• ই-পেপার

আবারও ডুবল ভবদহ

  • ১৪০ কোটির প্রকল্পেও মিলল না মুক্তি, পানিবন্দি লাখো মানুষের দীর্ঘশ্বাস

৬ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
৬ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীতে ৬ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে দুমকি উপজেলার ওই প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

গ্রেপ্তার ইব্রাহিম পটুয়াখালী সদর উপজেলার চারাবুনিয়া এলাকার নুরুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে। তিনি দুমকি উপজেলার পশ্চিম মুরাদিয়া মুহেব্বিয়া হাফিজিয়া ইলমুল কিরাত দ্বিনিয়া মাদরাসার শিক্ষক। 

যৌন নিপীড়নের শিকার ওই শিক্ষার্থীর (৬) বাড়ি দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের জামলা আবাসন প্রকল্প এলাকায়। এ ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে দুমকি থানায় মামলা করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৬টার দিকে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীম একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখান তিনি। ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে দুমকি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার মাদরাসা শিক্ষক ইব্রাহিম ওই শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করেছেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে। 

খুলনায় মুদি ব্যবসায়ী হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনা অফিস
খুলনায় মুদি ব্যবসায়ী হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

খুলনায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বটিয়াঘাটা উপজেলার মুদি ব্যবসায়ী রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় আদালত তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন খুরশিদ আলম, সালাম ও খায়রুল। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম জানান, বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে খুন হন ব্যবসায়ী রেজাউল শেখ। পৈতৃক সম্পত্তিতে দোকানঘর তোলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন ওইদিন সন্ধ্যায় ঝালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কলম বক্সের ছেলে আ. সালাম, সালাম শেখের দুই ছেলে মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার কালা বাবুর ছেলে এরশাদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পারিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আইনজীবী শান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় : পুলিশ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আইনজীবী শান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় : পুলিশ
সংগৃহীত ছবি

অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্তকে মতবিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন রাত ১০টা থেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধান আসামি মুরাদ আইনজীবী শান্তর সঙ্গে ছিলেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

এ ঘটনার পর রবিবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকা থেকে সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রধান আসামির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন শেখ মুরাদ, আবু তাহের দীপ, মো. হাফিজুর রহমান ও মো. শিপন শেখ। 

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা, হত্যার উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই গভীর রাতে আদালতের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত। রাত প্রায় ১টার দিকে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী গ্রামের তেঁতুলতলা মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। 

মৃত অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪২) বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমভাগ এলাকার মৃত তোরাফ হোসেনের ছেলে। তিনি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন।

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের তিন বছরের মাথায় দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মনোজিত সরকারের বিরুদ্ধে। প্রথমদিকে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টাও করা হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে হত্যার সত্যতা। দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত স্বামী মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পুরো অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের ছয় স্বজন বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুতে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি মনোজিত। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল তিনি আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ এপ্রিল বিকেলে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং রমার পরিবারকে জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, এটি আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড।

এরপর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে মধুখালী থানার তৎকালীন এসআই মাহাবুল করিম ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঘটনার দিন সকালে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মেয়েকে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক এখনো সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি। তিনি বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বা হত্যা করলে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’