• ই-পেপার

চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত ভাই-বোনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের হাওরে পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় এই মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৬৫ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যাপূর্বাভাস সেল এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্র আগামী তিন দিন সুরমা, কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কথা জানিয়েছিল।

সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড বৃষ্টিপাত। যার ফলে নদ নদীতে পানি বাড়ছে। এ ছাড়াও ভারতের মেঘালয়েও একই সময়ে পানি বাড়ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৭.২০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৮.১৭ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লাউড়েরগড় পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে নদ নদীর পানি বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।’

বান্দরবানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক
বান্দরবানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ল

টানা ভারি বৃষ্টিতে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বান্দরবানে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ আরো দুদিন বাড়িয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৬ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এই সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

এর আগে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

কমলগঞ্জ

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৭ গ্রাম

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৭ গ্রাম
সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের ৭-১০টি  গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তা, এমনকি বাড়ি-ঘরে প্রবেশ করেছে পানি। এতে ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ। 

বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় পুরাতন মসজিদের সামনের বাঁধটি ভেঙে গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙার ফলে মখাবিল, শ্রীপুর ও ভান্ডারীগাঁও, আদমপুরের কোনাগাও, মধ্যভাগস আশপাশের ৭-১০টি গ্রাম বন্যায় তলিয়ে গেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে  বিভিন্ন গ্রাম। 

এ ছাড়া ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে হাঁটু পানি। ফলে আজকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া ও শাব্বীর এলাহী  জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করেই ধলাই নদীর বাঁধটি ভেঙে যায়। ভাঙনের পরিধি প্রায় ১০০ মিটার। এতে ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএসএফের বাধার কারণে মখাবিলের এই অংশটুকুতে পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেই যতটুকু কাজ করা সম্ভব কর্তৃপক্ষ ততটুকু করেছে।’

লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত ৫
বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই রাতে পৃথক আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারী ইউপি সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। তারা সবাই আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার বাসিন্দা। এছাড়া নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। জীবিকার প্রয়োজনে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে মিশনপাড়া এলাকায় আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে দুটি বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়েন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই রাতে প্রায় দেড়টার দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় আরেকটি পাহাড়ধসে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা বেগমের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলার মা মনি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইছার হামিদ জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। গত চারদিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার অনুরোধ ও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থেকে যান। নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।