• ই-পেপার

শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনে টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর অভিযোগ

একবার পরিচয় যাচাই করেই মিলবে একাধিক আর্থিক সেবা, নতুন ব্যবস্থা আনছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
একবার পরিচয় যাচাই করেই মিলবে একাধিক আর্থিক সেবা, নতুন ব্যবস্থা আনছে ভারত
ছবি : রয়টার্স

ভারত সরকার এমন একটি নতুন ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক একবার পরিচয় যাচাই করেই ব্যাংক, বীমা, মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতও দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকদের আর বারবার একই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে না। এতে আর্থিক সেবা নেওয়া সহজ হবে এবং লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ায় জালিয়াতি কমানোও সম্ভব হবে।

সূত্রগুলোর মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মিউচুয়াল ফান্ড, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের অন্যান্য সংস্থাও এই ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) এবং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

নিয়ন্ত্রক সূত্র ও আর্থিক খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে ভারতীয় ব্যাংক ও বীমা কম্পানিগুলো সেন্ট্রাল নো-ইয়োর-কাস্টমার ২.০ (সিকেওয়াইসি ২.০) নামে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করবে। পরে এতে মিউচুয়াল ফান্ড ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিগুলোও যুক্ত হবে।

এই ব্যবস্থায় গ্রাহকের তথ্য একবার কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হলে, তার সম্মতি নিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। ফলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা তথ্য হালনাগাদ করা অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।

ভারতে এখন প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই সরকার এখন আরো বেশি মানুষকে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা ও পেনশনের মতো আর্থিক সেবার আওতায় আনতে চায়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা ও পেনশনে অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম।

ভারতে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ কোটি গ্রাহকের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তথ্যে ভুল, একই ব্যক্তির একাধিক রেকর্ড এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে এটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া আরবিআই এই তথ্য ব্যবহার না করায় গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বারবার একই নথি জমা দিতে হতো।

নতুন সিকেওয়াইসি ২.০ ব্যবস্থায় প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্যতার স্কোর থাকবে। এতে বোঝা যাবে তথ্যটি কতটা নির্ভরযোগ্য এবং কোনো প্রতিষ্ঠান সেটি যাচাই করেছে কি না। এই তথ্য ব্যবহারের আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওটিপির মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি নিতে হবে।

এই ব্যবস্থার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটিয়ান ইগভ টেকনোলজিস-এর প্রধান কর্মকর্তা রাকেশ দোসি বলেন, নতুন স্কোরের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই বুঝতে পারবেন তাদের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য। ভারতের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট-এর যুগ্ম প্রধান নির্বাহী ডি.পি. সিং বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

তিনি জানান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৫০ কোটি গ্রাহকের অল্প একটি অংশও যদি বিনিয়োগ শুরু করেন, তাহলে এর বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আশা করেন, আগামী চার মাসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এই ব্যবস্থা চালু হবে। এদিকে ভারতের বৃহত্তম অনলাইন বীমা মার্কেটপ্লেস পলিসিবাজার-এর বিজনেস প্রধান পারাস পাসরিচা বলেন, নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকদের তথ্য প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা যাবে। 

তিনি জানান, বীমা কোম্পানিগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগস্ট মাসে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।


 

নরেন্দ্র মোদীর ভিউর বিশ্বরেকর্ড

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
নরেন্দ্র মোদীর ভিউর বিশ্বরেকর্ড
ছবি : রয়টার্স

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও ভিউর বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর ভিডিওটি ৩০ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দেখেছে।

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ভিউর আগের বিশ্বরেকর্ডটি ছিল ৩০ কোটির। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড দক্ষিণ কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস-এর সদস্যদের সাথে দেখা করার ভিডিওটি রিল হিসেবে পোস্ট করেছিলেন। সেই রিলটি ২৪ ঘণ্টায় ৩০ কোটি মানুষ দেখেছিল। নরেন্দ্র মোদীর রিলের ভিউ এখন প্রায় ৩৩ কোটি। রেকর্ড গড়া এই ভিডিও পোস্ট করার পর মোদীর একাউন্টে এক মিলিয়ন নতুন ফলোয়ার যুক্ত হয়েছেন।

ভারতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার ৪০ সেকেন্ডের সেলফি ভিডিও রিল ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। সংক্ষিপ্ত বার্তার রিলটিতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে গত আড়াই মাসে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দায়ীদের কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য এরইমধ্যে আবার পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, তার সরকার একটি আইন প্রণয়ন করছে, যেখানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের জন্য দ্রুত বিচার আদালত এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।

আন্দোলনে থাকা জেন-জি প্রজন্মের সাথে নিজেকে কানেক্ট করতে নরেন্দ্র মোদী কিছু কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি খুব ইনফরমাল ভঙ্গিতে সেলফি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তার বক্তব্য ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত ও পয়েন্টনির্ভর।

নরেন্দ্র মোদী মধ্যরাতে রিলটি পোস্ট করেন, যখন জেন-জি প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সক্রিয় থাকে। তার কৌশল কাজে লেগেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে রেকর্ডভাঙ্গা সাড়ায় অভিভূত নরেন্দ্র মোদী ২৪ ঘণ্টা পর আবার ইনস্টাগ্রামে হাজির হন। এবার অবশ্য ধন্যবাদ দিতে।

শুক্রবার মধ্যরাতে মাত্র ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি তিনি শুরুই করেছেন, ‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’ বলে। ভারতের যুবসমাজকে তাদের ইতিবাচক মতামত, সমর্থন ও সুন্দর পরামর্শ দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে মোদী বলেন, জনগণের মতামত নেতৃত্ব ও নাগরিকদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে।

গঠনমূলকভাবে পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি আপনাদের এই ভালোবাসা বজায় থাকবে এবং আমাদের এই বন্ধন আরও প্রাণবন্তভাবে যুক্ত হতে থাকবে।’
 

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তে স্থগিতাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তে স্থগিতাদেশ
ছবি : রয়টার্স।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা আদালতের একটি আদেশে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। শুক্রবার আদালত তার বিরুদ্ধে ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে পার্লামেন্টের অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) তদন্ত আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

এর ফলে আপাতত তাকে অভিশংসন তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে না। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি আদালতে আবেদন করবেন, যাতে তার বিরুদ্ধে করা তদন্ত প্রতিবেদনটি বাতিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে থাকতে পারেন। ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। 

সে সময় রামাফোসার খামারের একটি সোফা থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি হয়। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ মহিষ বিক্রির টাকা ছিল। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন সোফার ভেতরে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় দুর্নীতিবিরোধী নেতা হিসেবে তার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিশংসন প্রক্রিয়া সংসদে ভোট পর্যন্ত গেলেও রামাফোসার পদ হারানোর সম্ভাবনা কম। 

কারণ, তিনি এখনও তার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর সমর্থন পাচ্ছেন। এএনসি দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং বর্তমানে জোট সরকার পরিচালনা করছে। জোটের সব শরিক দল অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কয়েকটি দল রামাফোসার পক্ষেই থাকবে। এ ছাড়া তাকে পদে রাখতে এএনসির এককভাবেই পর্যাপ্ত সংসদ সদস্য রয়েছে।

এএনসির প্রধান জোটসঙ্গী ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ) বলেছে, রামাফোসার বিরুদ্ধে করা তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়া উচিত। দলটি জানায়, দেশের জনগণের সত্য জানার অধিকার রয়েছে এবং সরকারি পদে থাকা সবার জন্য একই ধরনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।

রামাফোসার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি আদালতের আদেশকে সম্মান জানিয়েছেন এবং পুরো আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন। ৭৩ বছর বয়সী সিরিল রামাফোসা ২০১৮ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসির প্রসিকিউটর বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসির প্রসিকিউটর বরখাস্ত
ছবি : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলো গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। শুক্রবার আইসিসি এ তথ্য জানায়।

রয়টার্সের দেখা নথি অনুযায়ী, গত মাসে আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী ব্যুরোর কূটনীতিকরা অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ ব্যারিস্টার করিম খান আদালতের এক জুনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে অনুচিত যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়। পরে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি দেশ সেই সুপারিশের পক্ষে ভোট দেয়।

আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পাইভি কাউকোরান্টা বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে করিম খান গুরুতর অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে গুরুতর বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাই তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে ৫৬ বছর বয়সী করিম খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী তাইয়্যাব আলী বলেন, এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতা চ্যালেঞ্জ করতে করিম খান আইনে থাকা সব ধরনের সুযোগ ব্যবহার করবেন।

করিম খানকে অপসারণের ফলে আইসিসির নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আগামী বছরের আগে নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের অধ্যাপক লায়লা সাদাত বলেন, আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংকটে থাকা একজন কর্মকর্তাকে সরিয়েছে, যাতে আইসিসি তার গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

এদিকে করিম খানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আবারও আইসিসির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আইসিসি তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ফিলিপাইন সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক কর্মকর্তার বিচার এই আদালতে হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট করিম খানের অপসারণকে স্বাগত জানালেও বলেন, এতে আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলাবে না। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে তদন্তের জেরে যুক্তরাষ্ট্র করিম খানসহ আইসিসির ১১ জন বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাইরা উইগার্ড বলেন, করিম খানকে অপসারণের মাধ্যমে আইসিসি দেখিয়েছে, তারা নিজেদের কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। তবে আদালতের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেও আইসিসি তার স্বাধীনতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না। এদিকে করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা নারী গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সিএনএনকে প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দিয়ে আবারও দাবি করেন, করিম খান তার সঙ্গে সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।

অন্যদিকে, করিম খানের আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি ওই জুনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক ছিল, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তবে করিম খানকে বরখাস্ত করা হলেও তার সময়ে আইসিসি যেসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, সেগুলো বহাল থাকবে। কারণ, এসব পরোয়ানা বাতিল বা প্রত্যাহারের ক্ষমতা শুধু আইসিসির বিচারকদের রয়েছে।