• ই-পেপার

এইচএসসির রসায়ন প্রশ্নে ভুল নেই, উত্তরপত্র মূল্যায়নে বোর্ডের নির্দেশিকা প্রকাশ

এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক
এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
সংগৃহীত ছবি

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পেতে দিন গুনছেন ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের ফল নিয়ে উৎকণ্ঠায় অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরাও। বারবার পরীক্ষার তারিখ পেছানোয় সেই উদ্বেগ আরো বাড়ছে। 

তবে আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও  আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পরীক্ষার্থীদের এ অপেক্ষা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। চলতি মাসেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ঠিক কবে ফল প্রকাশ করা হবে, তার দিনক্ষণ এখনো ঠিক  হয়নি।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ২০ তারিখের (জুলাই) মধ্যে ফল প্রকাশের চেষ্টা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। এখন ২৭ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে ফল রেডি করে ফেলব। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন বলবে, সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘বোর্ড যদি ২৮ তারিখের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে তাহলে চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সেটা হতে পারে ৩০ জুলাই।’

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী—পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।

 

আইসিসিবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা : শেষ দিনেও শিক্ষার্থীদের ভিড়

তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী-অভিভাবক উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সেবা নিয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইসিসিবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা : শেষ দিনেও শিক্ষার্থীদের ভিড়
আইসিসিবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলার শেষ দিনে গতকাল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কেউ ব্যস্ত বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ, ভর্তিপ্রক্রিয়া জানতে, আবার কেউ ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন সম্পর্কে জানতে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুযোগ, টিউশন ফি, ভিসা প্রক্রিয়াসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পরামর্শ দিতে ব্যস্ত স্টল প্রতিনিধিরা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলার শেষ দিনে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ মেলায় অন্তত ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সেবা নিয়েছেন।

আইসিসিবির গুলনকশা হলে দেখা যায়, মেলার প্রথম দুই দিনের তুলনায় গতকাল শেষ দিনে উপস্থিতি বেশি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরা এসেছেন।

প্রতিটি স্টলে ভিড় লক্ষণীয়। টিউশন ফি, ভিসাপ্রক্রিয়া ও ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার আগ্রাহ বেশি লক্ষ করা গেছে। অনেককেই একই সঙ্গে কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধা তুলনা করতে দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ বলেন, ‘এক জায়গায় বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা হয়েছে, যা জানতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগত। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিপ্রক্রিয়া, টিউশন ফি ও স্কলারশিপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সুবিধা হবে।’

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। সেখানকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সম্পর্কে জানতে এসেছি।

আইইএলটিএস প্রস্তুতি, ভিসাপ্রক্রিয়া এবং পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ারের সুযোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত জেনেছি।’

মেলায় আসা অভিভাবক মো. আবদুল করিম বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় সন্তানকে বিদেশে পড়াতে চাই। কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়া সব সময় সহজ হয় না। খরচ, বৃত্তি এবং নিরাপদ ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুবই জরুরি। মেলায় এসে মোটামুটি একটা ধারণা হয়েছে।’

আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ মেলায় গতকাল শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এবারের উৎসবে ৪৫টিরও বেশি দেশের আড়াই হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। স্কলারশিপ, ভর্তিপ্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সেমিনার এবং বিশেষজ্ঞদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সচেতনতার অংশ হিসেবে ছিল ‘লক্ষ্য এক কোটি বৃক্ষ’ উদ্যোগও।

নলেজ হাবের কর্মকর্তা আরিফ সৈয়দ বলেন, গত তিন দিনে প্রায় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পরামর্শ নিয়েছেন। বেশির ভাগই যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা এবং আইইএলটিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে এসেছেন। রাশিয়া সেন্টার ফর এডুকেশনের এমডি ইলিনা বাস জানান, অনেক শিক্ষার্থী এখন শুধু ভর্তি নয়, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করছেন।

এবারের উৎসবে সরাসরি অংশ নিয়েছিল মালয়েশিয়ার সেজি ইউনিভার্সিটি এবং মরিশাসে অবস্থিত ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ভিআইটি) মরিশাস ক্যাম্পাস। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা আইইএলটিএস সেন্টার, নলেজ হাব, ড্রিম স্টাডি ইন্টারন্যাশনাল, এইচ অ্যান্ড এইচ গ্লোবাল এডুকেশন, এডু মেন্টর, ব্রাইট ফিউচার বাই স্যাম, স্টাডি উইন্ডো ইন্টারন্যাশনাল, অ্যাডমিশন কানেক্ট, টপটিয়ার এডুকেশন কনসালট্যান্ট, এইমস এডুকেশন, মাস্টারমাইন্ড ডিজিটাল, এমআইই ইংলিশ একাডেমি, এমআইই পাথওয়েজ, রাশিয়ান সেন্টার ফর এডুকেশন, স্টিকার ভিসা, এডুকোয়েস্ট, এডুকেয়ার এডুকেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন বাংলাদেশ এবং মাস্টার স্যাব।

ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর অব ইভেন্টস অ্যান্ড সেলস আশিকুর রহমান তানভীর বলেন, তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। তাঁরা উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন।

ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব বলেন, ‘বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আজ আর সীমানায় আটকে নেই। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজের জায়গা করে নিক। তৃতীয় দিনের এই বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করে, স্বপ্নটা এখন কতটা বড়।’

প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর খুলল তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত

খুবি প্রতিনিধি
প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর খুলল তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে রবিবার (২৬ জুলাই) থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আপাতত শুরু হচ্ছে না।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শিক্ষক-প্রশাসনের সংহতি প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে ভবনগুলোর তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে দাবি বাস্তবায়নের আগে ক্লাস-পরীক্ষায় না ফেরার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২২ জুলাই রাতে বিজয়’২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে তালা দিয়ে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এর অংশ হিসেবে শনিবার সব ডিসিপ্লিনের প্রধান নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই সভাগুলোতে যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের দাবির প্রতি শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকেরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. নবীউল ইসলাম খান ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ওই আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সব ভবনের তালা খুলে দেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবিগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু (Two Two)’ ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সব স্কুলের ডিন ও ডিসিপ্লিন প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের দুই প্রতিনিধি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে। দাবি বাস্তবায়নের পর স্থগিত পরীক্ষার নতুন সূচি দ্রুত প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নের আগে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মানসিক চাপ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল।

গত বুধবার রাতে বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীও গ্রেপ্তার হন।

এর আগে গত ১৮ জুন অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে গত বছরের আগস্টে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর উভয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিনিয়র স্টাফ নার্সের পরীক্ষা ৩ আগস্ট, মানতে হবে যেসব নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক
সিনিয়র স্টাফ নার্সের পরীক্ষা ৩ আগস্ট, মানতে হবে যেসব নিয়ম
সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ (দশম গ্রেড) পদে অনলাইনে আবেদনকারী প্রার্থীদের বাছাই (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এ বিজ্ঞপ্তির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার)। ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। রাজধানীর ২৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা।

নম্বরবন্টন

পরীক্ষায় মোট ১০০ (একশত)টি প্রশ্ন থাকবে। বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)-২০, প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয়-৪০–সহ পূর্ণমান হবে ১০০ নম্বর। পরীক্ষার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ (এক) নম্বর পাবেন। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হবে। পরীক্ষার পূর্ণ সময় ০১ (এক) ঘণ্টা।

পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাসংক্রান্ত নানা নির্দেশনাও দিয়েছে পিএসসি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—

১. পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬ (ছয়) ডিজিট–সংবলিত। কোনো পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬ (ছয়) ডিজিটের কম হলে বাঁদিকের ঘর/ঘরগুলো ০ (শূন্য) দিয়ে পূরণপূর্বক রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ডিজিটসমূহ উত্তরপত্রের প্রযোজ্য ঘরে কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে লিখে নিচের প্রযোজ্য বৃত্ত ভরাট করতে হবে।

২. প্রবেশপত্রের নিচে প্রদত্ত নির্দেশাবলি অতি মনোযোগের সঙ্গে পড়তে ও অনুসরণ করতে হবে।

৩. পরীক্ষার্থীদের বিকেল ২টার মধ্যে অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। ২টা ৩০মিনিটের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকক্ষ ত্যাগ করতে পারবেন না।

৪. প্রবেশপত্র ব্যতীত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। হাজিরা তালিকায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং নামের পাশে তার ছবি ও প্রবেশপত্রের অনুরূপ স্বাক্ষর মুদ্রিত থাকবে। প্রবেশপত্রের ছবি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে হাজিরা তালিকার ছবি ও স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হবে; মিল না থাকলে উক্ত পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে বই-পুস্তক, ব্যাগ/ভ্যানিটি ব্যাগ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি বা ঘড়িসদৃশ কোনো কিছু, মানিব্যাগ, মুঠোফোন, গয়না, ব্যাংক কার্ড বা কার্ডসদৃশ কোনো কিছু, ক্যালকুলেটর বা কোনোরূপ ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার সময় প্রার্থীরা কানের ওপর কোনো আবরণ রাখতে পারবেন না; কান খোলা রাখতে হবে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষাকক্ষে কোনো প্রার্থীর নিকট নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে তার প্রার্থিতা বাতিল করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রবেশপত্রে উল্লেখিত ক্যালকুলেটর ব্যবহারের বিষয়টি লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রযোজ্য; বাছাই পরীক্ষার জন্য প্রযোজ্য নয়।

৬. ভুয়া পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

৭. পরীক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক করা যাচ্ছে যে উত্তরপত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে না লিখলে এবং সঠিকভাবে বৃত্ত পূরণ না করলে, কোনোরূপ কাটাকাটি করলে, উত্তরপত্রে ফ্লুইড লাগালে প্রার্থিতা বাতিল হবে।

৮. প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের শ্রুতলেখক প্রয়োজন, তাদের ২৭-০৭-২০২৬ তারিখের মধ্যে অফিস চলাকালে শ্রুতলেখকের জন্য কমিশন সচিবালয়ের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক, ইউনিট-১০ বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে। প্রাপ্ত আবেদনপত্র বিবেচনায় কর্ম কমিশন থেকে শ্রুতলেখক প্রদান করা হবে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর কমিশনে দাখিল করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেবল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন অনুমোদিত শ্রুতলেখককে ছবিসংবলিত অনুমতিপত্র প্রদান করা হবে। কমিশন থেকে ইস্যু করা ছবিযুক্ত অনুমতিপত্রসহ শ্রুতলেখককে সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর সঙ্গে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে।

৯. কমিশনের ওয়েবসাইট www.bpsc.gov.bd অথবা টেলিটকের ওয়েবসাইট http://bpsc.teletalk.com.bd থেকে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্রসহ প্রার্থীদের ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ (১০ম গ্রেড) পদের বাছাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রার্থীদের অনুকূলে নতুন করে কোনো প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হবে না। কোনো পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে কমিশনের ওয়েবসাইট www.bpsc.gov.bd ও টেলিটকের ওয়েবসাইট http://bpsc.teletalk.com.bd থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। প্রবেশপত্র ব্যতীত কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।