ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারও কারণে তেহরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কোনো দেশই তেল রপ্তানি করতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার) এই ‘সবাই অথবা কেউ না’ নীতি সুস্পষ্ট করেন।
গালিবাফ বলেন, ‘এই যুদ্ধের সমীকরণ পরিষ্কার—হয় সবাই, নয়তো কেউই নয়। আমরা যদি তেল বিক্রি করতে না পারি, তাহলে এই অঞ্চলে আর কেউ তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। এছাড়া মার্কিন বাহিনী উপস্থিত থাকলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
ইরানের স্পিকারের এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক কঠোর হুঁশিয়ারির পর।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনা, ড্রোন গুদাম, বিমান হ্যাঙ্গার, নৌ সক্ষমতা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সর্বশেষ ৭৫ মিনিটব্যাপী অভিযান চালানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালিতে ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য দায়ী ইরান।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে এবং ওই পথ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে তা কিছুটা কমে প্রায় ৯৩ ডলারে নেমে আসে।
সংঘাত আরো বিস্তৃত হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে।
বিভিন্ন পক্ষের হামলায় হাজারো মানুষ মারা গেছেন এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের মানবিক ও সামরিক মূল্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে








