• ই-পেপার

ব্রাজিল নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসা বাতিল

উপসাগরে মার্কিন হামলা বন্ধ, তবে ইরান যুদ্ধ ছড়াল লোহিত ও কাস্পিয়ান সাগরে

অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরে মার্কিন হামলা বন্ধ, তবে ইরান যুদ্ধ ছড়াল লোহিত ও কাস্পিয়ান সাগরে
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা হঠাৎ স্থগিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে লোহিত সাগর উপকূলীয় সৌদি তেল স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে তেহরান।

টানা ১৩ রাত ধরে ব্যাপক হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী হঠাৎ আক্রমণ থামিয়ে দিয়েছে। তবে লোহিত সাগরে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নৌ অবরোধ এখনও বহাল রয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রাগারে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কৌশলগতভাবে কূটনীতিতে প্রাধান্য দিচ্ছে।

তবে এই বিরতির সুযোগেও যুদ্ধ থামেনি, বরং নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জিজান ও ইয়ানবু শহরের সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনের মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। এর মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে চলা দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে হামলার পর তেহরান ও কিইভের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত ও একজন আহত হওয়ায় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরানকে উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর—একযোগে যুদ্ধের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নিজস্ব নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং দেশটির সব তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

কঙ্গোতে ইবোলা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩০৭৫

অনলাইন ডেস্ক
কঙ্গোতে ইবোলা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩০৭৫
ছবি : রয়টার্স

কঙ্গোতে ইবোলা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩০৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে জানানো হয়। 

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবটি মহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের নজরদারির আড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর, গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার নতুন করে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণটি বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ ভাইরাসের কারণে ঘটেছে, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও প্রতিষেধক খোঁজার আশায় গবেষকদের বহু প্রতীক্ষিত একটি গবেষণার পর চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) শুরু হয়েছে। তবে কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে তহবিলের তীব্র ঘাটতি, অন্যদিকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় সংঘাতময় এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পুরোপুরি কাজ করতে পারছেন না।

জার্মানিতে প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় নিহত ১, সন্দেহভাজন পলাতক

অনলাইন ডেস্ক
জার্মানিতে প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় নিহত ১, সন্দেহভাজন পলাতক
ছবি : রয়টার্স

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উদযাপন চলাকালে জনতার ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছে টিয়ারগার্টেন পার্কে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর চালক গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ধরতে জার্মানিজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে এক চরমপন্থী ইসলামপন্থীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের ভ্যান বা মিনিবাস টিয়ারগার্টেন পার্কে উদযাপনে থাকা ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একাধিক পথচারীকে আঘাত করার পর গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আহত ১৭ জনের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলার পরপরই চালক গাড়িটি ফেলে রেখে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, তারা সন্দেহভাজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছে। উক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বার্লিনের চরমপন্থী ইসলামপন্থী মহলের সদস্য হিসেবে পুলিশের তালিকায় তালিকাভুক্ত ছিলেন। ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম এলজিবিটিকিউ আয়োজন ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ বার্লিনে সমবেত হয়েছিলেন, তবে এই ঘটনার পর উৎসবের স্থানজুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক স্টোনওয়াল আন্দোলনের স্মরণে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতি বছর বার্লিনে সমতা ও বৈষম্যবিরোধী এই প্রাইড প্যারেড আয়োজিত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে ভিড়ের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর আগে লাইপজিগ, ম্যানহাইম ও ম্যাগডেবার্গের ক্রিসমাস মার্কেটেও গাড়ি হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-রাশিয়ার আপত্তির পরও আবার মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-রাশিয়ার আপত্তির পরও আবার মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক
ফলকার তুর্ক

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের আপত্তির পরও আবার চার বছর জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশার হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন ফলকার তুর্ক।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে এই পদে পুনরায় বিজয়ী হন তুর্ক। তিনি ২০২২ সাল থেকে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের পদটি সৃষ্টির পর—প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টানা দুটি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পেয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি।

অস্ট্রিয়ার আইনজীবী তুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন এবং সংস্থাটির শরণার্থীবিষয়ক এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন। এই সুবাদে তিনি মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে দায়িত্বে ছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার যুদ্ধ এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুর্ক। এ ছাড়া আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নিকারাগুয়ার সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়েও সরব ছিলেন তিনি।

ইসরায়েল, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে তুর্কের প্রকাশ্য ও জোরালো সমালোচনা তাকে এই তিন দেশের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তুর্ক বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জবাবদিহিতার "লজ্জাজনক" অভাব নিয়েও সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে "অর্থহীন" ও "জাতিসংঘ সনদ ও সব আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছেন।