চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ওরফে ইরা মনিকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যার মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারায় বাবু শেখের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে শিশু ইরা মনির পরিবার।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ইরাকে মনিকে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় নিয়ে যান আসামি। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করার পর শিশুটি চিৎকার করলে তাকে ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। পরে রক্তাক্ত ও গলা কাটা অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে বের হয়ে আসার সময় নির্মাণশ্রমিকদের চোখে পড়ে শিশুটি। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ গঠন করা হয় ১৮ জুন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২১ জুন থেকে।
মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ে পর্যায়ে আসে।
নিহত জান্নাতুন নাঈম ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।
আসামি বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন।









