• ই-পেপার

চরম আর্থিক সংকটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে রোনালদোর ক্লাব

৫ বছর পর কেন টেস্টে সৌম্য, ব্যাখ্যা দিলেন হাবিবুল

ক্রীড়া ডেস্ক
৫ বছর পর কেন টেস্টে সৌম্য, ব্যাখ্যা দিলেন হাবিবুল
অভিজ্ঞতার কারণেই সৌম্য আবারও টেস্ট দলে মনে করেন হাবিবুল। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাদা জার্সি আবারও গায়ে চড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন সৌম্য সরকার। তার জন্য অবশ্য ৫ বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে। বাঁহাতি ওপেনার সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

মাঝের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে ডাক পেয়েছেন সৌম্য। ৩৩ বছর বয়সী ওপেনারকে এত দিন পর কেন দলে ডাকা হয়েছে তার ব্যাখ্যা আজ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং সামলানোর অভিজ্ঞতাই সৌম্যকে এগিয়ে রেখেছে।

অবশ্য ছন্দটাও সৌম্যর পক্ষেই। জাতীয় ক্রিকেট লিগের সর্বশেষ আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। খুলনা বিভাগের হয়ে ৭ ম্যাচে ৬৩৩ রান করেন তিনি। ৪৫.২১ গড়ে ৪ ফিফটির বিপরীতে ১ সেঞ্চুরি হাঁকান বাঁহাতি ওপেনার।

সৌম্যকে ফেরানোর ব্যাখ্যায় হাবিবুল বলেছেন, ‘সৌম্যকে নেওয়ার সময় আমাদের কয়েকটি বিষয় মাথায় ছিল। বর্তমানে টপ অর্ডারে প্রায় পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটার রয়েছে। যদি তানজিদ তামিম ও শাদমান ইসলাম ওপেন করে, তাহলে টানা চারজন বাঁহাতি ব্যাটার নেমে যাবে। আদর্শ পরিস্থিতিতে এটা ভালো নয়। সৌম্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। অস্ট্রেলিয়ায় যে ধরনের গতি ও বাউন্সের মুখোমুখি হতে হবে, সে সেটার সঙ্গে অভ্যস্ত।’

টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটারের সংখ্যা বেশি হচ্ছে এটা বিসিবির মাথায় ছিল। কিন্তু টপ অর্ডারের ডানহাতি ব্যাটাররা ছন্দে না থাকায়, সঙ্গে সম্ভাবনাময়রা এখনো প্রস্তুত না হওয়ায় বাঁহাতিদের ওপরই আস্থা রাখতে হয়েছে বলে জানান হাবিবুল। সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা অন্য ওপেনারদের বিষয়েও ভেবেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের ডানহাতি ওপেনাররা এখনো প্রস্তুত নয়। যাদের নিয়ে কাজ করছি, তারা একেবারেই নতুন। তাদের সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। সামনে হাই পারফরম্যান্স দলের সিরিজ রয়েছে। আশা করি, আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা একজন ডানহাতি ওপেনার তৈরি করতে পারব, যেটা আমাদের খুব প্রয়োজন।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে ২ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্ট। পরের ম্যাচ ২২ আগস্ট, ম্যাকাইতে। সিরিজ খেলতে আগামী ৩১ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে বাংলাদেশ।

‘চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা কষ্টের, আরো কিছুদিন যন্ত্রণাটা থাকবে’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা কষ্টের, আরো কিছুদিন যন্ত্রণাটা থাকবে’

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুটা ভালো হলেও শেষটায় হতাশা নিয়ে ফিরেছে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমবাপ্পে, ওলিসে, দুয়েরা নিষ্প্রভ ছিলেন সেমিতে। এই পারফরম্যান্সের পরে প্রথমবার মুখ খুললেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

বিশ্বকাপের সেমিতে বিদায়ের পরে সমর্থকদের উদ্দেশে এক বার্তা দিয়েছেন তিনি। সব সময় পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন বার্তায় এমবাপ্পে বলেছেন, বিশ্বকাপ জিততে না পারার কষ্ট এখনো তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। 

সোমবার নিজের স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় এমবাপ্পে লেখেন, ‘ধন্যবাদ। এমন একটা মাস কাটালাম যেখানে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চেয়েছিলাম। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে খেলতে পেরে আমরা গর্বিত। মাঠে যতটা আবেগ নিয়ে আমরা খেলেছি, টিভির পর্দার সামনে কিংবা গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের মধ্যেও একই আবেগ দেখেছি।’ 

তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশা লুকায়নি ফ্রান্স অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা দলগতভাবে খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। এটা খুব কষ্টের এবং এই যন্ত্রণা আরো কিছুদিন থাকবে। আমি আপনাদের কাছে সেটা লুকাতে চাইনি। হয়তো আপনাদের আরো ভালো একটা পরিসমাপ্তি উপহার দিতে পারতাম। কিন্তু গল্প কিভাবে এগোবে, সেটা সব সময়ে আমাদের হাতে থাকে না। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়েছি, এটুকুই বলতে পারি।’

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেন এমবাপ্পে। তবে ব্যক্তিগত এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি নিতে চাননি।

সতীর্থদের ওয়ার্কলোড, তাঁদের রান ও পাস এবং দলগত সংহতি না থাকলে আমি এতগুলো গোল করতে পারতাম না বলে যোগ করেন তিনি।

কমনওয়েলথে রেকর্ড গড়ে সোনা জয় ভারতের মীরবাইয়ের

ক্রীড়া ডেস্ক
কমনওয়েলথে রেকর্ড গড়ে সোনা জয় ভারতের মীরবাইয়ের

কমনওয়েথ গেমসে মেয়েদের ভারোত্তোলন ৪৮ কেজি বিভাগে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন ভারতের মণিপুরের মেয়ে সাইকম মীরাবাই চানু। পদক গ্রহণ করেই অশ্রুসিক্ত হন ৩১ বছর বয়সী এই অ্যাথেলেট। 

গতকাল রবিবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় কমনওয়েথ গেমসে মেয়েদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জয় করেন তিনি।

দিনের শুরুতে মীরাবাই একটু নার্ভাস ছিলেন। স্ন্যাচে শুরুতেই তিনি ৮২ কেজি তোলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টায় তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। ব্যর্থ হন তুলতে। 

কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ৮২ পার করেন। আর তৃতীয় প্রচেষ্টায় তোলেন ৮৫ কেজি। গেমসের ইতিহাসে মেয়েদের ৪৮ কেজি বিভাগের স্ন্যাচে সর্বোচ্চ ৮৪ কেজি তোলার নজির ছিল এটি। ৮৫ কেজি তুলে তিনি গড়েন নতুন রেকর্ড। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে মীরাবাই শুরুতেই ১০৫ কেজি তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

একই দিন মীরাবাইয়ের আগে ছেলেদের ভারোত্তোলনে ভারতকে রৌপ্য এনে দিয়েছিলেন মণিপুরের ২৮ বছরের চানাম্বাম ঋষিকান্ত সিং। ছেলেদের ৬০ কেজি বিভাগে তিনি তোলেন মোট ২৮০ কেজি। স্ন্যাচে ১২১ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৩ কেজি। গেমসের চার নম্বর দিনে ভারতের দখলে তিন পদক। 

হঠাৎ করেই অবসরে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
হঠাৎ করেই অবসরে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি
ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ভিনচিচ। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ বলে কথা! শ্রেষ্ঠত্বের ম্যাচে রেফারিংয়ের দায়িত্ব পাওয়া যেকোনো রেফারির কাছেই স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে স্লাভকো ভিনচিচের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি এমন ঘোষণা শোনার পরেই আনন্দাশ্রু ঝড়ে ভিনচিচের দুচোখ বেয়ে। তবে স্পেন-আর্জেন্টিনার ফাইনাল শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মন খারাপের সংবাদ দিয়েছেন তিনি। হঠাৎ করেই বাঁশি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্লোভেনিয়ার রেফারি। আর কখনো বাঁশিতে ফুঁ দেবেন না বলে তার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্লোভেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশনটি লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের এক সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের ঐতিহাসিক রেফারিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন স্লাভকো ভিনচিচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের দায়িত্ব পালন করে ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেফারির একজন হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন মারিবোরের রেফারি।’

 

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ভিনচিচ। ফাইনালসহ এবারের বিশ্বকাপে ৪টি। বিপরীতে ২০২২ বিশ্বকাপে ২টি। তার পরিচালনায় ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে তার নেওয়া বেশ কটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা-বিতর্কও হয়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের বিপরীতে স্পেনের উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিল হওয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়।

২০০৭ সালে স্লোভেনিয়ার শীর্ষ লিগ প্রভা লিগা দিয়ে পেশাদার রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ভিনচিচ। পরে একে একে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগসহ অনেক টুর্নামেন্টে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। তারই পুরস্কার হিসেবে ২০১০ সালে ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হন ৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ। সব মিলিয়ে ৫১৩ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। 

বিশ্বকাপের ফাইনালে ছাড়াও ২০২২ সালের ইউরোপা লিগ ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ভিনচিচ।