• ই-পেপার

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ২৩৪৬টি মামলা নিষ্পত্তি

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই : চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ শনিবার তিনি এ তথ্য জানান।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এ মামলায় গত ১৪ মে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখান ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ৭ মে দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। 

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর কেন্দ্রিক ঘটনায় ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত সংস্থার তথ্য।

প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নে’ জবি শিক্ষার্থী অথৈ ‘আত্মহত্যা’ করেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নে’ জবি শিক্ষার্থী অথৈ ‘আত্মহত্যা’ করেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈয়ের ‘আত্মহত্যার’ জন্য তার প্রেমিক ইয়াছিনের ধারাবাহিক ‘মানসিক নিপীড়ন’কে দায়ী করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর মধ্যে ইয়াছিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন তার পক্ষের আইনজীবী।

বিডিনিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারের নন্দলাল লেনের বাসায় আত্মহত্যা করেন অথৈ। তার প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে এনে পরদিন সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন মৃতের বাবা প্রণব মজুমদার।

সেই সময় লালবাগ এলাকায় ‘জমিদারি ভোজ’ রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইয়াছিন। ওইদিনই গ্রেপ্তারের পর ইয়াছিনকে কারাগারে পাঠানো হয়। কয়েকমাস কারাভোগের পর জামিন পান ইয়াছিন। তবে আদালতে গড় হাজির থাকায় গত ২৬ এপ্রিল জামিন বাতিল করে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই আলমগীর হোসেন তদন্ত শেষে গত ১৯ মে ইয়াছিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৪ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলা বদলির আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সোহানুর রহমান।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, “মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দিয়েছি। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে, ভিকটিমের মনের কথা তো আমার পাওয়া সম্ভব না।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অথৈ ও ইয়াছিনের বাড়ি পাশাপাশি; তারা চট্টগ্রামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন। ইয়াছিন বিভিন্ন সময় অথৈকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর অথৈ ২০২২-২০২৩ সেশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে ভর্তি হন। থাকছিলেন সূত্রাপুর এলাকার একটি মেসে।

অথৈ ঢাকায় স্থানান্তর হলে ইয়াছিনও একই পথ ধরেন। চাকরি নেন লালবাগ এলাকায় ‘জমিদারি ভোজ’ রেস্তোরাঁয়। এরপর আগের মতোই অথৈকে ‘উত্যক্ত’ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে জানিয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, এরপর তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ হতো। তবে প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে ইয়াছিন ‘অপমানজনক কথাবার্তা ও অপবাদ’ দিয়ে অথৈকে মানসিক নিপীড়ন করতেন। ঘটনার দিন ২৯ এপ্রিল অথৈ তার ক্যাম্পাসে সংগীত উৎসবের অনুশীলন শেষে মেসে ফিরছিলেন।

গেটের সামনে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াছিন সংগীত উৎসবে অংশগ্রহণ করতে অথৈকে বারণ করেন। এসময় ওই তরুণ গালমন্দসহ অপমানজনক কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, ইয়াছিনের এ ধরনের আচরণ মেনে নিতে না পেরে অথৈ বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কোনো একসময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ইয়াছিন ঘটনার সময় ও আগে মোবাইলে কথাবার্তা থেকে ধারণা করেন, অথৈ আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তিনি মেস বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজনকে নিয়ে অথৈয়ের রুমের দরজার লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অথৈ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। তাকে দ্রুত নিচে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অথৈয়ের বাবা প্রণব মজুমদার বলেন, ‘মেয়েটা মারা যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছি। অসুস্থ হয়ে গেছি। সন্তান হারানোর বেদনা ভুক্তভোগী বাবাই বোঝেন। সেই বেদনা কীভাবে কাটবে, সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ জানেন না।’

প্রণব মজুমদারের দুই মেয়ের মধ্যে অথৈ ছিল ছোট। বড় মেয়ে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর পড়ছে। অথৈকে নিয়ে বাবা পরিকল্পনা করেছিলেন, দেশে পড়াশোনা শেষে তাকে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠাবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি প্রণব মজুমদারের।

তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর প্লান ছিল ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠাবে। কিন্তু তা আর হলো না। মেয়েটাকে পৃথিবী ছাড়তে বাধ্য করা হলো। আমি যার জন্য মেয়েকে হারিয়েছি, তার সাজা চাই।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী সুমন কুমার রায় দাবি করেন, ‘মামলার অভিযোগপত্র আসছে। আসামির মানসিক টার্চারে ভিকটিম আত্মহত্যা করে। তাদের ফিজিক্যাল রিলেশনের একটা ছবি ছিল আসামির মোবাইলে। ওই ছবি দিয়ে ভিকটিমকে ভয় দেখাতো। মানসিক টর্চার করতো। তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। সিআইডি পুলিশের ফরেনসিক রিপোর্টে ওই ছবি পাওয়া গেছে। আসামি প্রথম থেকে দাবি করে আসছিল, এমন কিছু নেই। যখন ফরেনসিক রিপোর্টে ছবি পাওয়া গেছে, এটা জেনে স্ট্রোক করেছে। তার আইনজীবীরর জুনিয়র জানিয়েছে, সে মারাও গেছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘ছেলেটা খুব ভালো। কিন্তু সে সিরিয়াস অসুস্থ ছিল। মরার মতো অবস্থা। বেশ কয়েকদিন আগে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে— ওর পরিবার এটা জানিয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবীকে বিষয়টি জানিয়েছি। আগামী তারিখে আদালতকেও অবহিত করব।’

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১২ লক্ষাধিক মানুষকে আইনি সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১২ লক্ষাধিক মানুষকে আইনি সহায়তা

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) জেলা অফিসের মাধ্যমে সরকারি খরচে ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৪ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র এতে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সরকারি খরচে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩০ হাজার ২২০ জন আইনি সহায়তা পেয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৪ জন। এছাড়া ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ জন কারাবন্দিকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আইনি সহায়তার জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল-ফ্রি নম্বরের (১৬৬৯৯) মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৭০৩ জন। সব মিলিয়ে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীর মোট সংখ্যা ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিতে প্রণীত ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত সেবা সংস্থা।

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার রাকিবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার রাকিবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানী পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাফটকে (জেলগেট) জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল হুদা আসামি রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং এমপি নজরুল ও বাদী ওবায়দুল্লাহর ভাগ্নির ভাইরাল হওয়া অপ্রীতিকর ভিডিও উদ্ধারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে গত বুধবার একই মামলায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মামলার বাদী ওবায়দুল্লাহ পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সুবাদে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে এমপি নজরুলের সঙ্গে বাদীর ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুল্লাহ তার পরিবারকে জানান এবং সংসদ সদস্যকে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারভিত্তিক একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে সংসদ সদস্যকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে। এমপি নজরুল সন্দেহ করেন যে ওবায়দুল্লাহই এসব গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুল্লাহর ওপর হামলা চালায়।

হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এজাহারে বলা হয়, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুল্লাহকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা একজোট হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। ওবায়দুল্লাহর মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুল্লাহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে বাদী আরো উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে দেখামাত্রই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে রয়েছেন।

এদিকে আদালত মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পল্লবী থানা-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।