• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৯ ‍জুলাই, ২০২৬

ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকার কার্যকর আট উপায়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকার কার্যকর আট উপায়
সংগৃহীত ছবি

ঝগড়া-বিবাদ এমন একটি আগুন, যা মুহূর্তেই ভালোবাসাকে ঘৃণায়, বন্ধুত্বকে শত্রুতায় এবং শান্তিকে অশান্তিতে পরিণত করে। একটি কঠোর বাক্য, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অহংকারের কারণে বহু পরিবার ভেঙে যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আজকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এই সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। মতের অমিলকে অনেকেই শত্রুতায় রূপ দেন, ফলে মানুষ ধীরে ধীরে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলছে।

ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকার কার্যকর উপায়
১. আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জন

ঝগড়া-বিবাদের অন্যতম কারণ হলো আল্লাহর ভয় কমে যাওয়া। যে ব্যক্তি প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে—এ কথা মনে রাখে, সে সহজে অন্যায় কথা বলে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন কর।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ১)

২. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
অধিকাংশ ঝগড়ার সূচনা হয় রাগ থেকে। ইসলাম রাগ দমনকে ঈমানদারের অন্যতম গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সচ্ছলতা ও সংকট উভয় অবস্থায় ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

৩. অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিহার করা
সব কথার জবাব দেওয়া বা প্রতিটি বিষয়ে বিতর্কে জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও তর্ক-বিতর্ক পরিহার করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮০০)

৪. নম্র ভাষায় কথা বলা
কঠোর ভাষা মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে, আর কোমল ভাষা কঠিন হৃদয়ও নরম করে দেয়। আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে ফিরআউনের কাছে পাঠিয়ে বলেন, ‘তোমরা তার সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলো; হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৪)

৫. ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোলা
ক্ষমা মানুষের মর্যাদা বাড়ায়, কমায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ক্ষমা করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯৯)

৬. গীবত, অপবাদ ও কুৎসা থেকে বিরত থাকা
অনেক ঝগড়ার মূল কারণ পরনিন্দা, অপবাদ এবং একের কথা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গিবত কোরো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

৭. সালাম প্রচার ও সম্পর্ক দৃঢ় করা
সালাম, হাসিমুখে কথা বলা এবং খোঁজখবর নেওয়া অনেক বিরোধের অবসান ঘটায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৪)

৮. বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা
দুই মুসলিমের মধ্যে মিল-মহব্বত প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের কথা বলব না, যা নফল নামাজ, রোজা ও সদকার চেয়েও উত্তম? তা হলো—পারস্পরিক সম্পর্ক মীমাংসা করে দেওয়া।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫০৯)

ঝগড়া-বিবাদ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে, ক্ষমা করতে, কোমল ভাষায় কথা বলতে, অহেতুক তর্ক এড়াতে এবং মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। যে ব্যক্তি নিজের নফসকে সংযত রাখতে পারে, অন্যের ভুল ক্ষমা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পর্ক রক্ষা করে, সে দুনিয়াতেও সম্মানিত হয় এবং আখিরাতেও মহাপুরস্কারের অধিকারী হয়।

তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে শান্তির দূত হওয়ার চেষ্টা করি। মতভেদকে শত্রুতায় নয়, প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার মাধ্যমে সমাধান করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে পবিত্র করুন এবং পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সার্জারি বা লেজার পদ্ধতিতে চুল গজানো কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

মুফতি ওমর বিন নাছির
সার্জারি বা লেজার পদ্ধতিতে চুল গজানো কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে
সংগৃহীত ছবি

চুল মানুষের সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অল্প বয়সে কোনো রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্যান্য চিকিৎসাগত কারণে মাথার চুল ঝরে গেলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে বিবাহ, সামাজিক জীবন কিংবা আত্মবিশ্বাসের  ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এখন হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট, লেজার থেরাপি এবং অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন করে চুল গজানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ইসলামের দৃষ্টিতে এসব চিকিৎসা গ্রহণ করা কি বৈধ?

কোরআন-সুন্নাহ এবং সমকালীন ফকিহদের গবেষণা থেকে জানা যায়, রোগ বা শারীরিক ত্রুটি দূর করার উদ্দেশ্যে চিকিৎসার মাধ্যমে চুল গজানো বৈধ এবং এতে শরীয়তের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, যদি পদ্ধতিটি নিজেই শরিয়তসম্মত হয় এবং এতে হারাম কোনো উপাদান বা অন্যায় কাজ না থাকে। কেননা ইসলাম রোগের চিকিৎসা গ্রহণকে উৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার চিকিৎসাও তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫; জামে তিরমিজি, হাদিস: ২০৩৮)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের ব্যাপারে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭৮)

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র আরো বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তিনি তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, মানুষের কষ্ট ও অসুবিধা দূর করার বৈধ উপায় গ্রহণ ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য।

সহিহ বুখারিতে বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসে বনি ইসরাঈলের তিন ব্যক্তির ঘটনা এসেছে—একজন কুষ্ঠরোগী, একজন টাকমাথা এবং একজন অন্ধ ব্যক্তি। ফেরেশতা টাকমাথা ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি সবচেয়ে বেশি কী চাও?’ তিনি বললেন, ‘আমি সুন্দর চুল চাই এবং আমার এই টাক যেন দূর হয়ে যায়। কারণ মানুষ আমার প্রতি বিরূপ আচরণ করে।’ অতঃপর ফেরেশতা তাকে স্পর্শ করলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তার টাক দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর চুল দান করা হলো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৬৪)

এই হাদিস থেকে আলেমগণ গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতিমালা গ্রহণ করেছেন। যদি টাক দূর করে সুন্দর চুল লাভ করা শরিয়তবিরোধী হতো, তবে আল্লাহর প্রেরিত ফেরেশতা তা করতেন না। বরং এতে বোঝা যায়, শারীরিক ত্রুটি দূর করা এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা বৈধ।

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট কি জায়েজ?
অনেকেই মনে করেন, চুল প্রতিস্থাপন হয়তো আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সমকালীন অধিকাংশ ফকিহের মতে বিষয়টি এমন নয়। কারণ— এটি নতুন কোনো অস্বাভাবিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করা নয়। বরং হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক চুল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। এটি রোগ বা ত্রুটির চিকিৎসা। এতে মানুষের স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়। অতএব, এটি আল্লাহর সৃষ্টিতে নিষিদ্ধ পরিবর্তন (তাগয়্যুরে খালকিল্লাহ) নয়; বরং বৈধ চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত।

সমকালীন আলেমদের ফতোয়া
সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম ড. সাদ বিন তুর্কি আল-খাতলান বলেন, ‘চুল প্রতিস্থাপন বা চিকিৎসার মাধ্যমে নতুন চুল গজানো আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করা নয়; বরং এটি একটি শারীরিক ত্রুটি দূর করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি বৈধ। (তথ্যসূত্র : চুল প্রতিস্থাপন ও অপসারণ বিষয়ক ফতোয়া, ড. সাদ বিন তুর্কি আল-খাতলান, রিয়াদ, পৃ. ২০–২১)

যেসব শর্ত বিশেষভাবে লক্ষনীয়
চুল গজানোর চিকিৎসা বৈধ হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—

১. উদ্দেশ্য হতে হবে রোগ বা শারীরিক ত্রুটি দূর করা, অহংকার বা প্রতারণা নয়।
২. চিকিৎসা পদ্ধতি নিরাপদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হতে হবে।
৩. হারাম উপাদান বা শরিয়তবিরোধী কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না।
৪. চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণা বা বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য থাকা যাবে না।

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং শারীরিক ত্রুটি দূর করার বৈধ চিকিৎসাকে সমর্থন করে। অল্প বয়সে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসাগত কারণে চুল পড়ে গেলে, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কিংবা বৈবাহিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট, লেজার থেরাপি বা অনুরূপ বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েজ। কারণ এটি আল্লাহর সৃষ্টিতে নিষিদ্ধ পরিবর্তন নয়; বরং হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা।

হাদিসের বাণী

মৃত্যুপরবর্তী অসিয়তের গুরুত্ব, ধরন ও নমুনা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মৃত্যুপরবর্তী অসিয়তের গুরুত্ব, ধরন ও নমুনা
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের কাছে অসিয়ত করার মতো কোনো কিছু থাকলে, অসিয়ত ব্যতীত তার দু রাত অতিবাহিত করা উচিত না। বরং তার কাছে তার অসিয়তনামা থাকা অবস্থায় রাত অতিবাহিত করা উচিত।

সহিহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় তিন রাত অতিবাহিত করার কথা আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে এ কথা বলতে শোনার পর থেকে আমার এক রাতও অসিয়তনামাবিহীন কাটেনি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৩৮; সহিহ মুসলিম: হাদিস : ৪২০৪; মুসনাদু আহমাদ, হাদিস : ৪৫৭৫)

অসিয়তের একটি নমুনা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর। আমি মুহাম্মাদ/মুসাম্মাৎ......... মহান আল্লাহ, ও তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রেখে-জেনে-বুঝে, সজ্ঞান ও সুস্থ মস্তিষ্কে আমার স্ত্রী-সন্তান ও (ওয়ারিশদের) এ মর্মে অসিয়ত করে যাচ্ছি যে, তোমরা সদা-সর্বদা ইসলামের উপর অটল ও অবিচল থাকবে এবং তোমাদের মৃত্যু যেন হয় ঈমানের সঙ্গে, সেজন্য সচেষ্ট থাকবে। সদা-সর্বদা অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে চলবে। তোমরা সকলে মিলেমিশে থাকবে। পরস্পর সুন্দর আচরণ করবে। আত্মীয়তার ও রক্তসম্পর্ক বজায় রেখে চলবে। আত্মীয়-স্বজন ও আপনজনদের দাওয়াত দেবে ও তাদের দাওয়াত কবুল করবে। একজনের প্রয়োজনে অপরজন এগিয়ে আসবে, পরস্পর সহযোগিতা করবে। আল্লাহ না করুন তোমাদের কারোর অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিলে অপরজনেরা তার পাশে এসে দাঁড়াবে। আল্লাহ তোমাদের ইহকাল ও পরকালীন মঙ্গল দান করুন।

আমার মৃত্যুর পর তোমরা কেউই বিলাপ করে কান্নাকাটি করবে না। জানাজা ও কাফন-দাফনে সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক সবকিছু সম্পন্ন করবে। সাত দিনে বা চল্লিশ দিনে কোনো খানাপিনার আয়োজন করবে না। বিদআত ও শরিয়ত বহির্ভূত অন্য কোনো কাজ করবে না। আমি শরিয়তের পরিপন্থী প্রত্যেক কর্ম ও কথা থেকে সম্পর্কহীন। আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা টাকার পরিমাণ, টাকা, প্রথমে আমার কৃত ঋণ পরিশোধ, তারপর অমুক মসজিদ, অমুক মাদরাসা বা অমুক ব্যক্তিকে এবং অমুক ইয়াতিমখানায় এত টাকা দান করে দিও। বা কোনো আপনজন সন্তানাদি মারা গেলে নাতি-নাতনী বা পালকপুত্রের জন্য কোনো টাকা দিতে চাইলে এভাবে বলবে যে, অমুক আমার নাতনী তাদের জন্য এই অংশ বা এই জমিজমা বা ইত্যাদির অসিয়ত করে গেলাম। এই আমার অসিয়ত।

আমার এ অসিয়তনামায় কেউ কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না, বা ত্রুটি করতে পারবে না। করলে এর পাপের বোঝা তার উপরই বর্তাবে। আর আল্লাহর নিকট সকলের জন্য সৎকর্মের তাওফিক এবং তার দয়া কামনা করি।

সাক্ষী (১) -----নাম :-----পিতা :-----
সাক্ষী (২)-----নাম :------পিতা :-----

তারিখ :---
স্বাক্ষর :-----

মক্কা জাদুঘরে কোরআনের আয়াত সংরক্ষণের বিভিন্ন উপকরণ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মক্কা জাদুঘরে কোরআনের আয়াত সংরক্ষণের বিভিন্ন উপকরণ
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কোরআনের বাণী সংরক্ষণের সেই গৌরবময় ইতিহাস যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক জেলার কোরআন জাদুঘরে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই জাদুঘরে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে মহানবী (সা.)-এর যুগে পবিত্র কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণের বাস্তবসম্মত প্রতিরূপ। 

জাদুঘরে প্রদর্শিত উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত পশুর চামড়া, খেজুর গাছের ডাঁটা, কাঠ, পাথরের টুকরো এবং পশুর কাঁধ ও পাঁজরের হাড়ের প্রতিরূপ। মহানবী (সা.)-এর ওহি-লিপিকার সাহাবিগণ অবতীর্ণ আয়াতগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণের জন্য এসব উপকরণই ব্যবহার করতেন। বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে প্রক্রিয়াজাত চামড়া, যা আরবিতে ‘আদিম’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সে সময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য লেখার মাধ্যম। মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন লেখা সংরক্ষণে সক্ষম হওয়ায় কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। 

জাদুঘরের প্রতিটি প্রদর্শনীর সঙ্গে রয়েছে বিস্তারিত তথ্য, যেখানে সংশ্লিষ্ট উপকরণের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারের কারণ এবং কীভাবে তার ওপর লেখা হতো—তা সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা ইসলামের প্রাথমিক যুগে কোরআন সংরক্ষণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করতে পারেন।

এখানে আরো তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো বিভিন্ন উপকরণে সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে সেগুলো একত্রিত করে একক মুসহাফে সংকলিত হয়। এ প্রদর্শনী কোরআন সংরক্ষণের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের অসাধারণ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল স্মারক।

হেরা সাংস্কৃতিক জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই কোরআন জাদুঘর আধুনিক প্রদর্শনী কক্ষ, ডিজিটাল উপস্থাপনা এবং ইন্টারেক্টিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোরআনের ইতিহাস, অবতীর্ণ হওয়ার ধাপ, লিপিবদ্ধকরণ এবং সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়কে দর্শনার্থীদের সামনে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করছে।
তথ্যসূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি ও দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।