• ই-পেপার

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করলেন বাসিন্দারা

ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩
ছবি : রয়টার্স

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে চালানো মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলার পর এলাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি আইআরএনএকে বলেন, ‘ইসরায়েল-মার্কিন সরকার ভোররাতে আহভাজের উপকণ্ঠের একটি স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’ তিনি জানান, হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ করছেন এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরানে টানা দ্বিতীয় রাতেও ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন দফা হামলায় তারা ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। 

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম ও আবু মুসা দ্বীপেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

এবারের হামলায় নতুন করে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের এলাকাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানশাহর, কোনারাক ও চাবাহার শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। চাবাহারে বেসামরিক এলাকা, সামরিক ঘাঁটি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেটি এবং একটি সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানশাহরে হামলার সময় ছিটকে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি বিমানবন্দর স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে অন্তত একজন নিহত হন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর ও আশপাশের এলাকাও মার্কিন বিমান হামলার শিকার হয়েছে। বুশেহরে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকারের হামলা। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং আগামী দিনগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
 

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে ‘ঐতিহাসিক’ অংশীদারত্বের আহ্বান মোদির

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে ‘ঐতিহাসিক’ অংশীদারত্বের আহ্বান মোদির
ছবি: রয়টার্স

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি করেছে। তিনি বলেছেন, পারমাণবিক জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সবুজ হাইড্রোজেন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ভারত অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বিষয়ক এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মোদি। বুধবার রাতে তিনি মেলবোর্নে পৌঁছান। মোদি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তর আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। তিনি কম-কার্বন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন প্রকল্পেও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজ খাতে যৌথভাবে কাজ করার এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার ভাষায়, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেলপথ এবং নগর অবকাঠামো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য ভারত একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দেশ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের সামনে ভারতের বাজার বড় সুযোগ তৈরি করছে।

মোদির এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন ভারত ও অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করতে চায়। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশটি অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ানসুপার’ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে আরো ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ পত্রিকা জানিয়েছে, ভারতকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

২০১৪ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও এরপর ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, এই জ্বালানি শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাকে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘জীবন্ত সেতু’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মোদির নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।  

অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রবাসী সম্প্রদায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৩ সালের সফরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলবোর্নের একটি বড় স্টেডিয়ামে প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকায় স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশ সফরে বড় জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়া মোদির জন্য নতুন নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভারতীয়দের বড় বড় সমাবেশে তিনি ভাষণ দিয়েছেন। তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ও সিডনির একটি বড় ইনডোর স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান মোদি। ইন্দোনেশিয়ায় তিনি কৃষি ও প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি সই করেন। এর মধ্যে ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে শুক্রবার দুপুরে তিনি নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হবেন। এরপর সেখান থেকে ভারতে ফিরবেন।


 

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীকে ধরতে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীকে ধরতে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা
ছবি : এনডিটিভি।

আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অন্যতম সহযোগী সতিন্দরজিত সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে ধরতে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এবং অন্যান্য ভারতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন হার্ড বল’এর অংশ হিসেবে এফবিআই এ ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কিছু দেশ মিলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন এই যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোল্ডি ব্রার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংএর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অংশের নেতৃত্ব দেন। বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকেই ভারতের কারাগারে আটক। কিন্তু কারাগারে বসেই তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তার গ্যাং পরিচালনা করছেন। এই গ্যাংএর বিরুদ্ধে হত্যা, চুক্তিভিত্তিক হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

 

এফবিআইয়ের এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বুধবার দেওয়া একটি পোস্টে সতিন্দরজিত সিংকে ধরতে তথ্যদাতাকে ৫০ হাজার ডলার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। গোল্ডি ব্রার নোমে পরিচিত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্যাং পরিচালনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, ‘২০২৬ সালের ১ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে সতিন্দরজিত সিং-এর বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত অপরাধ ও দুর্নীতি চক্রের ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা এবং নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য বণ্টন ও নিজের কাছে রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।’ 

সংস্থাটি আরো জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ও ফ্রেসনো ছাড়াও কানাডা, ভারত এবং মেক্সিকোর সাথে সিং-এর যোগাযোগ রয়েছে। গোল্ডি ব্রারকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার চক্রান্ত করার অভিযোগ আনেন।

২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি শিখ গুরুদ্বারের কার পার্কিং এলাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীরা গুলি চালিয়ে হরদীপ সিংকে হত্যা করে।

ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন দফা হামলায় তারা ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় চলমান যুদ্ধ থামাতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছিল তা  অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌঘাঁটি এবং সামরিক রসদ সংরক্ষণাগার। সেন্টকম আরো জানায়, আগের রাতে ইরানে সফল হামলার ধারাবাহিকতায় এই নতুন অভিযান চালানো হয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে গেছে। মধ্য জুনে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া। 

এর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে। তখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা।  এরপর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।