বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে বলে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচারের প্রবেশাধিকার’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলতে পারি গত কয়েক মাসের সরকারে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা হত্যাকাণ্ড) প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। আর এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (গুম)-এর ব্যাপারে একটা রিপোর্টেড কেস যখন এসেছে আমরা সেটাকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য আমি ইন্টার্নালি বলেছি।
মো. আসাদুজ্জামান আরো বলেন, জজ সাহেব যখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারেন, তখনই বিচার বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি ভালো জজ যদি নিয়োগ হয়। ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং সেটা আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সাইকেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মআস্তে আস্তে সব রকম সংস্কারের দিকেই এগোবো। কিন্তু এ জন্য আমাদের একটু সময় দিতে হবে।
আজকের পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গতকাল ছিল ২৪শে জুলাই। ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোন পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, যেহেতু সাংবিধানিকভাবেই ১৫ই জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা। তাই আশা করি, সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন- এই প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘অধিকার’-এর পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান।
অধিকার আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।







