• ই-পেপার

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর সামনে সেই দক্ষিণ আফ্রিকা

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের দায়িত্বে সেই বিতর্কিত রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের দায়িত্বে সেই বিতর্কিত রেফারি
ছবি : উয়েফা

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই মাঠে ও গ্যালারিতে উত্তেজনা। আর সেখানে যদি রেফারি ম্যাচে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত দেন তাহলে তো সেই উত্তেজনা আরো চরমে ওঠে।

ব্রাজিল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কোর বিপক্ষে। আর সেই ম্যাচে এক বিতর্কিত রেফারিকে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে ফিফা।

এর আগেও বড় ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ বেশকিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। 

এক মাস আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখ বনাম রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে মাদ্রিদ মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গাকে বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেন, যা নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবলাররা বিবাদে জড়ান এই রেফারির সঙ্গে।

এক সময় মাদক-কাণ্ডেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় ভিনচিচ নিজেকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের থেকে আলাদা বলে দাবি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। 

মরক্কোর বিপক্ষে সেই ম্যাচে ভিনচিচের দুই সহকারী লাইনসম্যান হিসেবেও থাকছেন স্লোভেনিয়ার দুজন। 

ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে মরক্কো

পিটার বাটলার
ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে মরক্কো

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময়ই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আর বড় দলগুলোর জন্য তো আরো। প্রথম ম্যাচের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে। ব্রাজিলের জন্যও মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়, বিশেষ করে এমন একটি দলের বিপক্ষে, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের প্রমাণ করেছে। কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনাল খেলেছিল মরক্কো এবং এবারও তারা সহজে হাল ছাড়বে না। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপেও নতুন কোনো গল্প লিখতে চাইবে দলটি।

যদিও বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের প্রস্তুতি আশাব্যঞ্জক। দলটি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে এবং কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আধুনিক ফুটবলে প্রতিভার পাশাপাশি ফিটনেস, রিকভারি এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের বর্তমান দলটিতে এই তিনটিরই সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। কার্লো আনচেলোত্তির মতো অভিজ্ঞ একজন কোচ থাকায় কাজগুলো আরো সহজ হয়ে গেছে। তিনি জানেন খেলোয়াড়দের কী প্রয়োজন, কাকে কোথায় ব্যবহার করতে হবে। তবে তার জন্যও কাজটা কঠিন। বিকল্প ফুটবলারের সংখ্যা খুব বেশি নেই তার হাতে। এতে তিনি খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খুব বেশি খেলাতে পারবেন না। এর পরও আনচেলোত্তির যে অভিজ্ঞতা, তাতে ব্রাজিল সমর্থকরা আস্থা রাখতেই পারে। বিশ্বকাপ জিততে হলে একটি দলের প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড। শক্তিশালী রক্ষণ, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা এবং কার্যকর আক্রমণভাগ—সব কিছুর সমন্বয় থাকতে হয়। তবে এই ব্রাজিল দলকে যদি একটি জায়গায় সবচেয়ে বেশি নম্বর দিতে হয়, তাহলে আমি আক্রমণভাগকেই বেছে নেব। কারণ তাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যারা এক মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে সক্ষম।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিঃসন্দেহে এই আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় তারকা। গত কয়েক বছরে বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গারে পরিণত হয়েছেন তিনি। তার গতি, ড্রিবলিং আলাদা নজর কেড়েছে। লেফট উইংয়ে বড় ভরসা হতে পারেন রাফিনিয়া। এ ছাড়া অভিজ্ঞ নেইমার এখনো ভয়ংকর। তরুণ এনদ্রিক কিংবা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতানো ইগর থিয়াগো প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হতে পারেন। মরক্কোর বিপক্ষেই বোঝা যাবে, ব্রাজিলের এই আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর। মরক্কোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা দ্রুতগতির ট্রানজিশন ফুটবল খেলতে পছন্দ করে এবং সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজের মতো ক্লাব ফুটবল মাতানো তারকা খেলোয়াড়রা আছেন এই দলে।

আমি মনে করি, ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। মরক্কো চাইবে খেলার গতি কমিয়ে ব্রাজিলকে হতাশ করতে, আর ব্রাজিল চাইবে দ্রুত গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে। যদি ব্রাজিল শুরুতেই গোল বের করতে পারে, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। কিন্তু মরক্কো তাদের রক্ষণ আগলে রাখতে পারলে খেলা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে। মধ্যমাঠের লড়াইটিও এখানে নির্ধারক হতে পারে। ব্রাজিলকে বলের দখল ধরে রাখার পাশাপাশি রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কারণ মরক্কোর দ্রুত ট্রানজিশনই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর জন্য প্রথম ম্যাচে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষ নয়, বরং প্রত্যাশার চাপ। ব্রাজিলের ওপর সব সময়ই শিরোপার দাবি থাকে, আর সেই চাপ সামলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই তারা এগিয়ে থাকবে। অভিজ্ঞতা, প্রতিভা ও স্কোয়াডের গভীরতায় ব্রাজিল নিঃসন্দেহে এগিয়ে। তবে মরক্কোর সংগঠিত ফুটবল এবং লড়াকু মানসিকতাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। আমার বিশ্বাস, ম্যাচটি একতরফা হবে না। মরক্কো ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবে। কিন্তু ব্রাজিল যদি নিজেদের সেরা ছন্দে খেলতে পারে, তাহলে তাদের আক্রমণভাগের গুণগত মানই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে।

লেখক : বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের হেড কোচ

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই কড়া তল্লাশির মুখে ব্রাজিল দল

ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই কড়া তল্লাশির মুখে ব্রাজিল দল
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়েছে ব্রাজিল ফুটবল দল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পুরো বহরকে দীর্ঘ সময় ধরে অভিবাসন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম।

‘জার্নাল ও গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণের পর ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সহায়ক কর্মী—কাউকেই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়নি। বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলারদেরও সাধারণ যাত্রীদের মতোই কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

আরো পড়ুন
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর সামনে সেই দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর সামনে সেই দক্ষিণ আফ্রিকা

 

নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সবাইকে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লাগেজ, ব্যক্তিগত ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী বিস্তারিতভাবে স্ক্যান করা হয়। এমনকি খেলোয়াড়দের জুতা খুলেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দীর্ঘ ও কঠোর প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্রাজিল দলকে। বিষয়টি খেলোয়াড়দের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও আয়োজক দেশের নিরাপত্তা বিধির কারণে তাদের সব নিয়ম মেনে চলতে হয়েছে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের দল ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কড়াকড়ি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কার্লো আনচেলত্তির দল আগামী ১৪ জুন (বাংলাদেশ সময়) মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। 

ইংলিসের দিকে তেড়ে যাওয়ার শাস্তি পেলেন নাহিদ

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিসের দিকে তেড়ে যাওয়ার শাস্তি পেলেন নাহিদ
ইংলিসের সঙ্গে নাহিদের বাগবিতণ্ডার মুহূর্ত। ছবি : কালের কণ্ঠ

শুধু গতি দিয়ে নয়, শরীরী ভাষাতেও চোখ রাঙানি দিয়েছেন নাহিদ রানা। তবে দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাহ্বা পেলেও চোখ রাঙানি দেওয়ায় জুটেছে শাস্তি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আইসিসির আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গ করায় তিরস্কার করা হয়েছে নাহিদকে।

সঙ্গে নাহিদের নামের পাশে যোগ হয়েছে ১ ডিমেরিট পয়েন্টও। আজ এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

ঘটনাটি ঘটেছে প্রথম ওয়ানডের ১১তম ওভারে। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে জশ ইংলিসকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করার পর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দিকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে তেড়ে গিয়েছিলেন নাহিদ। বিপরীতে ইংলিসও তার দিকে এগিয়ে যান।

এ ঘটনায় আইসিসির আচরণবিধির ২.৫ অনুচ্ছেদ ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে নাহিদের বিরুদ্ধে। লেভেল-১-এর সর্বনিম্ন শাস্তি তাই তিরস্কার করা হয়েছে। সঙ্গে ১ ডিমেরিট পয়েন্টও। গত ২৪ মাসে দ্বিতীয় অপরাধ ২৩ বছর বয়সী পেসারের। সেবার আয়ারল্যান্ডের ব্যাটার কেড কারমাইকেলের দিকে বল ছুড়ে মারায় ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ ও ১ ডিমেরিট পয়েন্ট জুটেছিল তার কপালে।

মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে শেষে নাহিদের বিরুদ্ধে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করেন দুই অনফিল্ড আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ-গাজী সোহেল। তাদের সমর্থন জানান তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার আহসান রাজা এবং মোরশেদ আলী খান। অভিযোগের ভিত্তিতে পরে ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট এই শাস্তি দেন। নাহিদ শাস্তি মেনে নেওয়ায় পরে আর শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। জয়ে ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অবদান রেখেছেন নাহিদ।