• ই-পেপার

রাজবাড়ী-ফরিদপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

আবারও ডুবল ভবদহ

১৪০ কোটির প্রকল্পেও মিলল না মুক্তি, পানিবন্দি লাখো মানুষের দীর্ঘশ্বাস

মোহাম্মাদ বাবুল আকতার, মনিরামপুর (যশোর)
আবারও ডুবল ভবদহ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্ষা এলেই যেন একই আতঙ্ক ফিরে আসে ভবদহবাসীর জীবনে। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার দুঃসহ অভিজ্ঞতা বয়ে বেড়ানো মানুষ এবার আশায় বুক বেঁধেছিলেন—নদী খনন আর ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প হয়তো তাদের মুক্তি দেবে। কিন্তু সে আশায় বালি ঢেলে দিয়েছে চলতি জুলাইয়ের টানা বর্ষণ ও নিম্নচাপ।

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৫০টি গ্রাম আবারও পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার মাছের ঘের, পুকুর, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন। বসতবাড়ির আঙিনা ছাড়িয়ে অনেক ঘরে এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন।

মনিরামপুরের হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা প্রণব বিশ্বাস বলেন, ‘জুলাইয়ের মাঝারি ও ভারি বৃষ্টির পর থেকেই বিলের পানি দ্রুত বাড়ছে। নদী খননের কাজ চললেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভবদহের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান সুফল মেলেনি।

প্রকল্পের আওতায় হরিহর, হরি, তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর প্রায় ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। হরি ও তেলিগাতি নদীর ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার অংশে খনন শেষ হলেও কাটেনি সংকট।

ভবদহ স্লুইসগেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গেটের কপাটগুলো সচল নয়। সেচ দিতে বর্তমানে চারটি পাওয়ার পাম্প চালু রয়েছে, আরো পাঁচটি স্থাপনের কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পাম্প দিয়ে এত বিশাল এলাকার পানি নিষ্কাশন সম্ভব নয়।

জলাবদ্ধতায় অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, কপালিয়া; মনিরামপুরের আসানগর, কুশখালী, নেবুগাতি, কুলটিয়া, পাড়িয়ালীসহ অন্তত ৩০টি গ্রাম এবং কেশবপুরের কাঠবাঁধাল, আড়ুয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ডুবে গেছে ডুমুরতলা-বেদভিটা, বলারাবাদ ও আন্দা-ডুমুরতলা সড়ক। মশিয়াহাটি-সুন্দলী সড়কের অন্তত ১০টি স্থানে পানি উঠে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অভয়নগরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সত্যজিৎ বিশ্বাস আফসোস করে বলেন, ‘প্রতিবছর একই দুর্ভোগ, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও মিলল না।’

অন্যদিকে মনিরামপুরের হরিদাশকাট গ্রামের রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, ঘরবাড়ি, রাস্তা ও মাঠ ডুবে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার ৫৪টি বিলের পানি ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা) বন্ধ থাকায় নদীগুলোতে পলি জমে নাব্যতা হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ ‘আমডাঙ্গা খাল’ সংস্কার না হওয়া এবং খালের ওপর নির্মিত ত্রুটিপূর্ণ সেতুকে পানি প্রবাহের বড় বাধা হিসেবে দুষছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের দাবি, ইতিমধ্যে মাছের ঘের ও ফসলের অন্তত ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ জানান, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, নদীর পলি অপসারণ, টিআরএম চালু এবং পানিবন্দি মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ৪ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকল্প যেন দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে বাঁশের সাঁকো তৈরি এবং জরুরি ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের তিন বছরের মাথায় দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মনোজিত সরকারের বিরুদ্ধে। প্রথমদিকে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টাও করা হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে হত্যার সত্যতা। দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত স্বামী মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পুরো অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের ছয় স্বজন বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুতে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি মনোজিত। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল তিনি আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ এপ্রিল বিকেলে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং রমার পরিবারকে জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, এটি আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড।

এরপর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে মধুখালী থানার তৎকালীন এসআই মাহাবুল করিম ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঘটনার দিন সকালে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মেয়েকে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক এখনো সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি। তিনি বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বা হত্যা করলে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’

চিত্রা সেতুর উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ বারে মাথায় আঘাত, প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

নড়াইল প্রতিনিধি
চিত্রা সেতুর উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ বারে মাথায় আঘাত, প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
ছবি: কালের কণ্ঠ

নড়াইল শহরতলীর সীমাখালী এলাকায় চিত্রা সেতুতে ওঠার সময় উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ বারে মাথায় আঘাত লেগে মনির গাজী (৪৮) নামে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চিত্রা সেতু থেকে জেলা শহরের প্রবেশ মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনির গাজী লোহাগড়া উপজেলার কোলা গ্রামের রুকন গাজীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির বাড়ি থেকে নসিমনে করে যশোরের ভাংগুড়া গরুর হাটে যাচ্ছিলেন। পথে সীমাখালী এলাকায় চিত্রা সেতুতে ওঠার সময় সেতুর উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থাপন করা বারে তার মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘এ বিষয়ে নিহতের পরিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন। মরদেহ জেলা হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

অচেতন করে ৬ মাসে তিনবার চুরি, সর্বস্ব হারালেন বৃদ্ধ দম্পতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
অচেতন করে ৬ মাসে তিনবার চুরি, সর্বস্ব হারালেন বৃদ্ধ দম্পতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জলপাইতলা এলাকায় একই বৃদ্ধ দম্পতিকে চেতনানাশক খাইয়ে বা প্রয়োগ করে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিনবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ঘটনায় স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামালসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদ খোয়া গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

একই কায়দায় বারবার চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি হলেন জলপাইতলা এলাকার বাসিন্দা কৃষক আব্দুল আলী (৭০) ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম। তাদের পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এই দম্পতি একাই বাড়িতে বসবাস করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই আব্দুল আলী ও তার স্ত্রীর অস্বাভাবিক ঘুম পেতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ও ট্রাংক তছনছ করে সোনাদানা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

পরদিন সোমবার বিকেলে দীর্ঘ ঘুম শেষে আচ্ছন্ন অবস্থায় জেগে উঠে ঘরের আসবাব এলোমেলো দেখতে পান তারা। পরে ভাঙা গ্রিল ও ফাঁকা আলমারি দেখে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

কৃষক আব্দুল আলী বলেন, ‘সন্ধ্যার পরেই কেমন জানি ঝিমুনি আসছিল। তারপর আর কিছুই মনে নেই। দুপুরে ঘুম ভাঙলে দেখি জানালা ভাঙা, আলমারি খোলা—সব শেষ। ছয় মাসে তিনবার একই কায়দায় আমাদের সবকিছু লুট করে নিয়ে গেল।’

তার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘জীবনের শেষ সম্বলটুকুও চোরেরা নিয়ে গেল। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরেরা হয়তো খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে বা রাতে কৌশলে তা প্রয়োগ করে এই অপরাধ ঘটাচ্ছে। পরপর একই বাড়িতে এভাবে চুরি হওয়া কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

স্কুল শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরাধীরা বারবার একই কৌশল ব্যবহার করলেও রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে রাতে ঘুমানোর ভয় ঢুকে গেছে।

এদিকে শুধু এই একটি পরিবারই নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি তালা ভেঙে কিংবা অচেতন করে চুরির উপদ্রব বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাজাহান আলী জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।