জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় একজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরান ও তার মিত্রবাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় আরো একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত অন্য ৪ মার্কিন সেনাকে জর্ডানের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামান্য আঘাত পাওয়া অন্য কয়েকজন সেনাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইতোমধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ফিরেছেন।
নিহত সেনাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করেনি সেন্টকম। নিয়ম অনুযায়ী, নিহত সেনাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত মার্চের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার (ফুয়েল স্টোরেজ ট্যাংক) লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন কিংবা সেন্টকম থেকে তাৎক্ষণিক ওই সময় কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা আরো বিস্তৃতভাবে জবাব দেবে। একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ আগ্রাসনের অংশ।
ইরান আরো বলেছে, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ হয়নি। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতার প্রথম শর্ত ছিল সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা।




