গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বুধবার তারা বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শুধু গ্রিনল্যান্ডের মানুষ।
এ সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর নুক বন্দরে চলা ঐতিহ্যবাহী কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় কায়াকচালকেরা নৌকা উল্টে যাওয়ার পর পানির নিচে সেটিকে আবার সোজা করার বিশেষ কৌশল প্রদর্শন করেন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের মানুষের মতামতের চেয়ে দ্বীপটির বিপুল খনিজসম্পদ ও তেলের দিকেই বেশি আগ্রহী।
গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ফ্রেডেরিক লারসেন বলেন, ট্রাম্প শুধু খনিজসম্পদ ও তেলের কথা ভাবছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই গ্রিনল্যান্ড ভালোভাবে চলতে পারবে। ৬০ বছর বয়সী সরকারি স্কুলের শিক্ষক বিরগিথে গাইসলার বলেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের মানুষের। তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কোনো দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। গ্রিনল্যান্ড মেরিটাইম সেন্টারের প্রশিক্ষক হান্স ডেভিড এজেকিয়াসেন ট্রাম্পের বক্তব্যের আরো কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভদ্র ভাষায় বলতে গেলে, ট্রাম্পের এই দাবি খুবই অযৌক্তিক। তার প্রশ্ন, যে ব্যক্তি নিজের দেশই ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না, তিনি কেন অন্য একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলছেন?
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আসা কায়াক ইউএসএ দলের সদস্য এবং ৪৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রকৌশলী অ্যান্ডি থন বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে থেকেই গ্রিনল্যান্ড ধীরে ধীরে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্য দিয়েই পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পথ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখত, তাহলে কৌশলগত কারণে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারাও আবারও এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন বুধবার বলেন, ট্রাম্প যতবারই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলুন না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন গ্রিনল্যান্ডের মানুষই।’







