• ই-পেপার

সার্জারি বা লেজার পদ্ধতিতে চুল গজানো কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

সৌদির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী ৩৪ বাংলাদেশিকে সম্মাননা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সৌদির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী ৩৪ বাংলাদেশিকে সম্মাননা
শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর মরণোত্তর সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন তাঁর ছেলে শায়খ উসামা খন্দকার। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জনকারী ৩৪ জনকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে এ প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌদি আরব থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ইসলামী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রীতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত খালেদ বিন সাঈদ আলে হাদাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী। 

1এ প্রীতি অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-কে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সম্মাননা পদক পাওয়া উল্লেখযোগ্য গ্রাজুয়েটদের মধ্যে ছিলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সাবেক শিক্ষক ড. মাওলানা আব্দুস সালাম রিয়াদি প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে আরবি ভাষায় বক্তব্য দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা চাই না, সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যগত ও সাধারণ চাকরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। বরং আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে আশা করি, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে একেকজন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবেন।’

2তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যেকোনো দূরদর্শী ও অগ্রগামী চিন্তাভাবনাকে গ্রহণ করতে অত্যন্ত আন্তরিক। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদের উচিত, উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে—যার যার নিজস্ব অঙ্গনে—নেতৃত্ব দেওয়া এবং সমাজে মধ্যপন্থা, পরমতসহিষ্ণুতা ও আলোকিত চিন্তাধারার প্রসারে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।’

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছর সংগঠনটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা ৩৪ জন গ্রাজুয়েটকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। এ অনুষ্ঠানে শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-কে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের ১৯৯৮ সালে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে শায়খ উসামা খন্দকার।

উল্লেখ্য, সৌদি ইউনিভার্সিটিস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (এসইউএএবি) বা সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ হলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের একটি সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরি করা। এই সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছর সেমিনার, আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সৌদি আরব থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ড. আবদুস সালাম রিয়াদিকে বিশেষ সম্মাননা

অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরব থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ড. আবদুস সালাম রিয়াদিকে বিশেষ সম্মাননা
ড. আবদুস সালাম রিয়াদিকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সদ্য পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্নকারী ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদিকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে এ প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ। 

সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রীতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত খালেদ বিন সাঈদ আলে হাদাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌদি আরব থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা ব্যক্তিবর্গ, ইসলামী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। 

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি বছর এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা ৩৪ জনকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। এ সময় শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-কে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের ১৯৯৮ সালে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে শায়খ উসামা খন্দকার।

উল্লেখ্য, সৌদি ইউনিভার্সিটিস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (এসইউএএবি) বা সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ হলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের একটি সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরি করা। এই সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছর সেমিনার, আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ড. মাওলানা আব্দুস সালাম রিয়াদি ১৯৯৬ সালে দেশের অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে সৌদি আরব গিয়ে বিশ্বখ্যাত কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০২ সালে আরবি ভাষার ওপর উচ্চতর ডিপ্লোমা এবং ২০০৭ সালে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে দেশে ফিরে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্বর্ণপদক পেয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

অতঃপর দীর্ঘ গবেষণার পর ২০২৫ সালে ড. মাওলানা আব্দুস সালাম কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার শিরোনাম ছিল- ‘বাংলাদেশে হাদিস চর্চা ও মুহাদ্দিসগণ : একটি অন্বেষণ ও বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা’। 

দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদি বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আল-জামিয়া আল-ইমদাদিয়া আযিযুল উলুম পোকখালি কক্সবাজার মাদরাসায় কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন। পরে সৌদি আরব যাওয়ার পর তিনি রিয়াদের দাওয়াহ ও গাইডনেস সেন্টারে শিক্ষক ও দাঈ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এবং দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল মা‘আরিফ আল-ইসলামিয়াতে তিনি মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জামিয়াতুশ শায়খ জমির উদ্দীন আল-ইসলামিয়ার শরিয়াহ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে অতিথি হিসেবে তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ও আরবিতে তার কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। 
 

ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকার কার্যকর ৮ উপায়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকার কার্যকর ৮ উপায়
সংগৃহীত ছবি

ঝগড়া-বিবাদ এমন একটি আগুন, যা মুহূর্তেই ভালোবাসাকে ঘৃণায়, বন্ধুত্বকে শত্রুতায় এবং শান্তিকে অশান্তিতে পরিণত করে। একটি কঠোর বাক্য, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অহংকারের কারণে বহু পরিবার ভেঙে যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আজকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এই সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। মতের অমিলকে অনেকেই শত্রুতায় রূপ দেন, ফলে মানুষ ধীরে ধীরে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলছে।

ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকার কার্যকর উপায়
১. আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জন

ঝগড়া-বিবাদের অন্যতম কারণ হলো আল্লাহর ভয় কমে যাওয়া। যে ব্যক্তি প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে—এ কথা মনে রাখে, সে সহজে অন্যায় কথা বলে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন কর।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ১)

২. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
অধিকাংশ ঝগড়ার সূচনা হয় রাগ থেকে। ইসলাম রাগ দমনকে ঈমানদারের অন্যতম গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সচ্ছলতা ও সংকট উভয় অবস্থায় ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

৩. অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিহার করা
সব কথার জবাব দেওয়া বা প্রতিটি বিষয়ে বিতর্কে জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও তর্ক-বিতর্ক পরিহার করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮০০)

৪. নম্র ভাষায় কথা বলা
কঠোর ভাষা মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে, আর কোমল ভাষা কঠিন হৃদয়ও নরম করে দেয়। আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে ফিরআউনের কাছে পাঠিয়ে বলেন, ‘তোমরা তার সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলো; হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৪)

৫. ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোলা
ক্ষমা মানুষের মর্যাদা বাড়ায়, কমায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ক্ষমা করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯৯)

৬. গীবত, অপবাদ ও কুৎসা থেকে বিরত থাকা
অনেক ঝগড়ার মূল কারণ পরনিন্দা, অপবাদ এবং একের কথা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গিবত কোরো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

৭. সালাম প্রচার ও সম্পর্ক দৃঢ় করা
সালাম, হাসিমুখে কথা বলা এবং খোঁজখবর নেওয়া অনেক বিরোধের অবসান ঘটায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৪)

৮. বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা
দুই মুসলিমের মধ্যে মিল-মহব্বত প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের কথা বলব না, যা নফল নামাজ, রোজা ও সদকার চেয়েও উত্তম? তা হলো—পারস্পরিক সম্পর্ক মীমাংসা করে দেওয়া।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫০৯)

ঝগড়া-বিবাদ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে, ক্ষমা করতে, কোমল ভাষায় কথা বলতে, অহেতুক তর্ক এড়াতে এবং মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। যে ব্যক্তি নিজের নফসকে সংযত রাখতে পারে, অন্যের ভুল ক্ষমা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পর্ক রক্ষা করে, সে দুনিয়াতেও সম্মানিত হয় এবং আখিরাতেও মহাপুরস্কারের অধিকারী হয়।

তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে শান্তির দূত হওয়ার চেষ্টা করি। মতভেদকে শত্রুতায় নয়, প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার মাধ্যমে সমাধান করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে পবিত্র করুন এবং পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

মৃত্যু-পরবর্তী অসিয়তের গুরুত্ব, ধরন ও নমুনা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মৃত্যু-পরবর্তী অসিয়তের গুরুত্ব, ধরন ও নমুনা
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের কাছে অসিয়ত করার মতো কোনো কিছু থাকলে, অসিয়ত ব্যতীত তার দু রাত অতিবাহিত করা উচিত না। বরং তার কাছে তার অসিয়তনামা থাকা অবস্থায় রাত অতিবাহিত করা উচিত।

সহিহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় তিন রাত অতিবাহিত করার কথা আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে এ কথা বলতে শোনার পর থেকে আমার এক রাতও অসিয়তনামাবিহীন কাটেনি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৩৮; সহিহ মুসলিম: হাদিস : ৪২০৪; মুসনাদু আহমাদ, হাদিস : ৪৫৭৫)

অসিয়তের একটি নমুনা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর। আমি মুহাম্মাদ/মুসাম্মাৎ......... মহান আল্লাহ, ও তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রেখে-জেনে-বুঝে, সজ্ঞান ও সুস্থ মস্তিষ্কে আমার স্ত্রী-সন্তান ও (ওয়ারিশদের) এ মর্মে অসিয়ত করে যাচ্ছি যে, তোমরা সদা-সর্বদা ইসলামের উপর অটল ও অবিচল থাকবে এবং তোমাদের মৃত্যু যেন হয় ঈমানের সঙ্গে, সেজন্য সচেষ্ট থাকবে। সদা-সর্বদা অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে চলবে। তোমরা সকলে মিলেমিশে থাকবে। পরস্পর সুন্দর আচরণ করবে। আত্মীয়তার ও রক্তসম্পর্ক বজায় রেখে চলবে। আত্মীয়-স্বজন ও আপনজনদের দাওয়াত দেবে ও তাদের দাওয়াত কবুল করবে। একজনের প্রয়োজনে অপরজন এগিয়ে আসবে, পরস্পর সহযোগিতা করবে। আল্লাহ না করুন তোমাদের কারোর অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিলে অপরজনেরা তার পাশে এসে দাঁড়াবে। আল্লাহ তোমাদের ইহকাল ও পরকালীন মঙ্গল দান করুন।

আমার মৃত্যুর পর তোমরা কেউই বিলাপ করে কান্নাকাটি করবে না। জানাজা ও কাফন-দাফনে সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক সবকিছু সম্পন্ন করবে। সাত দিনে বা চল্লিশ দিনে কোনো খানাপিনার আয়োজন করবে না। বিদআত ও শরিয়ত বহির্ভূত অন্য কোনো কাজ করবে না। আমি শরিয়তের পরিপন্থী প্রত্যেক কর্ম ও কথা থেকে সম্পর্কহীন। আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা টাকার পরিমাণ, টাকা, প্রথমে আমার কৃত ঋণ পরিশোধ, তারপর অমুক মসজিদ, অমুক মাদরাসা বা অমুক ব্যক্তিকে এবং অমুক ইয়াতিমখানায় এত টাকা দান করে দিও। বা কোনো আপনজন সন্তানাদি মারা গেলে নাতি-নাতনী বা পালকপুত্রের জন্য কোনো টাকা দিতে চাইলে এভাবে বলবে যে, অমুক আমার নাতনী তাদের জন্য এই অংশ বা এই জমিজমা বা ইত্যাদির অসিয়ত করে গেলাম। এই আমার অসিয়ত।

আমার এ অসিয়তনামায় কেউ কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না, বা ত্রুটি করতে পারবে না। করলে এর পাপের বোঝা তার উপরই বর্তাবে। আর আল্লাহর নিকট সকলের জন্য সৎকর্মের তাওফিক এবং তার দয়া কামনা করি।

সাক্ষী (১) -----নাম :-----পিতা :-----
সাক্ষী (২)-----নাম :------পিতা :-----

তারিখ :---
স্বাক্ষর :-----