• ই-পেপার

প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নে’ জবি শিক্ষার্থী অথৈ ‘আত্মহত্যা’ করেন

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই : চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ শনিবার তিনি এ তথ্য জানান।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এ মামলায় গত ১৪ মে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখান ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ৭ মে দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। 

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর কেন্দ্রিক ঘটনায় ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত সংস্থার তথ্য।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১২ লক্ষাধিক মানুষকে আইনি সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১২ লক্ষাধিক মানুষকে আইনি সহায়তা

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) জেলা অফিসের মাধ্যমে সরকারি খরচে ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৪ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র এতে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সরকারি খরচে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩০ হাজার ২২০ জন আইনি সহায়তা পেয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৪ জন। এছাড়া ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ জন কারাবন্দিকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আইনি সহায়তার জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল-ফ্রি নম্বরের (১৬৬৯৯) মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৭০৩ জন। সব মিলিয়ে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীর মোট সংখ্যা ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিতে প্রণীত ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত সেবা সংস্থা।

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার রাকিবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার রাকিবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানী পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাফটকে (জেলগেট) জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল হুদা আসামি রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং এমপি নজরুল ও বাদী ওবায়দুল্লাহর ভাগ্নির ভাইরাল হওয়া অপ্রীতিকর ভিডিও উদ্ধারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে গত বুধবার একই মামলায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মামলার বাদী ওবায়দুল্লাহ পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সুবাদে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে এমপি নজরুলের সঙ্গে বাদীর ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুল্লাহ তার পরিবারকে জানান এবং সংসদ সদস্যকে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারভিত্তিক একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে সংসদ সদস্যকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে। এমপি নজরুল সন্দেহ করেন যে ওবায়দুল্লাহই এসব গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুল্লাহর ওপর হামলা চালায়।

হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এজাহারে বলা হয়, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুল্লাহকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা একজোট হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। ওবায়দুল্লাহর মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুল্লাহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে বাদী আরো উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে দেখামাত্রই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে রয়েছেন।

এদিকে আদালত মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পল্লবী থানা-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রিন্স মামুন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্স মামুন কারাগারে

এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোহনাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াউর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে শুনানিকালে বাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামুনের স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলাটি করেন। মামলা হওয়ার পরপরই ভাটারা থানা-পুলিশ মামুনকে গ্রেপ্তার দেখায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মোহনা পেশায় একজন ফ্যাশন মডেল। প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। বাদীর অভিযোগ, মামুন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত এবং নেশাগ্রস্ত। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনাকে মারধর করা হতো। এ ছাড়া ব্যবসার জন্য বিয়ের পর থেকেই বাদীর কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন মামুন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহনার বাসায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যান প্রিন্স মামুন। সেখানে তিনি আবার বাবা-মায়ের কাছ থেকে এক কোটি টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। মোহনা এতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং মোহনাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এমনকি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এই হামলায় মোহনার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়।