• ই-পেপার

একবার পরিচয় যাচাই করেই মিলবে একাধিক আর্থিক সেবা, নতুন ব্যবস্থা আনছে ভারত

ভিডিও নয়, অ্যাকশন চায় শিক্ষার্থীরা, মোদিকে রাহুল

অনলাইন ডেস্ক
ভিডিও নয়, অ্যাকশন চায় শিক্ষার্থীরা, মোদিকে রাহুল
ছবি : রয়টার্স

শিক্ষার্থীরা যখন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে আন্দোলন করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও নিয়ে ব্যস্ততার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

শনিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন ও অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকাল গভীর রাতে ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত। তিনি বলছেন যে তিনি পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অ্যাকশন চায়, আশ্বাস নয়। প্রধানমন্ত্রীর উচিত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা।’ 

গত বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্র মোদির ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আশ্বাস দেন। সেই ভিডিও ২৪ ঘণ্টায় ৩০ কোটি ৩০ লাখ ভিউ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লে শুক্রবার মধ্যরাতে আরেক ভিডিওতে সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। 

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্তর-মন্তরে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। গত ২৮ জুন অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরে শিক্ষার্থীদের অনেকেও অনশনে যোগ দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে না, এমন আশ্বাসে ২৬ দিন পর গত বৃহস্পতিবার সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙ্গেন। 

শনিবার রাহুল গান্ধী আন্দোরণ ও অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে যন্তর-মন্তরে যান। আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম তিনি যন্তর-মন্তরে এলেন। শিক্ষার্থীদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা ব্যবস্থার ‘দুর্নীতি ও ধ্বংসের’ প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে রাহুল গান্ধী বলেন, তাঁকে বরখাস্ত করা ছাড়া অন্য কিছুতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হবে না। 

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে সরকারের ভেতর প্রধানকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এটি গ্রহণযোগ্য হবে না। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে প্রধানকে সরকারের বাইরে যেতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির পুনরাবৃত্তি করে রাহুল গান্ধী তার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থীর পায়ের আঘাতের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গান্ধী বলেন, ‘যারা আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদের এর মূল্য দিতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যারা ছররা গুলি চালিয়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।‘ 

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘পুরো শাসনযন্ত্রের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উচিত দিল্লির যেসব শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভারতের ‘অতীত’ এবং শিক্ষার্থীদের ’ভবিষ্যত’ উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘অতীত কখনো ভবিষ্যতের সাথে লড়াই করতে পারে না।’ 

আন্দোলনকারীদের খাবার সরবরাহে বাধা, সিজেপির অভিযোগ নাকচ করল পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
আন্দোলনকারীদের খাবার সরবরাহে বাধা, সিজেপির অভিযোগ নাকচ করল পুলিশ
ছবি: রয়টার্স

দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের জন্য খাবার পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নয়াদিল্লি এলাকায় খাবার সরবরাহকারী কোনো সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, জন্তর মন্তর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে দিল্লি পুলিশ একাধিক তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে। তার দাবি, এসব তল্লাশিচৌকিতে আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কাছে খাবার পৌঁছাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। রাঙ্কা পোস্টে লেখেন, 'প্রিয় দিল্লি পুলিশ, তোমরা যা ইচ্ছা করতে পারো। কিন্তু মানুষকে জন্তর মন্তরে আসা থামাতে পারবে না। মানুষকে খাবার খাওয়া থেকে আটকাতে পারবে না। আমাদের সাহায্য করা থেকেও কাউকে বিরত রাখতে পারবে না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রধানের পদত্যাগ ঠেকাতে পারবে না। তিনি পদত্যাগ করছেন।'

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে, জন্তর মন্তরের আন্দোলনের কারণে নয়াদিল্লি এলাকায় সুইগি, জোম্যাটোসহ বিভিন্ন অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে এই দাবি দ্রুত নাকচ করে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। পুলিশ জানায়, নয়াদিল্লি এলাকায় খাবার সরবরাহকারী কোনো অ্যাপ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে বিশ্বাস না করার জন্যও সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়।

কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওইসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিক্ষোভস্থলে পড়ে থাকা খাবারের প্যাকেট, মোড়ক ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করে আন্দোলনকারীদের খাবার সরবরাহ করা রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো শনাক্ত করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রতিবেদনগুলোতে আরো বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তারা কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে গিয়ে গত কয়েক দিনের খাবারের অর্ডার ও সরবরাহের তথ্য যাচাই করেছেন।

কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, পুলিশ তাদের কাছে অনলাইনে দেওয়া অর্ডারের তথ্য, বিনা মূল্যে সরবরাহ করা খাবারের তালিকা এবং কারা এসব খাবার পাঠিয়েছেন, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন রেস্তোরাঁ মালিক অভিযোগ করেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ স্টেশনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাদের দাবি, পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমাজবিরোধী ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন। তাই ভবিষ্যতে বিক্ষোভস্থলে বিনা মূল্যে খাবার না পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বড় অঙ্কের অনলাইন অর্ডার গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহের ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের একটি যান চলাচল–সংক্রান্ত পরামর্শ প্রকাশের পর। ওই পরামর্শে বলা হয়, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা বিধিনিষেধের কারণে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সীমিত এলাকায় অ্যাপভিত্তিক যাতায়াত সেবা, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পণ্য পরিবহনকারী সংস্থা এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, খাবার সরবরাহকারী সেবার ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সেখান থেকেই বিভ্রান্তি আরো বেড়ে যায়।

বিতর্ক বাড়তে থাকলে দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে নয়াদিল্লি এলাকায় সব খাবার সরবরাহকারী অ্যাপের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। নয়াদিল্লি এলাকায় খাবার সরবরাহকারী কোনো সেবার ওপর দিল্লি পুলিশ কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।'

বরখাস্ত ইউক্রেনীয় মন্ত্রীকে দলে টানতে চায় ইতালি

অনলাইন ডেস্ক
বরখাস্ত ইউক্রেনীয় মন্ত্রীকে দলে টানতে চায় ইতালি
সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া মিখাইলো ফেদোরভকে নিজের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো। শনিবার ইতালির দৈনিক 'লা রিপুবলিকা'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রোসেত্তো এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পরদিনই তিনি ফোন করেছিলেন। ক্রোসেত্তোর ভাষায়, 'আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি কবে রোমে এসে আমার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে চাও?' ফেদোরভ এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সাবেক ইউক্রেনীয় মন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি জানান, ফেদোরভ এই প্রস্তাবকে সম্মান ও বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে দেখেছেন।

সাক্ষাৎকারে গুইদো ক্রোসেত্তো ইউক্রেনের যুদ্ধে ফেদোরভের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন ফেদোরভ। ক্রোসেত্তোর মতে, ফেদোরভ এমন কয়েকজন মানুষের একজন, যারা আধুনিক যুদ্ধের ধরনই বদলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনকে সহায়তা করেছিলেন ফেদোরভ। পরে একই কৌশলের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনকে আবারও উদ্যোগ ফিরে পেতে সাহায্য করেন।

৩৫ বছর বয়সী মিখাইলো ফেদোরভ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ এবং সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার সমর্থকদের মতে, ইউক্রেনের ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক সংস্কার এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চলতি মাসে ইউক্রেন সরকার ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়। 

এই সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে যুদ্ধ চলাকালে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে সরকারের অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার প্রস্তাব দেন। তবে ফেদোরভ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়া সরকারের অন্য কোনো দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন না।

এক ছবির সূত্রে মিলে গেলো বহু বছর বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
এক ছবির সূত্রে মিলে গেলো বহু বছর বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার
সংগৃহীত ছবি

চীনে ভ্রমণের সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে বহু বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক আত্মীয়ের সন্ধান পেলেন এক ব্যক্তি। শুধু একজন অচেনা পর্যটকের ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ থেকেই শুরু হয় কথোপকথন। পরে সেই আলাপেই জানা যায়, তারা একই পরিবারের সদস্য। কয়েক দশক পর আবারও এক হতে যাচ্ছে দুই পরিবার। এ তথ্য জানিয়েছে 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'।

সাংহাইয়ের বাসিন্দা চেন জিয়ে চলতি জুলাইয়ের শুরুতে কাজের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে যান। কাজের ফাঁকে তিনি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লুগু হ্রদ ঘুরতে যান। গত ৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে তিনি হ্রদের পাশে সূর্যোদয় উপভোগ করছিলেন। এ সময় এক বয়স্ক পর্যটক তাকে নিজের একটি ছবি তুলে দিতে বলেন। ছবি তোলার পর দুজনের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তা শুরু হয়। কথা বলতে বলতে তারা জানতে পারেন, তাদের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আলাপের এক পর্যায়ে চেন জানতে পারেন, ওই পর্যটকের পদবি ফেই। তিনি তাইওয়ানের কাওশিউং শহরের বাসিন্দা। তবে তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল চীনের চেচিয়াং প্রদেশের থুংশিয়াং এলাকার ছোট শহর পুইউয়ানে। এ কথা শুনে চেন বিস্মিত হন। কারণ তার নিজের বাড়িও একই শহর পুইউয়ানে। এরপর তারা একসঙ্গে একটি ছবি তোলেন এবং একে অপরের যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরে ওই পর্যটক সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে গিয়ে চেনের মনে সন্দেহ হয়, তারা হয়তো আত্মীয়।

চেন বিষয়টি তার বাবাকে জানান। তখন তার বাবা জানতে চান, ওই ব্যক্তির বাবার নাম ফেই ইউনফেং কি না। চেন বিষয়টি ফেইকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সেটি নিশ্চিত করেন। এরপর পরিবারের পুরোনো তথ্য মিলিয়ে চেন নিশ্চিত হন, ফেই আসলে তাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই পরিবারের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। চেন জানান, ফেইয়ের বাবা এবং তার নিজের দাদা ছিলেন আপন ভাই। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার আগে ফেইয়ের বাবা কুওমিনতাং বাহিনীর সঙ্গে তাইওয়ানে চলে যান। এরপর দুই পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে চেনের দাদাকে পরে চেন পদবির এক দম্পতি দত্তক নেন। এর ফলে তার পদবিও বদলে যায়। এই কারণেই এত বছর ধরে দুই পরিবারের সদস্যরা একে অপরের খোঁজ পাননি। চেন বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী ফেই তার চাচা হন।

চেন বলেন, প্রায় ২০ সদস্যের তাদের বড় পরিবারকে তিনি পুরো ঘটনাটি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, পরিবারের সবাই মনে করছেন, এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক কাকতালীয় ঘটনা, যেন জাদুর মতো। অন্যদিকে ফেইও এই ঘটনার কথা ভেবে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে তখন অনেক মানুষ ছিলেন। কিন্তু ছবি তুলে দেওয়ার জন্য তিনি শুধু চেন জিয়েকেই বেছে নিয়েছিলেন। ফেইর বিশ্বাস, তাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল বলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, আগামী মাসে তিনি পুইউয়ান সফরে যাবেন। সেখানে চেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা করবেন। চেন বলেন, এত বছর পর দুই পরিবারের সম্পর্ক আবার তৈরি হয়েছে। এখন সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতে ধরে রাখার দায়িত্ব হয়তো তাদের প্রজন্মের ওপরই থাকবে।