হাঁটু প্রতিস্থাপন কী?
হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষয়ে যাওয়া হাড় ও কার্টিলেজ (নরম হাড়) অপসারণ করে সেখানে ধাতু, টাইটানিয়াম বা বিশেষ বায়োকম্প্যাটিবল উপাদান দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ইমপ্ল্যান্ট বা জয়েন্ট বসিয়ে দেওয়াকে হাঁটু প্রতিস্থাপন বা নীল রিপ্লেসমেন্ট বলা হয়। এর ফলে হাঁটুর স্বাভাবিক নড়াচড়া, ভার বহনের ক্ষমতা এবং ব্যথামুক্ত জীবন ফিরে আসে।
কোমর (হিপ) প্রতিস্থাপন কী?
কোমরের জয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত বল ও সকেট অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিম ধাতব, সিরামিক বা উচ্চমানের প্লাস্টিকের জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করাকে কোমর প্রতিস্থাপন বা হিপ রিপ্লেসমেন্ট বলা হয়। এতে তীব্র ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন।
কখন এবং কাদের জন্য এই সার্জারি?
নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে হাঁটু বা কোমর প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে—
তীব্র অস্টিওআর্থ্রাইটিস
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
আঘাতজনিত জয়েন্ট ক্ষতি
হাড়ের টিউমার
হাড়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়া
জন্মগত জয়েন্টের ত্রুটি
দীর্ঘদিনের অসহনীয় ব্যথা
ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা ইনজেকশনেও উপকার না পাওয়া
হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা বা দৈনন্দিন কাজ করতে না পারা
হাঁটু বেঁকে যাওয়া বা কোমরের জয়েন্ট বিকৃত হয়ে যাওয়া
যাদের জন্য প্রযোজ্য :
সাধারণত ৫০–৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই অপারেশনের হার বেশি হলেও, প্রয়োজন হলে কম বয়সেও এই অস্ত্রোপচার করা যায়।
কী দিয়ে তৈরি?
আধুনিক ইমপ্ল্যান্টগুলো শরীরের সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এমন বায়োকম্প্যাটিবল উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এগুলোতে ব্যবহৃত হয়—
ক্যোবাল্ট-ক্রোমিয়াম অ্যালয়
টাইটানিয়াম অ্যালয়
সিরামিক
মেডিকেল গ্রেড আল্ট্রা-হাই-মলিকুলার-ওয়েট পলিইথিলিন ইত্যাদি।
এসব উপাদান দীর্ঘদিন টেকসই থাকে এবং জয়েন্টকে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।
অপারেশনের সুবিধা :
এটা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতির চিকিৎসা যাতে অপারেশন করে আধুনিক ডিভাইস বসিয়ে দেওয়া হয়। অপারেশনের পর যেসব লাভ হয় তা হলো—
দীর্ঘদিনের ব্যথা থেকে স্থায়ী মুক্তিলাভ
স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সক্ষমতা ফিরে আসে
লাঠি বা অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন কমে যায়
হাঁটু বা কোমরের স্বাভাবিক আকৃতি ও ভারসাম্য ফিরে আসে
দৈনন্দিন কাজ সহজ হয়
জীবনযাত্রার মান ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি।
আধুনিক ইমপ্ল্যান্ট সঠিক যত্নে সাধারণত ১৫–২৫ বছর বা তারও বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে।
অপারেশনের পর করণীয় :
নিয়মিত ফিজিওথেরাপি
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম
ওজন নিয়ন্ত্রণ
সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা
নিয়মিত ফলো-আপ
বাংলাদেশে বাস্তবতা :
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থোপেডিক সার্জনগন বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে হাঁটু ও কোমর প্রতিস্থাপন করছেন। উন্নত বিশ্বের তুলনায় এ দেশে চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক কম হলেও হাসপাতাল, সার্জনের অভিজ্ঞতা, ইমপ্ল্যান্টের ব্র্যান্ড (আমেরিকান, ইউরোপীয় বা অন্যান্য) এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বিক খরচ নির্ভর করে।
লেখক : চিফ কনসালটেন্ট , অর্থোপেডিক ও অর্থোপ্লাস্টি সেন্টারের প্রধান, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল






