• ই-পেপার

কুমিল্লায় ৭ শিক্ষকের বদলি চায় না শিক্ষার্থীরা

‘সরকার যায়, সরকার আসে; মৃত্যুকূপ যায় না’

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
‘সরকার যায়, সরকার আসে; মৃত্যুকূপ যায় না’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মুমুরদিয়া ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। শনিবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

‘কত সরকার এলো-গেল, কিন্তু আমাদের জন্য মৃত্যুকূপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু হলো না। ২৫ বছর চলে গেছে শুধু আশ্বাসে। মানুষের মৃত্যু হলেই কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?’

প্রশ্নটি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের নামা বোয়ালিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আবু তাহের মিয়ার। ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন নদীর ওপর জীর্ণ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় কথাগুলো বলেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন  জরাজীর্ণ সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ষাটের দশকে শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন কুড়িখাঁই নদীতে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০১ সালে সেতুটির রেলিং ও পাটাতন ভেঙে যায়। সেতুর মাঝখানে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। এরপর থেকে প্রায় ২৫ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা গর্তে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে  জনবহুল এলাকা। কিছুক্ষণ পরপরই যানবাহন চলাচল করছে। সেতুর মাঝখানের বড় দুটি গর্ত দিয়ে নিচের পানি দেখা যায়। ঝুঁকি এড়াতে চালকরা যাত্রী নামিয়ে কোনো রকমে সেতু পার হচ্ছেন। আশপাশে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুটি দিয়ে বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, পাড়া মণ্ডলভোগ, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাঁই, চাতল ও মুমুরদিয়াসহ অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। সেতুটি বেহাল থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও রোগী আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিকল্প পথে ঘুরে যেতে সময় ও খরচ—দুটিই বেশি লাগছে।

দড়িচারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতালে জরুরি রোগী নিয়ে গেলে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। আমাদের কাছে আশ্বাস এখন ছলনার নাম। কারণ গত ২৫ বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি।’

নামা বোয়ালিয়া গ্রামের জসিম বলেন, ‘দিন-রাত সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। মনে হয়, এই বুঝি ধসে পড়ল। চালকরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করেন। উপায়হীন মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় স্থানে সেতু পড়ে আছে, অথচ আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকে কারো নজর নেই।’

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন সেতুটি দ্রুত নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই মধ্যে সেতুটির জন্য বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবেদন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, ‘সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করে কারিগরি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

রাজশাহীতে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ানে গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই নারীর নাম ফরিদা খাতুন (৪০)। তাঁর স্বামী লালন শেখ পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ। ফরিদাকে রক্ষা করতে গেলে ছুরিকাঘাতে তাঁর ছেলে মো. ফয়সালও গুরুতর আহত হয়েছেন।

জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে লালন শেখের স্ত্রী ফরিদাকে প্রতিবেশী মো. বাবুর ছেলে মো. পরশ (১৮) ছুরিকাঘাত করেছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাবুর বাড়িতে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তবে তার আগেই বাবুর পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। 

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফরিদা খাতুনকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তার ছেলে ফয়সালকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী পালু জানান, শনিবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরেই পূর্বশত্রুতার জের ধরে লালন শেখের স্ত্রী ফরিদাকে প্রতিবেশী মো. বাবুর ছেলে মো. পরশ (১৮) ছুরিকাঘাত করেছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাবুর বাড়িতে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তবে তার আগেই বাবুর পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। 

এ বিষয়ে রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ময়মনসিংহ গণগ্রন্থাগার

বই পড়তে দীর্ঘ সারিতে পাঠকের অপেক্ষা, তবে...

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
বই পড়তে দীর্ঘ সারিতে পাঠকের অপেক্ষা, তবে...
আসন পাওয়ার জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সামনের ফুটপাতে পাঠকদের সারি। শনিবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

সকাল তখন ৮টা বেজে ২০ মিনিট। ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল মোড় থেকে সার্কিট হাউস যাওয়ার সড়ক। সড়কটির ফুটপাতে সারিতে বসা অনেক তরুণ-তরুণী। অধিকাংশের চোখ আর মনোযোগ হাতে থাকা বইয়ে। 

শনিবার (২৫ জুলাই) ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সামনের ফুটপাথের দৃশ্য এটি।

দৃশ্যটি দেখে প্রথমেই মনে হবে পরীক্ষার হলের সামনে বসে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা। কিন্তু তাদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি গণগ্রন্থাগারে আসন পাওয়ার জন্য এভাবে সারিতে অপেক্ষা করছেন তারা। 

সপ্তাহে পাঁচ দিন খোলা থাকে এ গণগ্রন্থাগার। পাঁচ দিনই বই পড়ার আসন ‘দখলের’ জন্য এমন লম্বা সারি পড়ে। গ্রন্থাগার খোলা হয় সকাল ৯টায়। তবে সারি শুরু হয় সকাল ৮টার আগেই। সারিতে অপেক্ষা করেও আসন না পেয়ে ফিরে যান অনেকে। যারা পান, তারা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা পড়াশোনা করেন। 

দুপুরের খাবার বা প্রাকৃতিক কাজ সারার প্রয়োজনে বাইরে গেলেও আসনটি পাশের জনকে রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে যান।

বই পড়ার জন্য তরুণ বয়সীদের এমন উপচে পড়া ভিড় দেখে কৌতূহলী হয়ে দুপুরে গণগ্রন্থাগারে যান এ প্রতিবেদক। দেখা যায়, ভেতরে ১৫০টি আসনের একটিও খালি নেই। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে সাতজন গ্রুপ স্টাডি করছেন। পড়ার পাশাপাশি খাতায় নোট করছেন। তাদের টেবিলে দেখা যায়, মোটা মোটা গাইড বই। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব বইয়ের অনেকগুলোই পাঠকরা নিজেদের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থগারের জ্যেষ্ঠ  লাইব্রেরিয়ান আব্বাস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, বই পড়তে যারা আসেন, তাদের শতভাগই এমন তরুণ বয়সী। তারা ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। 

অনেকের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ, আবার অনেকের শেষ দিকে। তারা চাকরিপ্রত্যাশী। মূলত চাকরি পাওয়ার জন্য যেসব বই পড়া দরকার, তারা সেসব বই পড়েন। 

আব্বাস আলী আরো বলেন, গণগ্রন্থাগারে চাকরির পরীক্ষার  উপযোগী বই কম থাকায় পাঠকরা নিজেদের বাড়ি থেকে বই সঙ্গে করে নিয়ে যান। অনেকে দুপুরের খাবারও সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েন।

বাড়ি থেকে বই নিয়ে গ্রন্থাগারে বসে পড়ার কারণ জানা যায় কয়েকজন পাঠককের সঙ্গে কথা বলে। পাঠকরা বেশির ভাগই বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা যারা ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন বা করছেন। তারা মেসে অথবা হলে থাকেন। মেসে বা হলে এক কক্ষে কয়েকজন থাকায় নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনা করতে অসুবিধা হয়। এ ছাড়া মেসে বা হলে কয়েকজন মিলে ‘গ্রুপ স্টাডি’ করতেও অসুবিধা। এ কারণে সরকারি গণগ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনা করেন।

গ্রন্থাগারে পড়তে আসা সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান তারেক বলেন, ‘মেসে পড়াশোনা করার চেয়ে পাঠাগারে বসে পড়লে বেশি মনোযোগ আসে। এ কারণে প্রতিদিন গ্রন্থাগারে চলে আসি।’

আরো কয়েকজন পাঠকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরির উপযোগী বই গণগ্রন্থাগারে কম। তবে গ্রন্থাগার কর্তৃক্ষকে চাকরির পরীক্ষার উপযোগী বই কিনতে অনুরোধ করার পর কিছু বই সংযোজন করা হয়েছে।

এক শ্রেণির পাঠক এভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আসন দখল করে রাখায় অন্য সাধারণ পাঠক পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, এমন মন্তব্যের জবাবে পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন সাধারণ পাঠক খুব কম আসে। বয়স্ক পাঠকরা এখন গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে বই বাড়িতে নিয়ে পড়েন।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি স্বাধীন চৌধুরী বলেন, তরুণ পাঠক যারা আসছেন, তারা বই পড়তেই আসেন। তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্য বয়স্ক বা শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য প্রয়োজনে আলাদা কর্নার করা উচিত। এ জন্য প্রয়োজনে গ্রন্থাগারের পরিসর বড় করা যেতে পারে। কিন্তু কাউকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না।

গ্রন্থাগারের জ্যেষ্ঠ লাইব্রেরিয়ান আব্বাস আলী আরো  জানান, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি বই রয়েছে। গ্রন্থাগারটি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলত। তবে সম্প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের নির্দেশে সময় কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে তরুণ পাঠকরা গ্রন্থাগারটি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখার দাবি জানিয়ে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। 

আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও পাঠকদের অনুরোধে ৭টা পর্যন্তই গণগ্রন্থাগার খোলা রাখা হচ্ছে বলে জানান জ্যেষ্ঠ লাইব্রেরিয়ান।

চট্টগ্রামের পাহাড়ে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পাহাড়ে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩টি দেশীয় অস্ত্র ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কয়েক ধাপে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দুটি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহার কাটার যন্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কেলিশহর ইউনিয়নের কিল্লাপাড়া এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) ও মো. মহসিন (৩৩)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে জেলা ডিবির একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেলিশহরের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে কিল্লাপাড়ায় দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকার ছাতিভাঙ্গা আফছারের গাছবাগানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখা চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি বা সংঘাতের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্ত্র চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেলিশহরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে আসছে। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিস্তীর্ণ বাগান ও পাহাড়ি জঙ্গলের কারণে অপরাধীরা এসব এলাকায় আত্মগোপন ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান কঠোর। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, এগুলো কারা ব্যবহার করত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে।