• ই-পেপার

বাড়ি থেকে শতাধিক সাপ উদ্ধার, মালিককে পাওয়া গেল মৃত

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীকে ধরতে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীকে ধরতে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা
ছবি : এনডিটিভি।

আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অন্যতম সহযোগী সতিন্দরজিত সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে ধরতে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এবং অন্যান্য ভারতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন হার্ড বল’এর অংশ হিসেবে এফবিআই এ ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কিছু দেশ মিলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন এই যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোল্ডি ব্রার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংএর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অংশের নেতৃত্ব দেন। বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকেই ভারতের কারাগারে আটক। কিন্তু কারাগারে বসেই তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তার গ্যাং পরিচালনা করছেন। এই গ্যাংএর বিরুদ্ধে হত্যা, চুক্তিভিত্তিক হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

এফবিআইয়ের এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বুধবার দেওয়া একটি পোস্টে সতিন্দরজিত সিংকে ধরতে তথ্যদাতাকে ৫০ হাজার ডলার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। গোল্ডি ব্রার নোমে পরিচিত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্যাং পরিচালনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, ‘২০২৬ সালের ১ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে সতিন্দরজিত সিং-এর বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত অপরাধ ও দুর্নীতি চক্রের ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা এবং নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য বণ্টন ও নিজের কাছে রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।’ 

সংস্থাটি আরো জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ও ফ্রেসনো ছাড়াও কানাডা, ভারত এবং মেক্সিকোর সাথে সিং-এর যোগাযোগ রয়েছে। গোল্ডি ব্রারকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার চক্রান্ত করার অভিযোগ আনেন।

২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি শিখ গুরুদ্বারের কার পার্কিং এলাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীরা গুলি চালিয়ে হরদীপ সিংকে হত্যা করে।

ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন দফা হামলায় তারা ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় চলমান যুদ্ধ থামাতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছিল তা  অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌঘাঁটি এবং সামরিক রসদ সংরক্ষণাগার। সেন্টকম আরো জানায়, আগের রাতে ইরানে সফল হামলার ধারাবাহিকতায় এই নতুন অভিযান চালানো হয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে গেছে। মধ্য জুনে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া। 

এর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে। তখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা।  এরপর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।

 

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেষ ব্রিটিশ নারীর সাজা বদলে দিলেন চার্লস

অনলাইন ডেস্ক
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেষ ব্রিটিশ নারীর সাজা বদলে দিলেন চার্লস
ছবি: রয়টার্স

১৯৫৫ সালে নিজের সঙ্গীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রিটেনের শেষ নারী রুথ এলিসের সাজা প্রতীকীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। বুধবার রাজা তৃতীয় চার্লস সরকারের পরামর্শে তার মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ দেন।

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, রুথ এলিস 'ঐতিহাসিক অবিচারের' শিকার হয়েছিলেন। তার মামলার নতুন পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা দেখায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার ছিলেন। সরকারের মতে, বর্তমান সময়ে এই ধরনের প্রমাণ আদালতে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতো। এক বিবৃতিতে বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ৭০ বছর আগে যা ঘটেছে, তা আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এখন অন্তত এটুকু স্বীকার করা যায় যে, রুথ এলিসের ঘটনা ছিল ব্যতিক্রমী এবং তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা মানবিকতার একটি পদক্ষেপ। এতে রুথ এলিসের পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি পাবেন বলে সরকার আশা করছে।

রুথ এলিসের চার নাতি-নাতনি তার সাজা পরিবর্তনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। এর আগে ২০ বছরেরও বেশি সময় আগে তার বোন মুরিয়েল ইয়াকুবাইটও আদালতে চেষ্টা করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, রুথ এলিসের বিরুদ্ধে দেওয়া হত্যার রায় পরিবর্তন করে সেটিকে উসকানির কারণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ব্রিটেনে রাজা বা রানি বিশেষ রাজকীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে বা তার সাজা পরিবর্তন করতে পারেন। তবে এই ক্ষমতা সাধারণত সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রয়োগ করা হয়।

ব্রিটেনে মৃত্যুদণ্ডের আইন ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ১৯৬৫ সালেই বাতিল করা হয়। এরপর আর হত্যার মামলায় কাউকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ১৯৬৪ সালে হত্যার দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। রুথ এলিস ব্রিটেনের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া শেষ নারী। প্রায় সাত দশক পর তার সাজা পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার স্বীকার করল, সে সময় তার মামলায় বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
 

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করলেন বাসিন্দারা

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করলেন বাসিন্দারা
ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বুধবার তারা বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শুধু গ্রিনল্যান্ডের মানুষ।

এ সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর নুক বন্দরে চলা ঐতিহ্যবাহী কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় কায়াকচালকেরা নৌকা উল্টে যাওয়ার পর পানির নিচে সেটিকে আবার সোজা করার বিশেষ কৌশল প্রদর্শন করেন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের মানুষের মতামতের চেয়ে দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদ ও তেলের দিকেই বেশি আগ্রহী।

গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ফ্রেডেরিক লারসেন বলেন, ট্রাম্প শুধু খনিজ সম্পদ ও তেলের কথা ভাবছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই গ্রিনল্যান্ড ভালোভাবে চলতে পারবে। ৬০ বছর বয়সী সরকারি স্কুলের শিক্ষক বিরগিথে গাইসলার বলেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের মানুষের। তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কোনো দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। গ্রিনল্যান্ড মেরিটাইম সেন্টারের প্রশিক্ষক হান্স ডেভিড এজেকিয়াসেন ট্রাম্পের বক্তব্যের আরো কঠোর সমালোচনা করেন।  তিনি বলেন, ভদ্র ভাষায় বলতে গেলে, ট্রাম্পের এই দাবি খুবই অযৌক্তিক। তার প্রশ্ন, যে ব্যক্তি নিজের দেশই ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না, তিনি কেন অন্য একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলছেন? 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আসা কায়াক ইউএসএ দলের সদস্য এবং ৪৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রকৌশলী অ্যান্ডি থন বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে থেকেই গ্রিনল্যান্ড ধীরে ধীরে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্য দিয়েই পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পথ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখত, তাহলে কৌশলগত কারণে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারাও আবারও এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন বুধবার বলেন, ট্রাম্প যতবারই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলুন না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন গ্রিনল্যান্ডের মানুষই।’