• ই-পেপার

ফের কমল সোনার দাম, ভরি কত?

ট্রেড ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি

অনলাইন ডেস্ক
ট্রেড ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি

দেশের ট্রেড ফাইন্যান্স খাতে সম্পদের গুণগত মানের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য ট্রেড ফাইন্যান্স এক্সপোজার রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর ট্রেডসংশ্লিষ্ট ঋণ পোর্টফোলিওতে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু ব্যাংকে এ হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হলেও যেসব ব্যাংকে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেশি এবং একই সঙ্গে ট্রেড ফাইন্যান্সে বড় ধরনের এক্সপোজার রয়েছে, সেখানে ট্রেড ফাইন্যান্সসংক্রান্ত খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন বক্তারা। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়ো ট্রেড সার্ভিসেস অপারেশনস অব ব্যাংক শীর্ষক এক রিভিউ কর্মশালায় উপস্থাপিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মিরপুরে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় দেশের জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেন। বক্তব্য দেন বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি প্রফেসর ও এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।

গবেষণা দলের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের প্রফেসর (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। তিনি বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্সে নন-ফান্ডেড দায় জোরপূর্বক ঋণে রূপান্তরিত হওয়াই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে মূলধনি যন্ত্রপাতি, তুলা ও অন্যান্য কাঁচামাল, চিনি, সার, জ্বালানি এবং স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত ট্রেড ফাইন্যান্সে এ ধরনের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গবেষণায় রপ্তানি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয় তুলে ধরা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব ব্যাংকারের মতে, আইনগতভাবে কার্যকর ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের কারণে রপ্তানি অর্থায়নে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়, নিশ্চিত রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানির উদ্দেশ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহৃত হলেও এর ভিত্তি দুর্বল বা আইনগতভাবে অকার্যকর হলে পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে রপ্তানি আয় সময়মতো না এলে ট্রেড ফাইন্যান্সের স্বয়ং-পরিশোধযোগ্য বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে তা দ্রুত জোরপূর্বক ঋণে পরিণত হয় এবং ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করতে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনগত ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবার মান বজায় রেখে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড ফাইন্যান্সের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য ও ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পণ্যভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ আরও জোরদারের আহ্বান জানান। একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও কার্যকর ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরে বিদেশি ব্যাংকগুলোকে ছাড় দিচ্ছে পাকিস্তান

বাণিজ্য ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরে বিদেশি ব্যাংকগুলোকে ছাড় দিচ্ছে পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান, যা সম্পন্ন হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ সালের মধ্যে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ২০২২ সালে পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়াহ কোর্টের একটি রায়, যেখানে সরকারকে সুদভিত্তিক (রিবা) আর্থিক ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের দেশীয় ব্যাংকগুলোকে পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর করলেও দেশটিতে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোকে সুদভিত্তিক প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং সেবাও দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করবে।

সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৮ সালের পর দেশীয় ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ ও অর্থায়ন সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। বর্তমানে চালু থাকা প্রচলিত ঋণগুলো নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে এসব ঋণ নবায়ন বা পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে ইসলামী অর্থায়ন কাঠামো অনুসরণ করতে হবে।

সরকারও ধীরে ধীরে সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে সুকুকসহ অন্যান্য ইসলামী আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। তারা একই সঙ্গে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যেতে পারবে এবং ইসলামী ব্যাংকিং পণ্য ও সেবাও দিতে পারবে। সরকারের মতে, এ ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হলো পাকিস্তানে কার্যরত বহুজাতিক কম্পানিগুলোর অনেকেরই এখনো প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার স্বার্থে বিদেশি ব্যাংকগুলোকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পাকিস্তানের সংযোগ বজায় রাখতে হবে।

দেশীয় ব্যাংকগুলোর সামনে চ্যালেঞ্জ : পাকিস্তানের স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য এই রূপান্তর ব্যয়বহুল ও জটিল হবে। তাদের সব প্রচলিত ব্যাংকিং পণ্যকে ইসলামী পণ্যে রূপান্তর করতে হবে। নতুন আইনি চুক্তি ও নথিপত্র তৈরি করতে হবে। তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি) ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে। কর্মকর্তাদের ইসলামী অর্থায়নের ওপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শরিয়াহসম্মত নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। শরিয়াহ তত্ত্বাবধায়ক বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। এসব পরিবর্তনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ও সময় ব্যয় হবে।

ব্যাংকিং খাতের উদ্বেগ : রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ব্যাংকিং খাতের কিছু অংশ মনে করছে এই নীতির ফলে দেশীয় ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। কারণ তারা আর প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো একই সঙ্গে প্রচলিত ও ইসলামী উভয় ধরনের সেবা দিতে পারবে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি ব্যাংকের দিকেই বেশি ঝুঁকতে পারে।

সরকারের অবস্থান : দেশটির সরকার বলছে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য এই ব্যতিক্রম কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি একটি বাস্তবসম্মত ও অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এর লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক অর্থায়নে বিঘ্ন না ঘটানো। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হবে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি উলে­খযোগ্য অংশ বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আওতায় এসেছে এবং সরকার বিভিন্ন বড় অর্থায়ন প্রকল্পেও ইসলামী আর্থিক উপকরণ ব্যবহার শুরু করেছে।

আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে এবং এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের আমানতের কোনো অংশ কর্তন বা ‘হেয়ার কাট’ করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু এই নোটিশটি উত্থাপন করেন।

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।

পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ আখ্যা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমানতকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই, তারা সুদসহ তাদের টাকা ফেরত পাবেন। যেহেতু সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, তাই ‘হেয়ার কাট’-এর কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে ব্যাংকগুলো বর্তমানে লোকসানে থাকায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

আমানতকারীদের আইনি সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষার সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি সম্পত্তি ও তহবিল জব্দ, নিলাম বা বিক্রয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে ‘নো উইন, নো ফি’ (অর্থ উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) ভিত্তিতে নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১১টি মামলার মধ্যে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে—এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়েন্ট গ্রুপ এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সংশ্লিষ্ট গ্রুপ।’

এর আগে নোটিশটি উত্থাপনকালে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বলেন, ‘সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী বর্তমানে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাদের আমানত থেকে কোনোভাবেই ‘হেয়ার কাট’ করা যাবে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যারা জনগণের টাকা লুট করেছে, তাদের পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই হোক ফিরিয়ে এনে ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে টাকা আদায় করতে হবে।’

গ্রাহকদের সংকটের চিত্র তুলে ধরে রেহেনা আক্তার রানু বলেন, ‘ব্যাংকে রাখা টাকা মানুষের বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, শিক্ষার্থীর টিউশন ফি কিংবা কারো পেনশনের সঞ্চয়। আজ টাকা তুলতে না পেরে অনেকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, টাকার অভাবে মারাও যাচ্ছেন। অথচ লুটেরা মালিক পক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবনযাপন করছে।’

তিনি এই সমস্ত ‘ব্যাংকখেকো’ মালিকদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে দ্রুততম সময়ে গ্রাহকদের টাকা তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস দেখা গেছে। অন্যদিকে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। খবর রয়টার্স

বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে, যা গত ২ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। এ ছাড়া আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণার পর এক লাফে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনুভো বলেন, ‘তেলের দামের এই আকস্মিক লাফ নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এটি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।’

সাধারণত সোনাকে মুদ্রাস্ফীতিজনিত ক্ষতি মোকাবেলার হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হলে সুদবিহীন এই মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।

ট্রাডু ডট কমের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট নিকোস জাবোরাস বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে এ বছর সোনা নিম্নমুখী হচ্ছে। ফলে আগামী সেশনগুলোতেও সোনার দাম চাপের মুখে থাকবে।’

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৭৪ দশমিক ০৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২১৪ দশমিক ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।