• ই-পেপার

\'বাংলাদেশে আরো অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দক্ষিণ কোরিয়া\'

সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের হামলা, ‘নজিরবিহীন’ বলল রুশ কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক
সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের হামলা, ‘নজিরবিহীন’ বলল রুশ কর্তৃপক্ষ

যুদ্ধবিরতির আহ্বানের মাঝে ইউক্রেন আবারও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়ায়। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে কয়েক শ ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের চালানো এই হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও তার আশপাশে ইউক্রেন একটি ‘নজিরবিহীন হামলা’ চালিয়েছে। যখন শহরটিতে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামের শেষ দিন চলছিল। যা শহরটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। 

গভর্নর আলেক্সান্দর দ্রোজদেঙ্কো বলেছেন, পার্শ্ববর্তী লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেন্ট পিটার্সবার্গ বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়ার হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রাগার ও একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধ শেষ করার জন্য সরাসরি আলোচনার আহ্বানকারী ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার কোনো অর্থ নেই বলে ভ্লাদিমির পুতিনের এমন মন্তব্যের পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। তবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয় কোনো কিছু জানা যায়নি।

গত শনিবার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক্স দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘চলমান যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।’ তবে তিনি রাশিয়ার নেতার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়ার’ অভিযোগ করেছেন তিনি।

মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
সংগৃহীত ছবি

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নতুন এই উত্তেজনার মধ্যে আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে-  হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল নিয়ে উত্তেজনার জেরে কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ইউনিট কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানানো হয়। 

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো বলে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েকটি ট্যাংকার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। সতর্ক করার পর একটি ট্যাংকারে আঘাত হানা হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়।

এর কিছু সময় পরই ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের দুটি টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তার জবাব আরো কঠোর হবে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তারা বলে, এর পরিণতির দায় মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকেই বহন করতে হবে।

৫ বছরের মেয়েকে হত্যার পর মা পলাতক, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
৫ বছরের মেয়েকে হত্যার পর মা পলাতক, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা ও পরকীয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত ২৪ মার্চ মৃত্যু হয় শিশু ভেন্নিলার। পরে শিশুটির বাবা প্রবীণ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার প্রেমিক মোহন ভেন্নিলার মৃত্যুর জন্য দায়ী।

ঘটনার প্রায় তিন মাস পর শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুর দাভানাগেরের বাসিন্দা প্রবীণ ২০০৭ সালে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। তাদের ১৭ ও ৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে প্রিয়াঙ্কা তার কলেজের বন্ধু মোহনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

তাদের ওই সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রিয়াঙ্কা বারবার বিবাহবিচ্ছেদের দাবি তুলেছিলেন। পরে তিনি ছোট মেয়ে ভেন্নিলাকে নিয়ে মোহনের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরে শিশুটিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় মোহনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারী ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন’—দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন’—দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ

ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) শত শত সমর্থক শনিবার প্রথমবারের মতো রাজধানী দিল্লিতে সমাবেশ করেছেন। অনলাইনে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এবার বাস্তবে রাজপথে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সমর্থকরা ‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন!’ স্লোগান দেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের ভারতের জাতীয় পতাকা ও একটি বই সঙ্গে আনতে বলা হয়। তাদের ভাষ্য, বইটি শিক্ষা পাওয়ার অধিকার এবং সবার জন্য সমান সুযোগের প্রতীক।

এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন এবং পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার সিজেপির আনুষ্ঠানিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘এবার এই ছোট্ট রসিকতাকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার সময় এসেছে।’ 

মাত্র তিন সপ্তাহ আগে যাত্রা শুরু করলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) দ্রুতই অসন্তুষ্ট তরুণদের একটি আলোচিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির সমর্থকরা নিজেদের গর্বের সঙ্গে ‘ককরোচ’ বলে পরিচয় দেন।

আরো পড়ুন
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

 

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভকে সিজেপির প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ শিরোনামে আলোচনায় থাকা এই আন্দোলন ইতোমধ্যে লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে। সংসদ ভবনের কাছাকাছি বিক্ষোভ এলাকায় শত শত তরুণ-তরুণী জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, আবার কেউ কেউ ককরোচের মুখোশ পরে অংশ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কত মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন, তা শুরুতে স্পষ্ট ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি সিজেপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ সংগঠনটি দেখতে চায়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের হতাশাকে তারা অনলাইন জনপ্রিয়তার বাইরে বাস্তব জনসমর্থনে রূপ দিতে পারে কি না।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে পৌঁছান এবং বিক্ষোভে অংশ নেন। তাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ সময় দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ব্যারিকেডও স্থাপন করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দিপকে জানান, পুলিশ সিজেপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘ককরোচরা যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছে।’

সিজেপি আয়োজকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে শনিবারের এই কর্মসূচিতে সমর্থকদের অংশ নিতে আহ্বান জানান। তাদের প্রধান দাবি হলো ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। গত মে মাসে একটি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই দাবি ওঠে। পরে বিষয়টি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, বেকারত্ব এবং তরুণদের সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়।

গত মে মাসে এক শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু সমালোচক ও বেকার তরুণকে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করলে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই মন্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালযয়ের অভিজিৎ দীপকে একটি ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিজেপি গড়ে তোলেন।

ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সিজেপি ‘ককরোচ’ প্রতীকটিকে টিকে থাকার ক্ষমতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অকার্যকারিতা নিয়ে তৈরি তাদের ভিডিও, মিম ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট অনলাইনে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

সংগঠনটির বিভিন্ন সমর্থক অ্যাকাউন্টও ককরোচকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা মিম, ব্যঙ্গাত্মক নির্বাচনী স্লোগান এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সিজেপির বার্তাগুলোতে আত্ম-বিদ্রূপমূলক হাস্যরসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমালোচনার মিশেল দেখা যায়। সমর্থকেরা নিজেদের মজা করে ‘বেকার’, ‘সবসময় অনলাইনে থাকা’ এবং ‘প্রভাব বিস্তার থেকে বঞ্চিত’ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তবে এই হাস্যরসের আড়ালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি একটি বিস্তৃত সমালোচনাও রয়েছে। সিজেপি সমর্থকদের দাবি, সাধারণ ভারতীয়রা, বিশেষ করে তরুণরা, আগের তুলনায় কম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি তরুণ। কিন্তু তাদের অনেকেই সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ, বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং প্রচলিত রাজনীতির প্রতি হতাশার মুখোমুখি হচ্ছেন।

অনেক তরুণ ভোটার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বতন্ত্র ভারতীয় জনতা পার্টির(বিজেপি) সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, দেশে ধর্মীয় মেরুকরণ বেড়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বিস্তৃত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তবে সিজেপির উত্থান নিয়ে সবাই একমত নন। বিশেষ করে বিজেপি-সমর্থক অনেকেই এই আন্দোলনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি সাময়িক প্রচারণা বা ‘গিমিক’ বলে মনে করেন।

তাদের দাবি, অনলাইনে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মানেই বাস্তবে বড় ধরনের জনসমর্থন পাওয়া নয়। সিজেপির দ্রুত উত্থান যতটা আলোচিত হয়েছে, তত দ্রুতই এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে বলেও তারা মনে করেন।

ফলে দিল্লির রাজপথে সিজেপির প্রথম বড় সমাবেশকে অনেকেই আন্দোলনটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বোঝা যাবে, সংগঠনটি অনলাইন জনপ্রিয়তাকে বাস্তব জনসমর্থন ও রাজনৈতিক প্রভাবে রূপ দিতে পারে কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির উত্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা একটি বড় প্রবণতার সঙ্গে মিল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জন্ম নেওয়া তরুণদের আন্দোলন ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালের বিভিন্ন সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তবে সিজেপির সামনে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন বিক্ষোভ দমনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের মতো বড় বিক্ষোভও ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্দোলনের আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। 

সমালোচকদের দাবি, এসব পদক্ষেপ সরকারের সমালোচনা ও ভিন্নমত দমনের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এমন পরিস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অনলাইন জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘমেয়াদি ও সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবেলা করা।

\'বাংলাদেশে আরো অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দক্ষিণ কোরিয়া\' | কালের কণ্ঠ