• ই-পেপার

সকালের মধ্যে যেসব জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

রাজশাহী

পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ, ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ, ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড-এর মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রচলিত নিয়মে কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশ আগে থেকে নির্বাচন অফিসে দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ীভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। পরে ঘুসের বিনিময়ে তাদের একই কর্মস্থলে আউটসোর্সিং কর্মী দেখিয়ে নতুন চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়। এ নিয়োগে কোনও উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয় কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ডিপিএম একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। বিশেষ পরিস্থিতিতে, জরুরি প্রয়োজন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলেই সাধারণত এ পদ্ধতি ব্যবহার হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে কী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি সংশ্লিষ্টদের কাছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা আবেদনেরই সুযোগ পাননি।

রুমা সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি চলাকালে প্রথমে ৫ জন গাড়িচালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৪৩ জন নিরাপত্তাপ্রহরীসহ মোট ১১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তালিকায় যুক্ত হন আরও ২৬ জন নিরাপত্তাপ্রহরী। এতে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩।

কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, রাজশাহী নির্বাচন অফিসের অস্থায়ী কর্মীদের বড় অংশের চুক্তির মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। এর আগে ১৪ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় একটি নির্দেশনা দেয়।

সেখানে বলা হয়, চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন করে সেবা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করতে হবে। এই নির্দেশনার পর ডিপিএম পদ্ধতিতে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে কাজ দেওয়া হয়।

তবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, চাকরি বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি গড়ে ৭৫ হাজার টাকা করে হিসাব করলে ১৪৩ জনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত একাধিক ব্যক্তি কেএসএফের নিয়োগ বাণিজ্যের কথা জানিয়েছেন। একজন বলেছেন, ‘চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি উল্টো কোপানির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চাকরি নিতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মী বলেন, ‘পুরো সিস্টেম ছিল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা না নিলেও কোম্পানির সঙ্গে তাদের যোগসাজশ ছিল বলে আমাদের ধারণা। কারণ যারা টাকা দেয়নি, তাদের অনেকের চাকরি হয়নি।’

১৪৩ জন আউটসোর্সিং তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রত্যাশীকে গত ৬ জুলাই নিয়োগপত্র নিতে ডাকা হয় কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের শ্যামলী কার্যালয়ে। সেখানে গেলে তাদের কাছে নিয়োগপত্রের বিনিময়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা অফিসের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ডিপিএম একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতি, জরুরি প্রয়োজন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আমরাও সেটিই করেছি। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড আমাদের তিনটি অঞ্চলে কাজ করছে। সবকিছু বিবেচনা করে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের আগের টেন্ডারের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পুনরায় ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেলে নিয়োগ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেত। এতে করে নির্বাচন অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় এবং কর্মরত শ্রমিকদের কয়েক মাস বেতনহীন থাকার আশঙ্কা ছিল। তাই অফিসের গতিশীলতা বজায় বাখতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ বক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে। এখানে আমাদের হাতে কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন জনবল চেয়েছে, আমরা দিয়েছি।’

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা আমরা তৈরি করিনি। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান স্যার ৩০ জুন আমাদের একটি তালিকা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী চুক্তি হয়েছে। যেহেতু দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী চুক্তি হয়েছে। যেহেতু কোনও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং পুরোনো কর্মীরাই তাদের পদে বহাল আছেন, তাই টাকা নেওয়ার সুযোগ বা কারণ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে ব্যক্তিগতভাবে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠানের নয়।’

ঢাকায় শ্যামলীতে কেএসএফের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, ‘একদিনে সব নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাদের পছন্দের ২০-৩০ জনকে ওই তালিকায় ঢোকানোর জন্য অনৈতিক চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকার বাইরে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না থাকার পক্ষটি হট্টগোল তৈরি করে।’

নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না থাকা, ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এটি ইতিবাচকভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। যেহেতু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের অনিয়ম হলে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠছে জাতীয় সংসদ

অনলাইন ডেস্ক
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠছে জাতীয় সংসদ

১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। এটি ছিল ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। ২৬ কর্মদিবসের এ অধিবেশন দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক রচনা করেছে। প্রাণবন্ত সংসদ, সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল আচরণ, জাতীয় সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনার কারণে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বর্তমান সংসদ। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এ সংসদ অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা : বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে। এর অন্যতম কারণ কার্যকর সংসদের অনুপস্থিতি। স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদ ছিল বিরোধী দলশূন্য। কিন্তু সেই সংসদেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। ১৯৭৫-এর পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা চালু হয়। নব্বইয়ের গণ আন্দোলনে বিজয়ের পর জনগণের আকাক্সক্ষার আলোকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ মসৃণ ছিল না। বারবার সংসদকে অকার্যকর করার চেষ্টা, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ফলে সংসদ জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। ১৯৯১ সালে বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে পদত্যাগ করলে সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত অংশগ্রহণ করেনি। নির্বাচনের পর কেবল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে সংসদ বিলুপ্ত করা হয়। পরের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ আলোচিত ছিল কুৎসিত ভাষায় আক্রমণের জন্য। জনগণের এজেন্ডা নিয়ে কথা বলার চেয়ে সরকার ও বিরোধী দলের কাদা ছোড়াছুড়ির কারণে এ সংসদ ছিল সমালোচিত। এ প্রবণতা আরও তীব্র হয় ২০০১ সালের সংসদে। বিরোধী দল সংসদে সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নেয়। ফলে সংসদ হয়ে যায় অকার্যকর। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই অস্থিরতার সুযোগে ২০০৭ সালে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি ক্ষমতা দখল করে। আসে এক-এগারো। দীর্ঘ দুই বছর মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অনির্বাচিত সরকার সেনা ও সুশীল সমাজের সমর্থনে দেশ চালায়। ২০০৮-এর নির্বাচনের পর দেশবাসী আশা করেছিল এবার গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর সংসদকে রাবার স্ট্যাম্প বানিয়ে যা খুশি করা হয়। নিজেদের স্বার্থে সংবিধান কাটাছেঁডা করা, বিরোধী দলকে কথা বলতে না দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত গণতন্ত্রই হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ এর আমি-ডামি নির্বাচন গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। সংসদ পরিণত হয় সার্কাসে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। যেখানে মানুষের লড়াইয়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভোটের অধিকার আর জনগণের ক্ষমতায়ন। এবারের সংসদের কাছে তাই দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা অনেক। জনগণ সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ দেখতে চায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ইতিবাচক যাত্রা : জনগণ তাদের সমস্যার কথা যেন জাতীয় সংসদে আলোচনা হয় সেটি আশা করে। সংসদের প্রথম দুটি অধিবেশন মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণে অনেকটাই সফল হয়েছে। আর এটি সফল করতে প্রধান ভূমিকা রাখছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতার দায়িত্বশীল ভূমিকা জনগণের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। অতীতের ১২টি সংসদের সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যালোচনা করে সংসদ নেতা প্রথম থেকেই সংসদ কার্যকর ও অর্থবহ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সংসদে উপস্থিতি : অতীতে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনীহা। বিশেষ করে মন্ত্রীরা সংসদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার চেয়ে নিজেদের মন্ত্রণালয়ে বেশি সময় দিতেন। সরকারি দলের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলও সংসদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলত। বহুবার কোরামের অভাবে সংসদ অধিবেশন শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম গুরুত্ব হারিয়েছে। অতীতের এসব ঘটনা অত্যন্ত তীক্ষèভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন বর্তমান সংসদ নেতা। এজন্যই প্রথম অধিবেশন থেকে তিনি সংসদে উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাজের চাপ সামাল দিয়ে অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদে হাজির হয়ে তারেক রহমান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করে তিনি সরকারি দলের অন্য সদস্যদের সংসদে ঠিক সময়ে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী সরকারি কাজে সিলেটে গিয়ে বিমানবন্দরে কয়েকজন সংসদ সদস্যকে দেখে তাঁদের সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। এটা ছিল সব সংসদ সদস্যের জন্য একটি বার্তা। সংসদ নেতার উপস্থিতির কারণে মন্ত্রীরাও সংসদে ছিলেন নিয়মিত। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতার ভূমিকাও প্রশংসনীয়। সংসদ নেতার মতো তিনিও সংসদে উপস্থিতির ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রতিদিনই তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে সবার আগে উপস্থিত থেকেছেন। এতে অন্য বিরোধী দলের সদস্যরাও সংসদে উপস্থিতির বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সংসদ ছিল প্রাণবন্ত।

গঠনমূলক আলোচনা : অতীতে আমরা দেখেছি, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে খুব কম। বিরোধী দলের একমাত্র কাজ ছিল সরকারের সমালোচনা। তারা সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করত না। আবার ১৯৮৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদে আমরা দেখেছি গৃহপালিত বিরোধী দল। যাদের একমাত্র কাজ ছিল সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন। ফলে সংসদ তামাশায় পরিণত হয়েছিল। সংসদে সরকারি দল বিরোধী দলকে কথা বলতে দিত না। বিরোধী দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দমিয়ে রাখা হতো। আক্রমণাত্মক ভাষায় সমালোচনা করা হতো বিরোধী দলকে, এমনকি মৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎসিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হতো। সংসদ হবে ভারসাম্যের। এখানে সরকারি দল বিরোধী দলকে কথা বলার অধিকার দেবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু চাপিয়ে দেবে না। অন্যদিকে বিরোধী দল অন্ধের মতো শুধু সরকারের সমালোচনা করবে না। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করবে, ভুল ধরিয়ে দেবে, খারাপ কাজের সমালোচনা করবে। এ রকম একটি আদর্শ সংসদের স্বপ্ন বিগত ৫৫ বছরে পূরণ হয়নি। কিন্তু এবারের প্রথম দুটি অধিবেশন, বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশন শেষে বলাই যায়, বর্তমান জাতীয় সংসদ সেই স্বপ্নের পথে হাঁটছে।

বিরোধী দলের প্রশংসনীয় ভূমিকা : সংসদ নেতা বিরোধী দলকে সমান সুযোগ ও সম্মান দিয়েছেন। সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও একাধিক সংসদীয় কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে তারেক রহমান বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিরোধী দলের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি একটি নতুন ধারার সূচনা করেছেন। বাজেট অধিবেশনে আমরা দেখেছি, সংসদ নেতা অধিবেশনের বিরতিতে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। এই ছোট্ট ঘটনাটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ। এ ক্ষেত্রে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ভূমিকাও ছিল প্রশংসনীয়। তাঁরা বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। সংসদ প্রাণবন্ত রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন।

সংসদে সুস্থ আলোচনা : এবারের সংসদে আরেকটি বিষয় সবার দৃষ্টি কেড়েছে। সেটি হলো সংসদে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য অনেকটাই কমে এসেছে। যদিও তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন সদস্যকে দেখা গেছে অনভিপ্রেত বিষয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করতে। সংসদে নেই এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য প্রদানের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এটি সংসদের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আশা করি তরুণ প্রজন্মের সংসদ সদস্যরা দ্রুত সংসদের রীতিনীতি রপ্ত করবেন। সংসদ নেতার উদ্যোগে যে চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা নষ্ট করবেন না।

জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা : এবারের সংসদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের চারপাশে সব ধরনের জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করছেন। বন্যা, হামে শিশুর মৃত্যু, ইউনূস সরকারের দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, বৃষ্টির কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ইত্যাদি সব বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জাতীয় সংসদ। সরকারি দল বিরোধী দলের যেকোনো ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে সংসদ হয়ে উঠেছে জনগণের আস্থার প্রতীক।

সংসদ নেতার দিকনির্দেশনা : প্রধানমন্ত্রী কেবল সংসদে উপস্থিতির রেকর্ড করেননি, তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা দেখিয়েছেন জাতীয় সংসদে। প্রতি সপ্তাহে প্রশ্নোত্তর পর্বে নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যেমন বন্ধ কলকারখানা চালু, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, সব গৃহস্থালিতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় গ্যাসসংকট সমাধানের উদ্যোগ ইত্যাদি বিষয় সংসদে তুলে ধরার মাধ্যমে জনগণকে সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের জবাবদিহিতা, যার সূচনা করলেন সংসদ নেতা। এবারের সংসদে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রকাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরেছেন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সবার ওপরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে আপস নেই। এ বক্তব্যের মাধ্যমে জাতির কাছে দেশের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হলো সংসদ। কিন্তু অতীতে সংসদকে সরকারি দলের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সংসদ নেতা বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছেন।

চার মাস ধরে অচল দুদক

ঝুলে আছে ৮ হাজার অভিযোগ চেয়ারম্যান ও কমিশনার হতে চান ৩২৭ জন

অনলাইন ডেস্ক
চার মাস ধরে অচল দুদক

দেশের একমাত্র দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত এখন অচল। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় মামলা দায়ের, আদালতে চার্জশিট দাখিল, সম্পত্তি জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং আসামি গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কমিশনের বিকল্প হিসেবে দুদক সচিবের ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। সে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কমিশনের অনুমোদন না পাওয়ায় চার মাসে ৮ হাজারের বেশি অভিযোগের নথি এখন ফাইলবন্দি।

৩ মার্চ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেন। দীর্ঘ চার মাসের বেশি পার হলেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার। তবে এরই মধ্যে সার্চ কমিটির আহ্বানে চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে ৩২৭ জন আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। সোমবার ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি নতুন দুর্নীতির অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ছে। কমিশন না থাকায় নতুন কোনো অনুসন্ধানের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। মামলা দায়ের ও চার্জশিট অনুমোদনের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে রুটিন কার্যক্রমগুলো চলছে।’

দুদক সূত্র জানান, কমিশনের পদত্যাগের আগে যেসব অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছিল, সেগুলোর অনেকটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় পরিচালক ও মহাপরিচালক পর্যায়ে ফাইল প্রস্তুত হলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকায় সেগুলো আর এগোচ্ছে না। ফলে ৮ হাজারের বেশি নথি ও মামলাসংক্রান্ত নানান ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সাবেক জেলা জজ মির্জা মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ।

পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও তারা দায়িত্ব পালন করেন এক বছর দুই মাস। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চার মাস দুদকের কমিশনারহীন অবস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উদাসীনতা ও আগ্রহহীনতার পরিচায়ক; যা ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা, নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদ, তথা জুলাই অভীষ্টের বিপরীতমুখী এবং বাস্তবে দুর্নীতির সহায়ক।’

তিনি বলেন, ‘যে আস্থাহীনতার মুখোমুখি সরকার নিজেকে ঠেলে দিয়েছে, তার মোকাবেলায় বিলম্বে হলেও সার্চ কমিটি গঠিত হওয়ায় দেশের মানুষ আশা করবে দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের যেন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত থেকে সৎসাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’

জানা গেছে, দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া নতুন অনুসন্ধান, তদন্ত কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। যদিও আইনে কমিশন পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের কথা বলা রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে কী হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের সংশোধিত ধারাগুলোই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না সংসদ নতুন আইন করে সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিল করে। সরকার নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের আগে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে।

২ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারক মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠায়। সার্চ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে।

২ জুলাই দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করে সার্চ কমিটি। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মঈদুল ইসলাম বলেন, ‘কমিশন না থাকলে দুর্নীতিবাজদের সুবিধা বেশি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও নষ্ট হয়ে যায়। এতে তদন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আসামিরা সুবিধা পান।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

৮ জেলার জন্য দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

অনলাইন ডেস্ক
৮ জেলার জন্য দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

দেশের আট জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। 

রবিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।