• ই-পেপার

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সময় বাড়ল

রেলসেবা বঞ্চিত ১৬ জেলা, সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
রেলসেবা বঞ্চিত ১৬ জেলা, সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ

দেশের সব জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যমান লাইনের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৬৪ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ৪৮টি জেলা জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এখনো ১৬টি জেলায় রেলপথ পৌঁছেনি। প্রথম ধাপে রেলসেবা বঞ্চিত ১০টি জেলাকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে বাকি ছয়টি জেলায়ও রেল সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। ঢাকা মেইল এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সূত্র আরও জানায়, প্রথম ধাপে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব জেলার সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ চলছে। অন্যদিকে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ভোলা, নেত্রকোনা ও মানিকগঞ্জকে পরবর্তী ধাপে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাতক্ষীরায় রেলপথ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একইভাবে মধুখালী-মাগুরা রেলপথের সম্প্রসারণ, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন এবং শেরপুর হয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ চলছে।

বরিশাল বিভাগেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন জেলাগুলোতে ট্রেন চলতে এখনই সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, রেলবঞ্চিত জেলাগুলোকে নেটওয়ার্কে আনতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। বর্তমানে বেশির ভাগ প্রকল্পই সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এসব সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন চার শতাধিক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী রেলে ভ্রমণ করেন এবং পরিবহন করা হয় প্রায় এক কোটি টন পণ্য। নতুন জেলাগুলো রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদের রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় এর সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, কোচ ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুতের সমন্বিত পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়।
এ বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘দেশের যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রেল সেবাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

৬ জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
৬ জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ৬টি জেলার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে মালদ্বীপ প্রেসিডেন্টের চা চক্র

বাসস
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে মালদ্বীপ প্রেসিডেন্টের চা চক্র
ছবি: মালদ্বীপ প্রেসিডেন্টের ফেসবুক পেজ থেকে

মালদ্বীপ সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সম্মানে চা চক্রের আয়োজন করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এই আয়োজন করা হয়।

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বর্তমানে মালদ্বীপ সফর করছেন খলিলুর রহমান। 

দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের লক্ষ্যে সরকারি সফরে খলিলুর রহমান গতকাল মালদ্বীপে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এ চা চক্রের আয়োজন করেন।

মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশটি সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সফরে তিনি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

গতকাল মালদ্বীপ পৌঁছালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. খালিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ সফরকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর সম্পৃক্ততার পথ সুগম হবে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, ‘এই সফর আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ভিত্তি তৈরি করবে।’

সফরকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ড. খলিলুর রহমান। এছাড়া তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদামের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার উপায়, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন সহযোগিতার সুযোগ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী মালদ্বীপের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম সরকারি মালদ্বীপ সফর।

ছাতার মধ্যে অভিনব কৌশলে রাখা বোমাটি জিআই পাইপে তৈরি

অনলাইন ডেস্ক
ছাতার মধ্যে অভিনব কৌশলে রাখা বোমাটি জিআই পাইপে তৈরি

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী বোমাটির বিভিন্ন উপকরণের ফরেনসিক পরীক্ষা করছে পুলিশ। পাশাপাশি বোমার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।

সমকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আশপাশের সিসি ক্যামেরার যেসব ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর আগে উদ্ধার হওয়া বোমার সঙ্গে এর মিল রয়েছে কিনা সে তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন।

ছাতার ভেতরে অভিনব কৌশলে রাখা বোমাটি জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি। এটিতে সার্কিট ও ব্যাটারি যুক্ত ছিল। শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রা যখন মতিঝিলের মেট্রোস্টেশন এলাকায় যায়, তখন পুলিশ বোমাটি ঘিরে রেখে তাদের ‘শর্টসার্কিট’-এর কথা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রথযাত্রায় নাশকতার উদ্দেশ্যে এটি রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বোমা উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার রাতে মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। বেআইনিভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বহন বা ব্যবহার এবং অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জীবন বিপন্ন করার লক্ষ্য ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া এ ধরনের শক্তিশালী বোমা তৈরি প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন সময় জব্দ বোমার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোমার উৎস ও এর পেছনে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তারও তদন্ত চলছে। কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বোমা; যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের সঙ্গে এ ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্র যাচাই করা হচ্ছে।  

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, বোমাটি ছাতাটির সঙ্গে অভিনব কৌশলে লাগানো ছিল। কেউ কৌতূহলবশত খুললেই বিস্ফোরণ ঘটত। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটত। এটা কারা করেছে এবং কী উদ্দেশ্য করেছে, এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত করছে। সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা বলেন, বোমাটি কী কী উপকরণে তৈরি, তা শনাক্তে আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।  

এদিকে মতিঝিল থানার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রথযাত্রার নিরাপত্তায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট কাওসার হোসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (কন্ট্রোল রুম) ফোন করেন। তিনি জানান, মেট্রারেলের নিচে একটি ছাতা পাওয়া গেছে। সেই ছাতায় আলো জ্বলছে। এরপর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে মতিঝিল থানাকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তখন মতিঝিল থানার ওসি পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা ও মেট্রোরেলের নিচে দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানাকে জানান। এর পরই মির্জা মোহাম্মদ তাঁর ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। তারা মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুম-সংলগ্ন জায়গায় ছাতার ভেতরে ‘বোমাসদৃশ’ বস্তু দেখতে পান। বস্তুটিতে লাল আলো মিটমিট করে জ্বলছিল।

এরপর ওসির পরামর্শে তারা জায়গাটি ঘিরে রাখেন। এরপরই উল্টো রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের ‘বৈদ্যুতিক শর্টশার্কিট’-এর কথা বলে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে বলে পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে যান মতিঝিল থানার ওসি। রথযাত্রা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তিনি বিষয়টি জানান মতিঝিল বিভাগের এডিসিকে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়। সাত মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। 

ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানান, এটি ছিল আইইডি বা পাইপ বোমা। এর ভেতরে প্রায় দেড় কেজি বিস্ফোরক পদার্থ, বিপুল সংখ্যক লোহার টুকরো ও বিয়ারিং বল ছিল। ব্যাটারি ও সার্কিটের মাধ্যমে এমনভাবে বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল, কেউ ছাতার বোতাম চাপলেই বিস্ফোরণ ঘটত।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।