• ই-পেপার

দাউদ ইব্রাহিম এখন পাকিস্তানেই- বললেন মার্কিন আইনজীবী

অনশনের ২৭ দিন

অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং মেদান্ত মঙ্গলবার গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সোনমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তবে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

২৬ দিন ধরে অনশনরত সোনমের সঙ্গে কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও অনশন ভাঙেননি।

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন ধরে অনশন করছেন। যন্তর মন্তরে ২১ দিন অনশনের পর গত শনিবার পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলী দিল্লি হাইকোর্টে তাকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে মেদান্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদের চলমান অধিবেশনে বিরোধী দল পরীক্ষায় অনিয়ম ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাংলাদেশির

অনলাইন ডেস্ক
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাংলাদেশির

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এ সংকটে ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে এ হার সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশ করা 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি সম্মিলিতভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে দেখা গেছে, গত বছর পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ৩৮.৬ শতাংশ।

এ প্রতিবেদনে 'হেলদি ডায়েট বাস্কেট' বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে এমন খাবারকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। এর মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল, তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড় করতে পারেননি। এ সংকটের হার আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি (৬৬.৬ শতাংশ)। এরপরই এশিয়া (২৮.৯ শতাংশ) এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের (২৫.৭ শতাংশ) অবস্থান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা এখনো সাধ্যের বাইরে। তার মতে, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ এগুলো সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম বাড়ে, কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তা খুব ধীরগতিতে কমে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩.০৯ ডলার পিপিপি (ক্রয়ক্ষমতার সমতা) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখানে 'পিপিপি' বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা বলতে বোঝায়—যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৫৯ ডলারে যে পরিমাণ পণ্য কেনা সম্ভব, বাংলাদেশে ঠিক সেই একই পরিমাণ পণ্য কিনতে প্রয়োজনীয় সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা বা টাকার হিসাব।

এ খরচের বড় অংশ ব্যয় হয় প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে। সেখানে শর্করাজাতীয় খাবারগুলোর পেছনে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম। দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) এবং শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এর খরচ এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম (৩.৯৪ ডলার)।

স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এটি কেনার সামর্থ্য আগের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ বা ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশ বা ৬ কোটি ৭৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাবারের দামের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে এই খরচ ছিল ২.৯৪ ডলার এবং ২০২১ সালে ৩.৪৪ ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই খরচ ৪.৯১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন (৩৭.৪%) থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে (৩২.৭%) নেমে এসেছে।

পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে এ প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার খরচ কমিয়ে আনা। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারসংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্যের অপচয় রোধ করার ওপরও প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

জর্দান হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনা নিহত, মৃত বেড়ে ১৮

অনলাইন ডেস্ক
জর্দান হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনা নিহত, মৃত বেড়ে ১৮
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর নিখোঁজ থাকা তৃতীয় মার্কিন সেনাসদস্যও মারা গেছেন বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, নিহত বলে ধারণা করা ওই সেনাসদস্য হলেন নিউইয়র্কের ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস র‍্যাম্পারস্যাড। জর্দানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মার্কিন সেনাবাহিনী এর আগে একই হামলায় নিহত আরো দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচ এলাকার ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করার জন্য ওই সেনাদের জর্দানে মোতায়েন করা হয়েছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সরাসরি হামলায় এই প্রথম মার্কিন সেনারা নিহত হলেন।

জর্দানের ঘাঁটিতে হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে জানিয়েছিল, দুই সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর পরদিন মার্কিন সেনারা কিছু অজ্ঞাত মরদেহের অংশ উদ্ধার করেন। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছিল। পরে পেন্টাগন জানায়, নিখোঁজ ওই সেনাসদস্যই সম্ভবত সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারস্যাড। বর্তমানে সরকারি নথিতে তার অবস্থা ‘দায়িত্বকালীন অবস্থায় নিখোঁজ’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ‘মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে’ বলেও জানানো হয়েছে। র‍্যাম্পারস্যাড জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত দশম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের সদস্য ছিলেন। নিহত আরেক সেনা ইসাবেলা গনজালেসও একই ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে ইরাকে নিহত আরেক মার্কিন সেনার পরিচয়ও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটিতে একটি ইরানি ড্রোন নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় তিনি নিহত হন। সুইন্টন প্রায় এক দশক ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগভিত্তিক ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টের ১০৮তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। সুইন্টনকে মরণোত্তর ব্রোঞ্জ স্টার, পার্পল হার্ট এবং কমব্যাট অ্যাকশন ব্যাজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাকে পদোন্নতি দিয়ে স্টাফ সার্জেন্ট করা হবে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার মা জানিয়েছেন, সুইন্টনের একটি ছেলের বয়স ছয় বছর এবং একটি মেয়ের বয়স চার বছর। সুইন্টনের স্ত্রী মিয়া গনজালেস-সুইন্টন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এই শোক তিনি কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এখন তার জীবন ভেঙে পড়েছে। সুইন্টনের মা ক্রিস্টেল সুইন্টন বলেন, তার ছেলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তা করতেন। তিনি বলেন, যেসব মানুষের জীবনে সুইন্টন প্রভাব ফেলেছেন, তাদের স্মৃতির মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকবেন। তার হাসি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জন এল ডবার বলেন, সার্জেন্ট সুইন্টন ছিলেন একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নিজের দায়িত্ব ও সহকর্মীদের নিয়ে সুইন্টনের গর্ব ছিল। তিনি সাহস, সম্মান এবং নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, যেখানে মার্কিন সেনারাও মোতায়েন রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।  অন্যদিকে, দুই পক্ষের হামলায় এমন অনেক বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করেন। এই সংঘাতে জাহাজের শ্রমিক, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিক এবং ইসরায়েল ও লেবাননের অনেক মানুষও নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই যুদ্ধ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার জন্য ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। কারণ নির্বাচনি প্রচারে তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। র‍্যাম্পারস্যাডকে মৃত বলে ধারণা করা এবং ইরাকে নিহত সুইন্টনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।


 

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই : মামদানি

অনলাইন ডেস্ক
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই : মামদানি
ছবি : রয়টার্স

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই। তবে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। তিনি জানান, শহরের প্রশাসন ও আইনি বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেছে যে নিউইয়র্ক সিটির পক্ষে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা করে পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান।

এর আগে, এই মাসের শুরুতে মামদানি বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনি সুযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। মামদানির বক্তব্যের জবাবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সেবা করাই মেয়রের দায়িত্ব, হামাসের প্রচারণা করা নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 

আদালতের অভিযোগ, তারা মানবিক সহায়তা সীমিত করে অনাহারকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার দায় বহন করেন। তবে ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


 

দাউদ ইব্রাহিম এখন পাকিস্তানেই- বললেন মার্কিন আইনজীবী | কালের কণ্ঠ