kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারতে ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব বিল পাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব বিল পাস

আজ সোমবার ভারতে লোকসভায় পেশ করা হয় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল। আলোচনার জন্য বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলের একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তোলে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। কিন্তু ভারতজুড়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেও লোকসভায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। আজ স্পিকারের নির্দেশমতো, বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেন সাংসদরা। ২৯৩ জন যেখানে পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সেখানে বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৮২টি। আইনে পরিণত হতে হলে বিলটির এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অনুমোদন পেতে হবে। তবে সেখানে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলো। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই বিলের ফলে পাল্টে যাবে জনবিন্যাসের ধরন, কাজের সুযোগ কমবে, এবং নিজস্ব সংস্কৃতির ক্ষয় হবে। 

কী রয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী ২০১৯ বিলে

নাগরিকত্ব বিলে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংশোধন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্ট্রান অবৈধ অভিবাসীদের যাতে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া যায়, সে কারণেই এই সংশোধনী। বর্তমান আইনে কোনো অভিবাসী ১২ মাস টানা ভারতে বাস করার পর, এবং বিগত ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছর ভারতে বাস করার পর নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সংশোধনী অনুসারে, উক্ত তিনটি দেশ থেকে আসা ওই নির্দিষ্ট ছয়টি ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে ১১ বছরের সময়সীমা কমিয়ে ৫ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিল নিয়ে প্রধান আপত্তির বিষয় হল এখানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের সংবিধানের ১৪নং অনুচ্ছেদে যে সমতার অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে, এ বিল তার পরিপন্থী। তবে সরকারের বক্তব্য, মুসলিম প্রধান বিদেশে যেসব সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় কারণে হিংসার শিকার হন তাদের নাগরিকত্বদানই এ বিলের লক্ষ্য।

বিলের বিরোধিতায় তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ৩৭০ ধারা বিলোপের সময় বলা হয়েছিল এক দেশ-এক সংবিধান। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ত্রিপুরার অনেক জায়গাকে অন্তর্ভক্ত করা হয়নি। এই বিল বিভাজনের উদ্দেশ্য করা হচ্ছে, যা সংবিধানের ১৪নম্বর ধারার পরিপন্থী।

বিলের বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, আজ আমাদের কেন বিল প্রয়োজন হচ্ছে? কারণ স্বাধীনতার পর ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ না করলে আজ আমাদের এই বিল আনতে হতো না। কংগ্রেস আসলে দেশভাগ করেছিল ধর্মের ভিত্তিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা