• ই-পেপার

নরেন্দ্র মোদির ভিউর বিশ্বরেকর্ড

এক ছবির সূত্রে মিলে গেলো বহু বছর বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
এক ছবির সূত্রে মিলে গেলো বহু বছর বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার
সংগৃহীত ছবি

চীনে ভ্রমণের সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে বহু বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক আত্মীয়ের সন্ধান পেলেন এক ব্যক্তি। শুধু একজন অচেনা পর্যটকের ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ থেকেই শুরু হয় কথোপকথন। পরে সেই আলাপেই জানা যায়, তারা একই পরিবারের সদস্য। কয়েক দশক পর আবারও এক হতে যাচ্ছে দুই পরিবার। এ তথ্য জানিয়েছে 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'।

সাংহাইয়ের বাসিন্দা চেন জিয়ে চলতি জুলাইয়ের শুরুতে কাজের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে যান। কাজের ফাঁকে তিনি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লুগু হ্রদ ঘুরতে যান। গত ৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে তিনি হ্রদের পাশে সূর্যোদয় উপভোগ করছিলেন। এ সময় এক বয়স্ক পর্যটক তাকে নিজের একটি ছবি তুলে দিতে বলেন। ছবি তোলার পর দুজনের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তা শুরু হয়। কথা বলতে বলতে তারা জানতে পারেন, তাদের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আলাপের এক পর্যায়ে চেন জানতে পারেন, ওই পর্যটকের পদবি ফেই। তিনি তাইওয়ানের কাওশিউং শহরের বাসিন্দা। তবে তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল চীনের চেচিয়াং প্রদেশের থুংশিয়াং এলাকার ছোট শহর পুইউয়ানে। এ কথা শুনে চেন বিস্মিত হন। কারণ তার নিজের বাড়িও একই শহর পুইউয়ানে। এরপর তারা একসঙ্গে একটি ছবি তোলেন এবং একে অপরের যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরে ওই পর্যটক সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে গিয়ে চেনের মনে সন্দেহ হয়, তারা হয়তো আত্মীয়।

চেন বিষয়টি তার বাবাকে জানান। তখন তার বাবা জানতে চান, ওই ব্যক্তির বাবার নাম ফেই ইউনফেং কি না। চেন বিষয়টি ফেইকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সেটি নিশ্চিত করেন। এরপর পরিবারের পুরোনো তথ্য মিলিয়ে চেন নিশ্চিত হন, ফেই আসলে তাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই পরিবারের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। চেন জানান, ফেইয়ের বাবা এবং তার নিজের দাদা ছিলেন আপন ভাই। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার আগে ফেইয়ের বাবা কুওমিনতাং বাহিনীর সঙ্গে তাইওয়ানে চলে যান। এরপর দুই পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে চেনের দাদাকে পরে চেন পদবির এক দম্পতি দত্তক নেন। এর ফলে তার পদবিও বদলে যায়। এই কারণেই এত বছর ধরে দুই পরিবারের সদস্যরা একে অপরের খোঁজ পাননি। চেন বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী ফেই তার চাচা হন।

চেন বলেন, প্রায় ২০ সদস্যের তাদের বড় পরিবারকে তিনি পুরো ঘটনাটি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, পরিবারের সবাই মনে করছেন, এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক কাকতালীয় ঘটনা, যেন জাদুর মতো। অন্যদিকে ফেইও এই ঘটনার কথা ভেবে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে তখন অনেক মানুষ ছিলেন। কিন্তু ছবি তুলে দেওয়ার জন্য তিনি শুধু চেন জিয়েকেই বেছে নিয়েছিলেন। ফেইর বিশ্বাস, তাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল বলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, আগামী মাসে তিনি পুইউয়ান সফরে যাবেন। সেখানে চেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা করবেন। চেন বলেন, এত বছর পর দুই পরিবারের সম্পর্ক আবার তৈরি হয়েছে। এখন সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতে ধরে রাখার দায়িত্ব হয়তো তাদের প্রজন্মের ওপরই থাকবে।

একবার পরিচয় যাচাই করেই মিলবে একাধিক আর্থিক সেবা, নতুন ব্যবস্থা আনছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
একবার পরিচয় যাচাই করেই মিলবে একাধিক আর্থিক সেবা, নতুন ব্যবস্থা আনছে ভারত
ছবি : রয়টার্স

ভারত সরকার এমন একটি নতুন ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক একবার পরিচয় যাচাই করেই ব্যাংক, বীমা, মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতও দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকদের আর বারবার একই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে না। এতে আর্থিক সেবা নেওয়া সহজ হবে এবং লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ায় জালিয়াতি কমানোও সম্ভব হবে।

সূত্রগুলোর মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মিউচুয়াল ফান্ড, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের অন্যান্য সংস্থাও এই ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) এবং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

নিয়ন্ত্রক সূত্র ও আর্থিক খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে ভারতীয় ব্যাংক ও বীমা কম্পানিগুলো সেন্ট্রাল নো-ইয়োর-কাস্টমার ২.০ (সিকেওয়াইসি ২.০) নামে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করবে। পরে এতে মিউচুয়াল ফান্ড ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিগুলোও যুক্ত হবে।

এই ব্যবস্থায় গ্রাহকের তথ্য একবার কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হলে, তার সম্মতি নিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। ফলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা তথ্য হালনাগাদ করা অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।

ভারতে এখন প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই সরকার এখন আরো বেশি মানুষকে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা ও পেনশনের মতো আর্থিক সেবার আওতায় আনতে চায়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা ও পেনশনে অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম।

ভারতে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ কোটি গ্রাহকের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তথ্যে ভুল, একই ব্যক্তির একাধিক রেকর্ড এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে এটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া আরবিআই এই তথ্য ব্যবহার না করায় গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বারবার একই নথি জমা দিতে হতো।

নতুন সিকেওয়াইসি ২.০ ব্যবস্থায় প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্যতার স্কোর থাকবে। এতে বোঝা যাবে তথ্যটি কতটা নির্ভরযোগ্য এবং কোনো প্রতিষ্ঠান সেটি যাচাই করেছে কি না। এই তথ্য ব্যবহারের আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওটিপির মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি নিতে হবে।

এই ব্যবস্থার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটিয়ান ইগভ টেকনোলজিস-এর প্রধান কর্মকর্তা রাকেশ দোসি বলেন, নতুন স্কোরের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই বুঝতে পারবেন তাদের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য। ভারতের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট-এর যুগ্ম প্রধান নির্বাহী ডি.পি. সিং বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

তিনি জানান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৫০ কোটি গ্রাহকের অল্প একটি অংশও যদি বিনিয়োগ শুরু করেন, তাহলে এর বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আশা করেন, আগামী চার মাসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এই ব্যবস্থা চালু হবে। এদিকে ভারতের বৃহত্তম অনলাইন বীমা মার্কেটপ্লেস পলিসিবাজার-এর বিজনেস প্রধান পারাস পাসরিচা বলেন, নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকদের তথ্য প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা যাবে। 

তিনি জানান, বীমা কোম্পানিগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগস্ট মাসে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।


 

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তে স্থগিতাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তে স্থগিতাদেশ
ছবি : রয়টার্স।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা আদালতের একটি আদেশে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। শুক্রবার আদালত তার বিরুদ্ধে ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে পার্লামেন্টের অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) তদন্ত আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

এর ফলে আপাতত তাকে অভিশংসন তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে না। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি আদালতে আবেদন করবেন, যাতে তার বিরুদ্ধে করা তদন্ত প্রতিবেদনটি বাতিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে থাকতে পারেন। ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। 

সে সময় রামাফোসার খামারের একটি সোফা থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি হয়। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ মহিষ বিক্রির টাকা ছিল। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন সোফার ভেতরে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় দুর্নীতিবিরোধী নেতা হিসেবে তার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিশংসন প্রক্রিয়া সংসদে ভোট পর্যন্ত গেলেও রামাফোসার পদ হারানোর সম্ভাবনা কম। 

কারণ, তিনি এখনও তার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর সমর্থন পাচ্ছেন। এএনসি দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং বর্তমানে জোট সরকার পরিচালনা করছে। জোটের সব শরিক দল অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কয়েকটি দল রামাফোসার পক্ষেই থাকবে। এ ছাড়া তাকে পদে রাখতে এএনসির এককভাবেই পর্যাপ্ত সংসদ সদস্য রয়েছে।

এএনসির প্রধান জোটসঙ্গী ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ) বলেছে, রামাফোসার বিরুদ্ধে করা তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়া উচিত। দলটি জানায়, দেশের জনগণের সত্য জানার অধিকার রয়েছে এবং সরকারি পদে থাকা সবার জন্য একই ধরনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।

রামাফোসার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি আদালতের আদেশকে সম্মান জানিয়েছেন এবং পুরো আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন। ৭৩ বছর বয়সী সিরিল রামাফোসা ২০১৮ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনে টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনে টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর অভিযোগ
ছবি: রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনলাইন কনটেন্ট নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, টিকটকের কিছু নকশাগত বৈশিষ্ট্য শিশুদের অনলাইনে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে শিশুরা যৌন শিকারি বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইইউ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে টিকটককে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর আওতায় এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রাথমিক তদন্তের ফল। ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হয়। গত দুই বছরে টিকটকের বিরুদ্ধে এটি ইইউর আনা চতুর্থ অভিযোগ।

ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ, টিকটকের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নকশা শিশুদের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করছে না। কমিশনের মতে, টিকটকে শিশুদের অ্যাকাউন্ট অনেক ক্ষেত্রে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা যায়। এতে অপরিচিত ব্যক্তিরা তাদের পোস্ট দেখতে পারে। এর ফলে শিশুরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারে বা অনলাইনে ক্ষতিকর ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসতে পারে। কমিশন আরো বলেছে, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট করলেও শিশুদের পুরোপুরি নিরাপদ রাখা যাচ্ছে না। কারণ অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের অনুসরণ তালিকা ও অনুসারীর তালিকার মাধ্যমে সহজেই তাদের খুঁজে বের করতে পারে। এমনকি যাদের টিকটক অ্যাকাউন্ট নেই, তারাও কিছু ক্ষেত্রে এই তথ্যের মাধ্যমে শিশুদের শনাক্ত করতে পারে বলে কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইইউর নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টের ডিফল্ট বা স্বাভাবিক সেটিংসে পরিবর্তন আনা দরকার।

ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে টিকটক। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। টিকটকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কিশোরদের অ্যাকাউন্টে শুরু থেকেই ৫০টির বেশি নির্ধারিত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।' প্রতিষ্ঠানটি আরো বলেছে, ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শুরু থেকেই ব্যক্তিগত থাকে। টিকটকের দাবি, তারা এমন কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের একটি যেখানে কম বয়সী কিশোররা সরাসরি বার্তা পাঠানোর সুবিধা ব্যবহার করতে পারে না। এছাড়া তাদের কনটেন্ট ‘ফর ইউ’ ফিডে দেখানোর জন্য নির্বাচন করা হয় না।

এখন টিকটক ইউরোপীয় কমিশনের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি নিজের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা জমা দিতে পারবে। সব তথ্য পর্যালোচনার পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী টিকটকের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন বলেন, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সেবার নকশার মধ্যেই শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'প্ল্যাটফর্মগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তারা তা করতে ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'উচ্চমানের নিরাপত্তা আলাদা করে চালু করার মত কোনো বিষয় নয়। এটি শুরু থেকেই সেবার স্বাভাবিক অংশ হওয়া উচিত।' টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর এই পদক্ষেপ ইউরোপে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তে থাকা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।