• ই-পেপার

স্বজনহারা মানুষের প্রতি মহানবী (সা.)-এর সান্ত্বনা

ডিজিটাল যুগে যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ডিজিটাল যুগে যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা

আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে পৃথিবী যেন একটি ছোট্ট স্ক্রিনে বন্দি। হাতে একটি স্মার্টফোন, সামনে অসীম এক ভার্চুয়াল জগৎ। এক ক্লিকে মানুষ পৌঁছে যাচ্ছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। যোগাযোগ সহজ হয়েছে, জ্ঞান অর্জনের পথ বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির ঝলমলে আলোর আড়ালে নীরবে জন্ম নিচ্ছে এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়ের, যা মূলত নৈতিকতা ও লজ্জাশীলতার অপমৃত্যু। তথাকথিত আধুনিকার যুগে বেহায়াপনা আর লজ্জার বিষয় নয়; বরং অনেকের কাছে এটি প্রগতি, আধুনিকতা, এমনকি নিজেকে বিকশিত করার নাম। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো মানুষ পাপ করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে, যেখানে গুনাহকে আর গুনাহ বলেও মনে হচ্ছে না।

ইসলাম লজ্জাশীলতাকে শুধু একটি নৈতিক গুণ হিসেবে শেখায়নি; বরং এটিকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম, হাদিস : ৩৫) 
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, প্রত্যেক দ্বিনের একটি স্বতন্ত্র চরিত্র আছে; ইসলামের চরিত্র হলো লজ্জাশীলতা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৮১) 

লজ্জাশীলতার উপকারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, লজ্জাশীলতা সর্বদা কল্যাণ বয়ে আনে। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৭)

এই হাদিসগুলো আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে লজ্জাশীলতা দুর্বল হয়, সেখানে ঈমানও দুর্বল হতে শুরু করে। লজ্জাশীলতা মানুষের অন্তরের এমন এক আলোকবর্তিকা, যা তাকে ঈমান, পবিত্রতা ও সততার পথে পরিচালিত করে। এটি বিবেকের নীরব প্রহরী, যার উপস্থিতিতে মানুষ পাপের দ্বারপ্রান্তে এসেও ফিরে দাঁড়ায়। তাই যার হৃদয়ে হায়ার দীপ্তি যত উজ্জ্বল, অন্যায় ও অশ্লীলতার প্রতি তার সংকোচ তত গভীর। কিন্তু যখন হায়া চলে যায়, তখন আর কোনো বাঁধ অবশিষ্ট থাকে না। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন যা ইচ্ছা তাই করবে। (বুখারি, হাদিস : ৬১২০)

আজকের ডিজিটাল সমাজ যেন এই হাদিসের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। মুসলিম সমাজের ঘর থেকে ঘরে এটি পাপের সুনামি বইয়ে দিচ্ছে। কারণ ভার্চুয়াল জগতের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এখানে মানুষ নিজেকে অদৃশ্য ভাবতে শুরু করে। মনে হয়, 'আমি তো একা', 'কেউ তো দেখছে না', 'এটা তো শুধু অনলাইন।' কিন্তু একজন মুমিনের জন্য এই ভাবনা কত বড় আত্মপ্রবঞ্চনা! অথচ আল্লাহ সবকিছু দেখেন। তাঁর নজর এড়িয়ে কোনো কিছু করাই সম্ভব নয়। আমাদের দুই কাঁধে নিয়োজিত ফেরেশতারা আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডই লিখে রাখেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন বিষয়ও তিনি জানেন। (সুরা : গাফির, আয়াত : ১৯)

স্ক্রিনের সামনে বসে মানুষ কী দেখছে, কোন ছবিতে দৃষ্টি থামছে, কার সঙ্গে কী কথোপকথন চলছে-সবই ডেটা বেইসে থেকে যায়। এআই অ্যালগরিদম, তার প্রতিটি গতিবিধি অনুসরণ করে তার মানসিকতা ও চাহিদা সম্পর্কে জেনে রাখে-যাতে তাকে সে হিসেবে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়। সেখানে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র অধিপতি প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে তো সবকিছু আরো বেশি স্পষ্ট। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় লজ্জাশীলতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তিন জায়গায়-চোখে, কথায় ও আঙুলে। চোখ হারামের দিকে ছুটে যায়, কথা শালীনতা হারায়, আঙুল এমন বার্তা লিখে ফেলে, যা মুখে উচ্চারণ করা লজ্জাজনক ছিল। আল্লাহ বলেন, 'মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।' (সুরা : নুর, আয়াত : ৩০)

বর্তমান যুগে এই আয়াত শুধু রাস্তা বা বাজারের জন্য প্রযোজ্য নয়: বরং মোবাইল স্ক্রিন, ভিডিও ফিড এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি স্কুলের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। মানুষের অন্তরকে হেদায়েতের আলোয় আলোকিত রাখতে হলে তাকে সব ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্র রাখতে হবে। মানুষের যেসব অঙ্গের মাধ্যমে তার ঈমান-আমল ও অন্তর কলুষিত হয়, সব অঙ্গের ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। যার অন্যতম মাধ্যম হলো লজ্জাশীলতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পর্দাকারী; তিনি লজ্জাশীলতা ও পর্দা ভালোবাসেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০১২) 

যে আল্লাহ লজ্জাশীলকে ভালোবাসেন, তাঁর বান্দা কিভাবে নির্লজ্জতাকে নিজের পরিচয় বানায়?
আমাদের স্মরণ রাখা উচিত ভার্চুয়াল জগতে করা প্রতিটি কাজ রেকর্ড হচ্ছে। শুধু প্রযুক্তির ডেটা বেইসে নয়, আমলনামায়ও। আল্লাহ বলেন, 'মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রহরী প্রস্তুত রয়েছে।' (সুরা : কাফ, আয়াত : ১৮)

আজ যে কমেন্ট লিখছেন, যে মেসেজ পাঠাচ্ছেন, যে ভিডিও দেখছেন, কিয়ামতের দিন সেগুলোই আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারে। ভার্চুয়াল জগৎ ক্ষণস্থায়ী, যা কিছু সময়ের ট্রেন্ড, তা একসময় হারিয়ে যায়। আজকের ভাইরাল পোস্ট আগামীকাল বিস্মৃত হয়। কিন্তু গুনাহের দাগ হৃদয়ে থেকে যায়, আমলনামায় থেকে যায়, যতক্ষণ না বান্দা সত্যিকারের তাওবা করে।

ভার্চুয়াল যুগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে মানুষ নিজের অজান্তেই অনেক জঘন্য কাজের অংশীদার হয়ে যায়, যার পরিণাম ভয়াবহ। যেমন-এখানে মানুষ মজার ছলে এমন অনেক কিছু শেয়ার করে বসে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর বা পরোক্ষভাবে অশ্লীলতার প্রচার। অথচ বিনোদনের নামেও অশ্লীলতা প্রচার করার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।' (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯) 

লজ্জাশীলতা রক্ষা করা এখন আর শুধু পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজেদের প্রোফাইলে, পোস্টে, কমেন্টে, ইনবক্সে, এমনকি স্ক্রিনের সামনে একাকী মুহূর্তেও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার এই অদৃশ্য ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যেভাবে তাঁর দিকে আহ্বান করেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যেভাবে তাঁর দিকে আহ্বান করেন
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি আবু জর জুনদুব ইবনে জুনাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন। মহান রব বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, আমি জুলুমকে আমার নিজের জন্য হারাম করে দিয়েছি, তাই আমি জুলুমকে তোমাদের জন্যও হারাম করে দিলাম। সুতরাং তোমরা পরস্পর জুলুম কোরো না।’ ‘হে আমার বান্দারা, যাকে আমি হিদায়াত দিয়েছি, তারা ব্যতীত তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট। সুতরাং তোমরা আমার কাছে সঠিক পথ কামনা করো। আমি তোমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করব।’ ‘হে আমার বান্দারা, আমি যাদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করি, তারা ব্যতীত তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে আহার চাও, আমি তোমাদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করে দেব।’

‘হে আমার বান্দারা, আমি যাকে বস্ত্র দান করেছি, সে ব্যতীত তোমরা সকলেই বস্ত্রহীন, সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র চাও। আমি তোমাদের বস্ত্র দান করব।’ ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা দিন-রাত গুনাহ করে থাকো, আর আমি সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে থাকি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেব।’ ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা কখনো আমার অপকার-উপকার কোনো কিছুই করতে পারবে না।’ ‘হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের আগে-পরের মানুষ ও জিনজাতির সকলের অন্তর নেককার ব্যক্তির অন্তরের মতো হয়ে যায়, তবুও এতে আমার রাজত্বের কোনো কিছু বৃদ্ধি করতে পারবে না।’ ‘হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের আগে-পরের মানুষ ও জিনজাতির সকলের অন্তর বদকার ব্যক্তির অন্তরের মতো হয়ে যায়, তবুও এতে আমার রাজত্বের কোনো হ্রাস করতে পারবে না।’

‘হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের আগে-পরের মানুষ ও জিনজাতির সবাই কোনো বিশাল ময়দানে একত্রিত হয়ে আমার কাছে কোনো কিছু চাও, আর আমি যদি তা দান করি, তাহলে তা আমার বিশাল ভাণ্ডার থেকে ততটুকুই কমতি হবে, যতটুকু হ্রাস পেয়ে থাকে কোনো সমুদ্রে সুঁই ডুবিয়ে পানি উঠালে।’ ‘হে আমার বান্দারা, আমি তোমাদের আমলসমূহ গণনা করে রাখছি, আমি তোমাদের তার পূর্ণ সাওয়াব দান করব।’ সুতরাং যে কল্যাণ লাভ করে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি অকল্যাণ লাভ করে, সে যেন নিজেকে তিরস্কার করে। এই হাদিসের অন্য একজন বর্ণনাকারী আবু ইদরিস (রহ.) যখন এই হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন হাঁটুগেড়ে বসে যেতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৫৭২, মুসনাদে আহমাদ, ২১৪২০)।

ইউরোপে প্রথমবারের মতো যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে স্বতন্ত্র ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অনুষদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইউরোপে প্রথমবারের মতো যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে স্বতন্ত্র ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অনুষদ
জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়।

জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৭ সালে তা উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইসলামিক থিওলজির পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ব বিভাগকে একই স্থানে আনা হবে। ২০২১ সাল থেকে পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচ ভেলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

নবগঠিত অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ১৫ বছরের কাজের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, এই অর্জন তাকে গভীর কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামের একটি উদার, আলোকিত ও মুক্তমনা ব্যাখ্যার পক্ষে কাজ করতে চাই। তার মতে, এই অনুষদের প্রভাব শুধু ইউরোপেই নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বেও পড়বে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজির প্রধান ছিলেন খোরশিদে। নতুন অনুষদ হওয়ায় এখন ইসলামিক থিওলজি নিজস্বভাবে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে এবং গবেষণা তহবিল সংগ্রহও সহজ হবে। আশা করা হচ্ছে, এই নতুন মর্যাদার ফলে তৃতীয় পক্ষের গবেষণা তহবিল সংগ্রহ করাও সহজতর হবে।

২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেন্দ্রটিতে বর্তমানে আটজন অধ্যাপক ও ৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন। আগামী কয়েক বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন খোরশিদে।

জার্মানির বিভিন্ন সরকারি স্কুলে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা চালু হওয়ায় যোগ্য শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় প্রায় ৩ হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৩৩০ জন।

২০২৭ সাল থেকে ইসলাম ও সমাজকর্ম নামে একটি স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান খোরশিদে। তিনি জানান এতে যুবসেবা, হাসপাতালের ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সামঞ্জস্য, কোরআনের সমকালীন ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চরমপন্থা, ইহুদি-বিদ্বেষ এবং ইসলামবাদের বিরোধিতার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোরশিদে বলেছেন, নতুন অনুষদের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে যে পরিমাণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। আফ্রিকা ও এশিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলের গণমাধ্যমগুলোও এই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিনি বিশেষভাবে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

খোরশিদে বলেন, মানুষ একটি মুক্তমনা ইসলামের আকাঙ্ক্ষা করে। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে জার্মানির সীমানা ছাড়িয়ে ইসলামের ভবিষ্যৎ বিকাশ সংক্রান্ত বৃহত্তর রূপ দিতে মুনস্টার সাহায্য করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ছাদের নিচে খ্রিস্টান ও ইসলামিক থিওলজিকে একত্রিত করার উদ্যোগের শক্তিশালী প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই পদক্ষেপকে একটি মাইলফলক খ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি ইউরোপজুড়ে একাডেমিক ধর্মতত্ত্বের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
 

জার্মানিতে উসমানী স্থাপত্যের শেহিতলিক জামে মসজিদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জার্মানিতে উসমানী স্থাপত্যের শেহিতলিক জামে মসজিদ
সংগৃহীত ছবি

আধুনিক ইউরোপের বুকে ইসলামী স্থাপত্যের এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম শেহিতলিক জামে মসজিদ। জার্মানির রাজধানী বার্লিনের নয়কোলন এলাকায় অবস্থিত এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি শুধু নামাজের স্থানই নয়, বরং ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ২০০৫ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া এই মসজিদটি পরিচালনা করছে তুর্কি ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স (DİTİB)। প্রখ্যাত স্থপতি হিলমি শেনাল্প উসমানীয় পুনর্জাগরণ শৈলীতে এর নকশা প্রণয়ন করেন। ১৬ ও ১৭ শতকের ধ্রুপদী আনাতোলিয়ান ও অটোমান স্থাপত্যের আদলে নির্মিত এই মসজিদটি আজ বার্লিনের অন্যতম দর্শনীয় ইসলামী স্থাপনা।

চারতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১,৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এর প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ২১.৩ মিটার এবং আকাশছোঁয়া দুটি মিনারের প্রতিটির উচ্চতা ৩৭.১ মিটার, যা দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মসজিদের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও সমানভাবে মুগ্ধকর। গম্বুজ ও দেয়ালজুড়ে সোনালি ক্যালিগ্রাফি, নীল ও লাল রঙের মনোরম অলংকরণ এবং রঙিন কাঁচের জানালা দিয়ে প্রবেশ করা প্রাকৃতিক আলোর সমন্বয়ে এক শান্ত, নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী শিল্পকলার নিখুঁত প্রকাশ এই মসজিদের প্রতিটি কোণেই ফুটে উঠেছে। শেহিতলিক মসজিদ শুধু একটি ইবাদতখানাই নয়; এর সঙ্গে রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, তথ্য ও সভাকেন্দ্র এবং একটি ক্যাফে। ফলে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তধর্মীয় সংলাপের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে পাশের ঐতিহাসিক শেহিতলিক তুর্কি কবরস্থান থেকে। ১৮৬৬ সালে কূটনৈতিক কবরস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই স্থানে তুর্কি ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সমাধি রয়েছে। তবে সেখানে আর্মেনীয় গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত চেমাল আজমি ও বাহাত্তিন শাকিরের কবর থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

১৯৯৯ সালে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ছয় বছরের নির্মাণকাজ শেষে ২০০৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তবে ২০১০ সালে মসজিদটি পরপর কয়েকবার অগ্নিসংযোগের হামলার শিকার হয়। পরে ২০১১ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাকে দুই বছর নয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

শেহিতলিক জামে মসজিদ শুধু জার্মানিতে বসবাসরত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্রই নয়; বরং ইউরোপে ইসলামী স্থাপত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবেও সুপরিচিত। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থী প্রতিবছর এই মনোমুগ্ধকর স্থাপনাটি দেখতে বার্লিনে ছুটে আসেন।

স্বজনহারা মানুষের প্রতি মহানবী (সা.)-এর সান্ত্বনা | কালের কণ্ঠ