাদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা যখন আড়ালে তাদের প্রধান শয়তানদের (কুচক্রী নেতাদের) সঙ্গে মিলিত হয়, তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই আছি।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৪)

৬. পাপে অন্ধ ব্যক্তি : যারা পাপের কারণে অন্ধ হয়ে যায়, আল্লাহ তাদের জন্য শয়তানকে স্থায়ী সঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য কিছু সহচর (শয়তান) নির্ধারিত করে দিয়েছিলাম, যারা তাদের অতীত ও ভবিষ্যেক তাদের সামনে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল...।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৯ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৯ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার বার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৩ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৪ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৮ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।