• ই-পেপার

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, বাহরাইন-কুয়েতে পাল্টা আঘাত তেহরানের

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করলেন বাসিন্দারা

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করলেন বাসিন্দারা
ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বুধবার তারা বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শুধু গ্রিনল্যান্ডের মানুষ।

এ সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর নুক বন্দরে চলা ঐতিহ্যবাহী কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় কায়াকচালকেরা নৌকা উল্টে যাওয়ার পর পানির নিচে সেটিকে আবার সোজা করার বিশেষ কৌশল প্রদর্শন করেন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের মানুষের মতামতের চেয়ে দ্বীপটির বিপুল খনিজসম্পদ ও তেলের দিকেই বেশি আগ্রহী।

গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ফ্রেডেরিক লারসেন বলেন, ট্রাম্প শুধু খনিজসম্পদ ও তেলের কথা ভাবছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই গ্রিনল্যান্ড ভালোভাবে চলতে পারবে। ৬০ বছর বয়সী সরকারি স্কুলের শিক্ষক বিরগিথে গাইসলার বলেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের মানুষের। তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কোনো দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। গ্রিনল্যান্ড মেরিটাইম সেন্টারের প্রশিক্ষক হান্স ডেভিড এজেকিয়াসেন ট্রাম্পের বক্তব্যের আরো কঠোর সমালোচনা করেন।  তিনি বলেন, ভদ্র ভাষায় বলতে গেলে, ট্রাম্পের এই দাবি খুবই অযৌক্তিক। তার প্রশ্ন, যে ব্যক্তি নিজের দেশই ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না, তিনি কেন অন্য একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলছেন? 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আসা কায়াক ইউএসএ দলের সদস্য এবং ৪৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রকৌশলী অ্যান্ডি থন বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে থেকেই গ্রিনল্যান্ড ধীরে ধীরে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্য দিয়েই পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পথ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখত, তাহলে কৌশলগত কারণে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারাও আবারও এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন বুধবার বলেন, ট্রাম্প যতবারই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলুন না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন গ্রিনল্যান্ডের মানুষই।’


 

বিশ্বজুড়ে ওষুধ, প্রযুক্তি ও কৃষিশিল্পে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী অবস্থান

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে ওষুধ, প্রযুক্তি ও কৃষিশিল্পে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী অবস্থান

স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ওষুধ, জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে ভারতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের নাম অনেকের অজানা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচারের চেয়ে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা এমন অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের ওপর নির্ভরশীল।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া বর্তমানে উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটিরও বেশি ডোজ টিকা উৎপাদন করে। গত কয়েক দশকে বিশ্বের অসংখ্য শিশু পোলিও, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস বি, হামসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে যে টিকা পেয়েছে, তার বড় অংশ এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত।

১৯৬৬ সালে সাইরাস পুনাওয়ালা পুণেতে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। শুরুতে ঘোড়ার রক্ত থেকে অ্যান্টিটক্সিন উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের অন্যতম প্রধান টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কোভিড-১৯ মহামারির আগে বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল এ প্রতিষ্ঠান।

কৃষিযন্ত্র উৎপাদনেও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী। মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক ট্র্যাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিষ্ঠানটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিলিটি ট্র্যাক্টর বাজারে সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, নির্ভরযোগ্যতা ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে মহিন্দ্রা উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। জটিল প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের পরিবর্তে ব্যবহারবান্ধব ট্র্যাক্টর সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি অনেক কৃষকের আস্থা অর্জন করেছে।

ভারতের ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ আন্তর্জাতিক ওষুধ বাজারে জেনেরিক ওষুধের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানি উচ্চমূল্যের পেটেন্ট ওষুধের বিকল্প হিসেবে আইনসম্মত উপায়ে একই কার্যকারিতার জেনেরিক ওষুধ বাজারে আনার উদ্যোগ নেয়।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন ওষুধের পেটেন্টকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কম দামে ওষুধ সরবরাহের পথ খুলে দেয়। এর ফলে বহু রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে এবং জেনেরিক ওষুধের বাজার সম্প্রসারিত হয়।

জ্বালানি খাতেও ভারতের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জামনগর রিফাইনারি। গুজরাটে অবস্থিত এ স্থাপনাটি বিশ্বের বৃহত্তম একক-সাইট পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিন ১২ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এর। জটিল ও উচ্চ সালফারযুক্ত অপরিশোধিত তেলও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর করতে সক্ষম এ রিফাইনারি। একই সঙ্গে শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পরিচালনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৭৮ সালে কিরণ মজুমদার-শ প্রতিষ্ঠিত বায়োকন শুরু হয়েছিল একটি ছোট গ্যারেজ থেকে। সীমিত মূলধন নিয়ে শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বায়োটেকনোলজি ও বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অন্যতম পরিচিত নাম।

ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও অটোইমিউন রোগের জন্য ব্যবহৃত জটিল বায়োলজিক্যাল ওষুধ তুলনামূলক কম দামে উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববাজারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে উন্নয়নশীল দেশের অসংখ্য রোগীর জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা তুলনামূলক সহজলভ্য হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, জ্বালানি ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও প্রচার তুলনামূলক কম। তবে উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক শিল্প ও অর্থনীতিতে নিজেদের প্রভাব দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

দুর্নীতির দণ্ড বহাল, তবুও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন লে পেন

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
দুর্নীতির দণ্ড বহাল, তবুও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন লে পেন
সংগৃহীত ছবি

দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সুযোগ ফিরে পেলেন কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্যারিসের আপিল আদালত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ অপব্যবহারের মামলায় তার দণ্ড বহাল রাখলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আরোপিত অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনি বাধা আর থাকছে না ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালি দলের এই নেত্রীর সামনে।

তবে আদালতের রায় লে পেনের জন্য পুরোপুরি স্বস্তির নয়। অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে তার দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক বছরের ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার ফলে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ফরাসি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেরিন লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আবারও ফ্রান্সের ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যার কারণে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। নতুন রায়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

মেরিন লে পেন ও তার দল ন্যাশনাল র‍্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থে নিয়োজিত কিছু সংসদীয় সহকারী প্রকৃতপক্ষে ফ্রান্সে দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। এই মামলায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

লে পেন শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে। আদালতের রায়ের পরও তিনি নিজের রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, এই মামলা তাকে থামাতে পারেনি, বরং তিনি এখন আরো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছেন।

আদালতের এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, মেরিন লে পেন শুধু একটি দলের প্রধান নন, গত এক দশকে তিনি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পৌঁছেছিলেন। দুইবারই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পরাজিত হলেও তার ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সাংবিধানিক কারণেই আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ অংশ নিতে পারবেন না। ফলে নতুন নেতৃত্বের লড়াইয়ে মেরিন লে পেন অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকবেন। তার দল ন্যাশনাল র‍্যালি বর্তমানে ফ্রান্সের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

লে পেনের রাজনৈতিক উত্থানের মূল ভিত্তি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ। তার দল দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। 

সমর্থকদের মতে, তিনি সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা রাজনীতির কেন্দ্রে এনেছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তার রাজনীতি ফরাসি সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে।

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও এই রাজনৈতিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ন্যাশনাল র‍্যালি ক্ষমতায় এলে অভিবাসন আইন, নাগরিকত্ব, বিদেশিদের অধিকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মেরিন লে পেনের মামলা এখন ফ্রান্সে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে, জনপ্রিয় কোনো রাজনীতিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পরও কি জনগণের ভোটে দেশের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন? 

লে পেনের সমর্থকরা বলছেন, শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের।

অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত একজন নেত্রীর প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফরাসি রাজনীতিতে নতুন নৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

আজ মাশহাদে দাফন

ইরাকে শ্রদ্ধায় সিক্ত খামেনি

গাজী আব্দুর রশীদ, তেহরান থেকে
ইরাকে শ্রদ্ধায় সিক্ত খামেনি
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে শেষবিদায় জানাতে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও  কারবালাদুটি শহরই বুধবার পরিণত হয় শোক, শ্রদ্ধা ও সংহতির এক বিশাল জনসমুদ্রে। শেষবিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষ প্রথমে নাজাফে সমবেত হয়। পরে নাজাফ থেকে কারবালায় নেওয়া হয় খামেনির মরদেহ। দুটি স্থানেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষের উপস্থিতি ইরান ও ইরাকের জনগণের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের আরেকটি প্রতিফলন হয়ে ওঠে। আজ বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ দাফন করা হবে। সেখানে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার সকালে নাজাফে বিপুলসংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে শহীদ নেতার জানাজা ও শেষবিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে শহীদ নেতা এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান। পরে উভয় দেশের কর্মকর্তারা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা, ঐক্য ও অগ্রগতিতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। শোকযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তাঁরা রাস্তায় ও ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন। নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলী (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে বহন করেন। আহদ টিভি আরো জানায়, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার জন্য ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। তিনি বিমানবন্দরে শহীদ খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন।

বুধবার ভোর থেকেই নাজাফমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশের পাশাপাশি বিদেশি জিয়ারতকারীরাও শেষবিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে সমবেত হন। বুধবার দুপুরে নাজাফের মধ্য দিয়ে এক বিশাল গণ-শোকযাত্রার পর শহীদ নেতার মরদেহ ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক শোকাহত ইরাকি উপস্থিত ছিলেন।

নাজাফ থেকে তাসনিম নিউজ এজেন্সির সংবাদদাতার বরাতে জানা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে শহীদ নেতার মরদেহ বহনকারী গাড়িটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল। শোকাহতদের অত্যধিক উপস্থিতির কারণে পরিকল্পিত মিছিলটি পথের অর্ধেক, অর্থাত্ প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পথ অতিক্রম করতে চার ঘণ্টা সময় নেয়। মরদেহ বহনকারী গাড়িটির জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ প্রস্তুত করা হয়েছিল, কিন্তু ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিপুল জনতা সে পথে  ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারের দিকে যেতে থাকে। শোকার্ত ইরাকিরা ইরাক, ইরান ও হিজবুল্লাহর পতাকার পাশাপাশি শহীদ নেতার জন্য প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে কালো শোক ব্যানার এবং লাল পতাকা বহন করে।

শহীদ আলী খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নাজাফ থেকে কারবালাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও বিস্তৃত সেবামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আপ্যায়ন কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিত্সাসেবার ব্যবস্থা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি বহরের মাধ্যমে শহীদ নেতার মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি আবদুল মাহদি আল-কারবালায়ি পবিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজার ইমামতি করেন।

ইরাকে এই গণ-শোকযাত্রা ও জানাজা ইরানের তেহরান ও কোমে অনুষ্ঠিত অভূতপূর্ব বিদায় অনুষ্ঠানের পর সম্পন্ন হলো। নাজাফ ও কারবালার অনুষ্ঠানগুলোর পর আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির মরদেহ চূড়ান্ত জানাজা ও শোক মিছিল এবং মাশহাদে ইমাম রেজা (রা.)-এর পবিত্র মাজারে দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনব্যাপী আগ্রাসী যুদ্ধের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হন। তাঁর হত্যাকাণ্ড ইরান এবং প্রতিরোধ অক্ষশক্তিজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ও শোকের জন্ম দেয়। জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা শহীদ নেতার জন্য ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের দাবিতে লাল পতাকা বহন করছেন।

গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শনি ও রবিবার যথাক্রমে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হয়। সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে শহরের রাজপথ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মঙ্গলবার শহীদ নেতার জানাজায় কোমের পবিত্র জামকারান মসজিদে লাখো অনুসারী সমবেত হন। শহীদ নেতার ইচ্ছানুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ দাফন করা হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রেডিও তেহরানের বিদায়ি উপস্থাপক