• ই-পেপার

চট্টগ্রামের পাহাড়ে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

‘সরকার যায়, সরকার আসে; মৃত্যুকূপ যায় না’

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
‘সরকার যায়, সরকার আসে; মৃত্যুকূপ যায় না’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মুমুরদিয়া ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। শনিবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

‘কত সরকার এলো-গেল, কিন্তু আমাদের জন্য মৃত্যুকূপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু হলো না। ২৫ বছর চলে গেছে শুধু আশ্বাসে। মানুষের মৃত্যু হলেই কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?’

প্রশ্নটি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের নামা বোয়ালিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আবু তাহের মিয়ার। ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন নদীর ওপর জীর্ণ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় কথাগুলো বলেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন  জরাজীর্ণ সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ষাটের দশকে শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন কুড়িখাঁই নদীতে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০১ সালে সেতুটির রেলিং ও পাটাতন ভেঙে যায়। সেতুর মাঝখানে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। এরপর থেকে প্রায় ২৫ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা গর্তে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে  জনবহুল এলাকা। কিছুক্ষণ পরপরই যানবাহন চলাচল করছে। সেতুর মাঝখানের বড় দুটি গর্ত দিয়ে নিচের পানি দেখা যায়। ঝুঁকি এড়াতে চালকরা যাত্রী নামিয়ে কোনো রকমে সেতু পার হচ্ছেন। আশপাশে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুটি দিয়ে বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, পাড়া মণ্ডলভোগ, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাঁই, চাতল ও মুমুরদিয়াসহ অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। সেতুটি বেহাল থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও রোগী আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিকল্প পথে ঘুরে যেতে সময় ও খরচ—দুটিই বেশি লাগছে।

দড়িচারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতালে জরুরি রোগী নিয়ে গেলে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। আমাদের কাছে আশ্বাস এখন ছলনার নাম। কারণ গত ২৫ বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি।’

নামা বোয়ালিয়া গ্রামের জসিম বলেন, ‘দিন-রাত সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। মনে হয়, এই বুঝি ধসে পড়ল। চালকরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করেন। উপায়হীন মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় স্থানে সেতু পড়ে আছে, অথচ আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকে কারো নজর নেই।’

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন সেতুটি দ্রুত নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই মধ্যে সেতুটির জন্য বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবেদন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, ‘সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করে কারিগরি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

রাজশাহীতে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ানে গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই নারীর নাম ফরিদা খাতুন (৪০)। তাঁর স্বামী লালন শেখ পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ। ফরিদাকে রক্ষা করতে গেলে ছুরিকাঘাতে তাঁর ছেলে মো. ফয়সালও গুরুতর আহত হয়েছেন।

জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে লালন শেখের স্ত্রী ফরিদাকে প্রতিবেশী মো. বাবুর ছেলে মো. পরশ (১৮) ছুরিকাঘাত করেছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাবুর বাড়িতে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তবে তার আগেই বাবুর পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। 

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফরিদা খাতুনকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তার ছেলে ফয়সালকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী পালু জানান, শনিবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরেই পূর্বশত্রুতার জের ধরে লালন শেখের স্ত্রী ফরিদাকে প্রতিবেশী মো. বাবুর ছেলে মো. পরশ (১৮) ছুরিকাঘাত করেছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাবুর বাড়িতে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তবে তার আগেই বাবুর পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। 

এ বিষয়ে রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় ৭ শিক্ষকের বদলি চায় না শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় ৭ শিক্ষকের বদলি চায় না শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধতার ঘটনার জেরে সাত শিক্ষককে বদলির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। বদলি নয়, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান চান তারা। এ সময় আন্দোলন থামাতে শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত আকুতি করে এক শিক্ষককে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা গেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় তারা ক্যাম্পাসে স্থায়ী জলবদ্ধাতার সমাধান, শিক্ষাকদের বদলি স্থগিতসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। আন্দোলনের একপর্যায়ে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলির আদেশ পাওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করে। এ সময় তাকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি তোমাদের কাছে মাফ চাই। বদলি আমার চাকরির অংশ। তোমাদের কাছে অনুরোধ।’

এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কর্মসূচির ব্যানারটি হাতে নিয়ে দুমড়েমুচড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে কান্না করতে করতে শিক্ষার্থীদের হাত ধরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় শিক্ষার্থীদের চোখেও পানি দেখা যায়, তৈরি এক আবেগঘন পরিবেশ। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। হঠাৎ করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের কোন কোন বিভাগে ২-৩ জন শিক্ষক রয়েছে। এদের মধ্যে থেকে হঠাত করে বিনা কারণে শিক্ষকদের বদলি করা হলে ওই বিভাগে শিক্ষার মান তলানিতে নেমে যাবে।

তারা আরো বলেন, শুধু মহিলা কলেজ নয়, পুরো কুমিল্লা নগরীতেই জলবদ্ধাতার সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতায় শিক্ষকদের কোনো হাত নেই। তা হলে কেন তাদের বদলি করা হবে। আমরা এই বদলি মানি না। অবিলম্বে এটি প্রত্যাহর করতে হবে। অন্যথায় শুধু মহিলা কলেজ নয়, আন্দোলন কুমিল্লাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজ ইচ্ছায় আন্দোলন করছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।  

ময়মনসিংহ গণগ্রন্থাগার

বই পড়তে দীর্ঘ সারিতে পাঠকের অপেক্ষা, তবে...

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
বই পড়তে দীর্ঘ সারিতে পাঠকের অপেক্ষা, তবে...
আসন পাওয়ার জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সামনের ফুটপাতে পাঠকদের সারি। শনিবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

সকাল তখন ৮টা বেজে ২০ মিনিট। ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল মোড় থেকে সার্কিট হাউস যাওয়ার সড়ক। সড়কটির ফুটপাতে সারিতে বসা অনেক তরুণ-তরুণী। অধিকাংশের চোখ আর মনোযোগ হাতে থাকা বইয়ে। 

শনিবার (২৫ জুলাই) ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সামনের ফুটপাথের দৃশ্য এটি।

দৃশ্যটি দেখে প্রথমেই মনে হবে পরীক্ষার হলের সামনে বসে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা। কিন্তু তাদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি গণগ্রন্থাগারে আসন পাওয়ার জন্য এভাবে সারিতে অপেক্ষা করছেন তারা। 

সপ্তাহে পাঁচ দিন খোলা থাকে এ গণগ্রন্থাগার। পাঁচ দিনই বই পড়ার আসন ‘দখলের’ জন্য এমন লম্বা সারি পড়ে। গ্রন্থাগার খোলা হয় সকাল ৯টায়। তবে সারি শুরু হয় সকাল ৮টার আগেই। সারিতে অপেক্ষা করেও আসন না পেয়ে ফিরে যান অনেকে। যারা পান, তারা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা পড়াশোনা করেন। 

দুপুরের খাবার বা প্রাকৃতিক কাজ সারার প্রয়োজনে বাইরে গেলেও আসনটি পাশের জনকে রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে যান।

বই পড়ার জন্য তরুণ বয়সীদের এমন উপচে পড়া ভিড় দেখে কৌতূহলী হয়ে দুপুরে গণগ্রন্থাগারে যান এ প্রতিবেদক। দেখা যায়, ভেতরে ১৫০টি আসনের একটিও খালি নেই। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে সাতজন গ্রুপ স্টাডি করছেন। পড়ার পাশাপাশি খাতায় নোট করছেন। তাদের টেবিলে দেখা যায়, মোটা মোটা গাইড বই। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব বইয়ের অনেকগুলোই পাঠকরা নিজেদের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থগারের জ্যেষ্ঠ  লাইব্রেরিয়ান আব্বাস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, বই পড়তে যারা আসেন, তাদের শতভাগই এমন তরুণ বয়সী। তারা ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। 

অনেকের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ, আবার অনেকের শেষ দিকে। তারা চাকরিপ্রত্যাশী। মূলত চাকরি পাওয়ার জন্য যেসব বই পড়া দরকার, তারা সেসব বই পড়েন। 

আব্বাস আলী আরো বলেন, গণগ্রন্থাগারে চাকরির পরীক্ষার  উপযোগী বই কম থাকায় পাঠকরা নিজেদের বাড়ি থেকে বই সঙ্গে করে নিয়ে যান। অনেকে দুপুরের খাবারও সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েন।

বাড়ি থেকে বই নিয়ে গ্রন্থাগারে বসে পড়ার কারণ জানা যায় কয়েকজন পাঠককের সঙ্গে কথা বলে। পাঠকরা বেশির ভাগই বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা যারা ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন বা করছেন। তারা মেসে অথবা হলে থাকেন। মেসে বা হলে এক কক্ষে কয়েকজন থাকায় নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনা করতে অসুবিধা হয়। এ ছাড়া মেসে বা হলে কয়েকজন মিলে ‘গ্রুপ স্টাডি’ করতেও অসুবিধা। এ কারণে সরকারি গণগ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনা করেন।

গ্রন্থাগারে পড়তে আসা সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান তারেক বলেন, ‘মেসে পড়াশোনা করার চেয়ে পাঠাগারে বসে পড়লে বেশি মনোযোগ আসে। এ কারণে প্রতিদিন গ্রন্থাগারে চলে আসি।’

আরো কয়েকজন পাঠকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরির উপযোগী বই গণগ্রন্থাগারে কম। তবে গ্রন্থাগার কর্তৃক্ষকে চাকরির পরীক্ষার উপযোগী বই কিনতে অনুরোধ করার পর কিছু বই সংযোজন করা হয়েছে।

এক শ্রেণির পাঠক এভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আসন দখল করে রাখায় অন্য সাধারণ পাঠক পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, এমন মন্তব্যের জবাবে পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন সাধারণ পাঠক খুব কম আসে। বয়স্ক পাঠকরা এখন গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে বই বাড়িতে নিয়ে পড়েন।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি স্বাধীন চৌধুরী বলেন, তরুণ পাঠক যারা আসছেন, তারা বই পড়তেই আসেন। তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্য বয়স্ক বা শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য প্রয়োজনে আলাদা কর্নার করা উচিত। এ জন্য প্রয়োজনে গ্রন্থাগারের পরিসর বড় করা যেতে পারে। কিন্তু কাউকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না।

গ্রন্থাগারের জ্যেষ্ঠ লাইব্রেরিয়ান আব্বাস আলী আরো  জানান, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি বই রয়েছে। গ্রন্থাগারটি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলত। তবে সম্প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের নির্দেশে সময় কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে তরুণ পাঠকরা গ্রন্থাগারটি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখার দাবি জানিয়ে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। 

আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও পাঠকদের অনুরোধে ৭টা পর্যন্তই গণগ্রন্থাগার খোলা রাখা হচ্ছে বলে জানান জ্যেষ্ঠ লাইব্রেরিয়ান।