• ই-পেপার

জুনের পর জুলাইও ভয়ংকর ইউক্রেনে

চিলিতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক
চিলিতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প
ছবি : রয়টার্স

চিলির আন্তোফাগাস্তা শহরে সোমবার (২৭ জুন) ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি)। 

ইএমএসসি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯৩ কিলোমিটার গভীরে।

তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।  পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অস্ত্রসংকটের খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, বললেন ইরানের মজুদ ফুরাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
অস্ত্রসংকটের খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, বললেন ইরানের মজুদ ফুরাচ্ছে
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে টানা সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে যাচ্ছে—এমন খবর নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি গোলাবারুদ আছে। আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি মজুদ রয়েছে।’ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ চাপের মুখে পড়েছে—এমন প্রতিবেদনও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের কয়েকটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বিশেষভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএম-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পর্যবেক্ষণ করছেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডসহ সামরিক নেতৃত্ব মনে করছে, বর্তমানে এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তারা আরো বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতার ওপর আগাম হামলা বাড়ানো হলে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন কমতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদের ঘাটতি কোনো সমস্যা নয়। তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে দেশটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, অস্ত্রের সংকটে বরং ইরানই বেশি সমস্যায় পড়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের অস্ত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে। হামলা চালানোর জায়গাও কমে যাচ্ছে। কারণ তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অস্ত্রের মজুদ নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেন। একটি ছবিতে যুদ্ধবিমানকে ইরানের প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘খার্গে হামলা’। আরেকটি ছবিতে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ দেখা যায়, যেগুলোকে ইরানি তেলবাহী জাহাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'এখন এটি আমাদের তেলবাহী জাহাজ!' আরেকটি ছবিতে একটি ইরানি জাহাজ বিস্ফোরিত অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, 'আর কোনো ইঞ্জিন নেই।'

অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার প্রশাসন তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতে চায়। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রভাব নিয়ে দেশটির ভেতরে আলোচনা ও উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।

ইরান যুদ্ধে নিহত ৪ সেনার নাম তালিকা থেকে সরাল পেন্টাগন

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে নিহত ৪ সেনার নাম তালিকা থেকে সরাল পেন্টাগন
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিককালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার শুরু হওয়া সংঘর্ষে নিহত চার মার্কিন সেনার নাম পেন্টাগনের সরকারি ‘ইরান যুদ্ধ’ হতাহত তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা একটি নতুন বিভাগ তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সঠিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে কি না। বিশেষ করে ইরানের ওপর হামলা বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করার সময় ট্রাম্প প্রশাসন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কতটা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করছে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতের বিরোধিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার যুদ্ধ কীভাবে শেষ করতে চায়, সে বিষয়েও খুব কম তথ্য দিচ্ছে বলে সমালোচনা হচ্ছে। পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিসিএএস) নামের অনলাইন হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে এতদিন ইরান সংঘাতে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরকারি তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছিল।

তবে গত সপ্তাহে ওই সিস্টেম থেকে ইরান যুদ্ধের তালিকা সরিয়ে নেওয়া হয় চার নিহত সেনার নাম। একই সঙ্গে কয়েক ডজন আহত সেনার তথ্যও ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর রবিবার ওয়েবসাইটে ‘বিদেশি অভিযান’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়। সেখানে ওই চার নিহত সেনার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৭ জন আহত সেনার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। তবে এই ২০৭ জনের সবাই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে আহত হয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড প্রশ্নগুলো পেন্টাগনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তবে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে পেন্টাগনের মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ বলেন, অনলাইন তালিকায় হতাহতের সংখ্যা কমে যাওয়া যুদ্ধের প্রাণহানি লুকানোর কোনো চেষ্টা নয়। তিনি দাবি করেন, এটি কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সাময়িক তথ্যগত বিভ্রাটের কারণে হয়েছে। তার ভাষায়, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধে ১৮ জন নিহত এবং ৪৮২ জন আহত সেনার তথ্য দেখানো হচ্ছিল। তালিকায় বলা হয়েছিল, গত মাসে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির পর সংঘর্ষ আবার শুরু হলে চার সেনা নিহত হন। এর মধ্যে ১৭ জুলাই জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হন। পরদিন ইরাকের একটি ঘাঁটিতে ইরানের একটি ড্রোন বিস্ফোরণে আরেক সেনা নিহত হন।

জর্ডানে নিহত দুই সেনার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার সময় পেন্টাগন জানিয়েছিল, তারা ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহায়তা করছিলেন। অন্য দুই সেনার মৃত্যুর ক্ষেত্রে শুধু বলা হয়েছিল, তারা বিদেশি অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছিলেন। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান সামরিক সংঘাতে’ ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে পরদিন বুধবার পেন্টাগনের অনলাইন ব্যবস্থায় আবার সংখ্যা পরিবর্তন হয়ে ১৪ জন নিহত এবং ৪২০ জন আহত দেখানো হয়। একই সময়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বাস্তবে আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০০ জনের বেশি হতে পারে। সেদিন পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, হতাহতের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি ছিল একটি 'অস্থায়ী তথ্যগত বিঘ্ন'।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাতের প্রথম পর্যায়ে ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এরপর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিও হয়। তবে সেই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৭ জুলাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে ওমান উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলা নৌপথে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী পাল্টা হামলা শুরু করে। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। পেন্টাগনের নতুন ‘বিদেশি অভিযান’ বিভাগে বলা হয়েছে, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষের হতাহতের হিসাব সেখানে রাখা হচ্ছে।

নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পেন্টাগন সামরিক অভিযান ও হতাহতের বিষয়ে আগের তুলনায় কম তথ্য প্রকাশ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মে মাসের শুরুর পর থেকে পেন্টাগন যুদ্ধ নিয়ে আর কোনো নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেনি। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারাও সাংবাদিকদের সর্বশেষ হতাহতের তথ্য দেওয়া বন্ধ করেছেন। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের' তথ্য প্রকাশের মাধ্যমেই তারা স্বচ্ছতা বজায় রাখছেন। তাদের বক্তব্য, অনলাইন ব্যবস্থার সাময়িক সমস্যার কারণে তথ্যের পরিবর্তন হয়েছে, তবে হতাহত সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্ক উত্তেজনার মাঝেই চালু হচ্ছে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সেতু ‘গোর্ডি হাউ’

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের শুল্ক উত্তেজনার মাঝেই চালু হচ্ছে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সেতু ‘গোর্ডি হাউ’
ছবি : রয়টার্স

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহজ করতে নির্মিত ‘গোর্ডি হাউ’ আন্তর্জাতিক সেতুতে সোমবার (২৭ জুন) থেকে যান চলাচল শুরু হচ্ছে। নতুন এই সেতুটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসরে ফিতা কেটে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা বহু-বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেতুটির নাম রাখা হয়েছে কানাডার কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় গোর্ডি হাউ-এর নামে। 

তিনি ‘মিস্টার হকি’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট রেড উইংস দলের হয়ে খেলেছেন। মার্কিন পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কানাডার ৭০ শতাংশের বেশি রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এ কারণে ডেট্রয়েট সীমান্ত দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।

এতোদিন বড় বাণিজ্যিক ট্রাক চলাচলের জন্য প্রায় ১০০ বছর ধরে অ্যাম্বাসেডর ব্রিজই ছিল একমাত্র পথ। ব্যবসায়ীদের আশা, নতুন ছয় লেনের গোর্ডি হাউ সেতু পণ্য পরিবহন আরো দ্রুত ও কম খরচে সম্ভব করবে। ১.৫ মাইল (প্রায় ২.৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ এই সেতুর সর্বোচ্চ অংশ নদী থেকে ১৫১ ফুট (৪৬ মিটার) উঁচু। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বৈধ পরিচয়পত্রধারী পথচারী ও সাইকেল আরোহীরাও বিনামূল্যে সেতুটি ব্যবহার করতে পারবেন।

২০১৮ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে কাজ শেষ হতে কয়েক বছর বেশি সময় লাগে। কানাডা প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছে। দুই দেশের সাম্প্রতিক এক চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর কানাডা টোল আয়ের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর পর অন্টারিওতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও মিশিগানের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ বাতিল করা হয়।