• ই-পেপার

গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি
ছবি : রয়টার্স

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরো খারাপ হতে পারে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে নিয়মিত খবরের ওপর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সাথে নিকটতম মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সতর্কবার্তায় আরো জানানো হয়েছে যে, এই আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। যেকোনো সময় ফ্লাইট বাতিল এবং পর্যায়ক্রমিক আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আবারও বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক, তাদের স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে নতুন করে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার শত্রুতা দূর করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যার ফলে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ মার্কিন সেনা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ মার্কিন সেনা নিহত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আরো দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর ফলে সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নিহত দুই সেনা জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় নিহত হন। এ ছাড়া ওই হামলার পর একজন মার্কিন সেনাসদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।

সংঘাতটি মূলত আকাশপথে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা দেখিয়েছে যে, স্থলযুদ্ধে অংশ না নিয়েও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শনিবার পর্যন্ত জর্ডানে সর্বশেষ প্রাণহানির বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিবৃতি দেননি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে ১ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় আহত আরেক সেনা মারা যান।

এ ছাড়া মার্চের শেষ দিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে আরো ছয় সেনাসদস্য নিহত হন। সম্প্রতি আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় একজন নৌবাহিনীর পাইলটও নিহত হন।

অন্যদিকে, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। নিহতদের মধ্যে শুক্রবার একটি সেতুতে হামলায় নিহত আটজনও রয়েছেন।

এ ছাড়া চলমান সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে কর্মরত ব্যক্তি, বিদেশি শ্রমিক এবং ইসরায়েল ও লেবাননের আরো বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

সূত্র : এপি

মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ইরানি বাহিনীকে ‘দ্রুত শাস্তি’ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা শুরু

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ইরানি বাহিনীকে ‘দ্রুত শাস্তি’ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা শুরু
ছবি : রয়টার্স

জর্দানে মার্কিন সেনা সদস্যদের ওপর হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনা হত্যার প্রতিশোধ নিতে এবং ইরানকে ‘দ্রুত শাস্তি’ দিতে তারা ইরানি বাহিনীর ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে জর্দানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলাকারী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বাহিনীকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া। সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুলাই জর্দানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুইজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরো একজন সেনা সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। হামলায় চারজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছিলেন, যাদের চিকিৎসার জন্য জর্দানের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা শেষে চারজনকেই ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সামান্য আঘাত পাওয়া অন্য কর্মীরা আবার কাজে ফিরে গেছেন। গত মার্চের পর এই প্রথম ইরানের সরাসরি হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলেন।

এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তাদের ‘অপারেশন লাইটনিং’-এর ১৪তম পর্বের অংশ হিসেবে তারা জর্দানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটির জ্বালানি মজুদকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জর্দান ও কুয়েতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায়।

ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কুয়েতের আল-উদাইরি ক্যাম্পের একটি গোলাবারুদের ডিপো, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির সদর দপ্তর ভবন ও গোলাবারুদের ডিপো এবং বেশ কয়েকটি যোগাযোগ সেতুকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক হামলা চালিয়েছিল, তার প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান টানা সপ্তম রাতের মতো এই অভিযান পরিচালনা করে। আর এর জবাবেই এবার নতুন করে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলাকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে আইএমএফ

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলাকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে আইএমএফ

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে পুনর্গঠন ও জরুরি ত্রাণ কাজের জন্য ৩৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ ও আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা এই বড় অঙ্কের তহবিল ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

এদিকে গত মাসে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজের দেওয়া সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৫১১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং মূল কম্পনের পর এ পর্যন্ত প্রায় ১৩৫০টি আফটারশক নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৭৪০ জন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তীব্র কম্পনে দেশজুড়ে ৮৫৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, যার ফলে ১৭৯০৭ জন মানুষ পুরোপুরি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি আশ্রয়ের জন্য ইতিমধ্যে ১০৭টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২১০০০-এরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া এক লাখেরও বেশি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিশাল কর্মী বাহিনী মাঠে নামানো হয়েছে। এলাকাগুলোতে ২,২৭৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী এবং প্রায় ৩১০০০ জরুরি সাড়াদানকারী কর্মী দিনরাত কাজ করছেন, যাদের সার্বক্ষণিক সাহায্য করছেন আরো ৩১০০০-এর বেশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক। দুর্গত মানুষদের বেঁচে থাকার সুবিধার্থে সরকার ইতিমধ্যে ১০ মিলিয়নেরও বেশি খাদ্য সামগ্রী এবং ৩২ মিলিয়নেরও বেশি লিটার খাবার পানি বিতরণ করেছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, আইএমএফ-এর নিজস্ব সংরক্ষিত তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৩৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ভেঙে পড়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অত্যাবশ্যকীয় জনসেবা চালুর কাজে ব্যবহার করা হবে। সংকটময় এই মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভাও ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে জরুরি তহবিল ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান যে জরুরি মানবিক চাহিদা মেটাতে তারা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।

গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু | কালের কণ্ঠ