• ই-পেপার

ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলায় নিহত ৩৮, আহত চার শতাধিক

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এই দূষণের কারণে হওয়া অতিরিক্ত ব্যয় কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কানাডার শত শত দাবানল থেকে সৃষ্টি হওয়া ঘন ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে ফেলে। এ কারণে অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার সতর্কতা জারি করা হয়।

ট্রাম্প আরো বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন। তার ভাষায়, এটি একটি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এর একটি পোস্টে বলেছেন, ‘ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা তাদের বনভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না।’ তার অভিযোগ, এর ফলে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস অকারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। এ কারণে দাবানলের ধোঁয়াজনিত দূষণের জন্য তিনি কানাডাই দায়ী।

ট্রাম্প দাবি করেন, এটি কানাডার ইচ্ছাকৃত অবহেলার ফল এবং প্রতি বছর এমন ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, দাবানলের ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট দূষণ মোকাবিলার ব্যয় কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করা উচিত। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। 

তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বনভূমি আরো শুষ্ক হয়ে পড়ছে। ফলে দাবানলের ঘটনা ও এর বিস্তারও বাড়ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির বন্যভূমির দাবানল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু যত উষ্ণ হচ্ছে, ততই গরম, শুষ্ক, ঝড়ো ও চরম আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের ঘটনাও আরো বৃদ্ধি পাবে।

২০২৫ সালে ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কার্নি বৃহস্পতিবার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রবিবার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্প ও কার্নির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কানাডার অধিকাংশ দাবানল অন্টারিও প্রদেশের দুর্গম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বল্প জনবসতিপূর্ণ এই এলাকাগুলোতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বিমান। বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর (২৬৩০ বর্গকিলোমিটার) এলাকা আগুনে পুড়ছে, যা গত বছরের একই সময়ে পুড়ে যাওয়া ৬ লাখ একর এলাকার চেয়েও বেশি। দাবানলের কারণে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কিছুই অবশিষ্ট নেই

উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর আদিবাসী সম্প্রদায় নামাইগুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশন (কলিন্স ফার্স্ট নেশন) ভয়াবহ দাবানলে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সম্প্রদায়টির বাসিন্দারা নৌকায় করে এলাকা ছেড়ে থান্ডার বে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান ইনসিডেন্ট কমান্ডার ম্যাথিউ হোপ।

হোপ বলেন, ‘সেখানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন, শোকাহত ও হতবিহ্বল হয়ে আছেন।’ টরন্টো থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত থান্ডার বে শহরটি বর্তমানে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শহরের মেয়র কেন বশকফ জানান, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দিতে গিয়ে শহরটির সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

এদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল মোকাবেলায় প্রদেশটি ১১টি নতুন বিমান কিনবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযানকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করা কিছু মার্কিন রাজনীতিকের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন। শুধু কানাডাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও এ বছর দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে। 

ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭ লাখ একর জমি পুড়ে গেছে। গত ১০ বছরের একই সময়ের গড় ছিল ২৭ লাখ একর।

জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় পাকিস্তান
ছবি : রয়টার্স

জ্বালানি নিরাপত্তা সহযোগিতা ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। এই চুক্তির আওতায় কুয়েতকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপরীতে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ চায় পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। তবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এই আলোচনা কিছুটা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে ছোট পরিসরে একটি সামরিক চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় দুই দেশ মিলে যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কিন্তু এখন কুয়েত চাচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের যেমন চুক্তি আছে, ঠিক তেমন একটি বড় চুক্তি করতে। কুয়েতের চাহিদা হলো—পাকিস্তানি সৈন্য, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কুয়েতে মোতায়েন করা হোক। তবে পাকিস্তান এখনই কুয়েতে সৈন্য পাঠাতে রাজি নয় বলে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পাকিস্তান এই চুক্তিকে তাদের দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান কুয়েতের কাছ থেকে জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তা চায়, যাতে দেশে তেলের মজুদ বাড়ানো যায়। কুয়েতও পাকিস্তানে তেল সংরক্ষণের একটি বড় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ভাবছে। পাকিস্তান মনে করছে, কুয়েতের কাছ থেকে এই সুবিধাগুলো পাওয়া গেলে চুক্তিটি করা তাদের জন্য লাভজনক হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে আমেরিকার ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর ভরসা দিন দিন কমছে। তাই তারা বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনীকে বেছে নিতে চাইছে। কুয়েত ছাড়াও বাহরাইন পাকিস্তানের সঙ্গে এমন চুক্তি করতে আগ্রহী এবং জর্দান অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে কথা বলছে। এমনকি তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে আরেকটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়াও তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে অন্য দেশের জন্য পাকিস্তানের এই অতিরিক্ত সামরিক দায়িত্ব নেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।

ইরানের সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের চাবাহার শহরের শহীদ কালানতারি বন্দরের সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস করেছে। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

সেন্টকমের দাবি, বৃহস্পতিবার চালানো এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ। তারা জানায়, এবার চাবাহার বন্দরের নজরদারি টাওয়ারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ কালানতারি বন্দরের এই টাওয়ারটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত একটি সামুদ্রিক নজরদারি নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওমান উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতো। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর নজর রাখতে এটি ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেছে সেন্টকম। এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম বলেছে, ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সফলভাবে এই নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে আইআরজিসি এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ শনাক্ত করত এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাত। 

সেন্টকমের দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা দুর্বল করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জলসীমায় নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাও এই অভিযানের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র আরো বলেছে, এই অভিযান বেসামরিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য, নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস হওয়ায় নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলার সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা কমে যাবে। এতে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা জাহাজের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। 

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় চাবাহার বন্দরের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরনা জানিয়েছে, বন্দরের জাহাজ ভিড়ানোর জেটি, পণ্য ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার কাজও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, শুধু চাবাহার নয়, রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশের আরো কয়েকটি প্রদেশের বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হরমোজগান, বুশেহর, সিস্তান ও বেলুচিস্তান, খুজেস্তান এবং লোরেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০০ জনেরও বেশি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। এছাড়া কয়েক ডজন আহত ব্যক্তি এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলায় হরমোজগান প্রদেশের খামির কাউন্টির অন্তত ছয়টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির এবং আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


 

ইরান অভিযানের প্রস্তুতি, ইসরায়েলে অতিরিক্ত বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
ইরান অভিযানের প্রস্তুতি, ইসরায়েলে অতিরিক্ত বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরো বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই লক্ষ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত কয়েক ডজন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েন করতে চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্র দিয়ে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এই তথ্য জানিয়েছে

অ্যাক্সিওস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক সামরিক বিকল্প পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্তটি আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা সামরিক পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো। এ ছাড়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আরো মাটির নিচে পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত আঘাত এবং দেশটির নির্মাণাধীন ভূগর্ভস্থ পিকাক্স মাউন্টেন সাইটে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনাও টেবিলে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও একটি বৃহত্তর আক্রমণের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। এই সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য হলো—তেহরানকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করা এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত মার্কিন শর্তগুলো মেনে নিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা।

এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা বেশ কয়েক দিন ধরে হরমুজ প্রণালী ও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রসদ, গোলাবারুদ ও অতিরিক্ত সৈন্য চলাচল ব্যাহত করার লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এর একটি প্রধান সরবরাহ কেন্দ্রের কাছে বন্দর আব্বাসের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। এমনকি সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি, যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মার্কিন সেনারা কয়েক মাস আগেই সেই ঘাঁটি থেকে সরে গিয়েছিল।

বর্তমানে ইসরায়েলের তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দরে সমসংখ্যক মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন আগামী দিনগুলোতে এই বিমানবহরকে সংঘাতের শুরুর দিকের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে আরো কয়েক ডজন বিমান পাঠাতে চায়। আঞ্চলিক অন্য ঘাঁটিগুলো ইরানি মিসাইল হামলার ঝুঁকিতে থাকায় মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেশি আগ্রহী। তবে এই প্রস্তাবিত বিমান মোতায়েনটি বর্তমানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের কারণে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান সেখানে জায়গা দখল করে থাকায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ ইতিমধ্যে সেখান থেকে মার্কিন বিমানের সংখ্যা কমানো বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থার জন্য ইসরায়েলি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে এবং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।