আমাদের ঘরে ঘরে কান্নার রোল পড়েছিল এই মাদকের কারণে। স্বামী-সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি কেউ শোনে নাই। কত রাত বুক চাপড়ে কেঁদেছি, ভয়ের চোটে চোখের পানিও শুকিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এমপি দিপু সাহেব এসে যেভাবে এই নরক পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাতে আজ আমরা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলৈন চনপাড়ার গৃহবধূ কুলসুম। তার এই কান্নাভেজা কণ্ঠই যেন দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ একটি জনপদের মুক্তির প্রতীক, যেখানে অন্ধকার ভেদ করে নতুন সূর্যের আলো উঁকি দিচ্ছে।
অন্ধকার থেকে মুক্তির সংগ্রাম
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের আখড়া, মাদকের স্বর্গরাজ্য আর ‘পাপের নগরী’ হিসেবে কুখ্যাত ছিল রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। এই জনপদটি একসময় সমস্ত অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছিল। খুন, মাদক ব্যবসা, প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি, ছিনতাই এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার মহোৎসব চলত সেখানে। চনপাড়ার নাম শুনলেই আশপাশের মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করত। প্রশাসনও নানা জটিলতায় সেখানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খেত। এই অবরুদ্ধ ও অপরাধের খাসমহল হয়ে ওঠা জনপদটিকে সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার কোনো বিকল্প ছিল না। আর ঠিক এই কঠিন সময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। চনপাড়ার অন্ধকার জগতকে চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাল ধরেছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর হুলিয়া জারির পর থেকেই টালমাটাল হয়ে পড়েছে অপরাধ সাম্রাজ্যের ভিত। এমপি দিপু পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধী সে যেই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, চনপাড়ার মাটিতে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা মাদকের কারবার আর এক মুহূর্তের জন্যও বরদাশত করা হবে না। তাঁর এই স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান অপরাধীদের মনোবল ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
প্রশাসনের গতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি
সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের স্থবির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুন গতি পেয়েছে। তাঁর কড়া নির্দেশনার পরই চনপাড়ায় সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে, যা এতদিন তাদের কাছে কল্পনাতীত ছিল। অপরাধীদের শেকড় উৎপাটন করে এই জনপদকে একটি আধুনিক, শান্তিময় ও মাদকমুক্ত মডেল বসতিতে রূপান্তর করতে এমপি দিপুর প্রণীত পরিকল্পনা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
এলাকার রিকশাচালক জাকির হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আগে সন্ধ্যা নামলেই চনপাড়ায় নামত অন্ধকারের রাজত্ব। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। দিপু ভূঁইয়ার হুঁশিয়ারির পর থেকে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা স্বাধীনভাবে আয়-ইনকাম করে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। আল্লাহ যেন দিপু ভাইকে দীর্ঘজীবী করেন।’
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা রহমত আলী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা তো মানুষ হয়েও মানুষ হিসেবে বাঁচতে পারতাম না। দিনের বেলাতেও বুকের ভেতর কাঁপন ধরত—এই বুঝি কেউ সর্বস্ব কেড়ে নিল। আমাদের সন্তানেরা চোখের সামনে মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছিল। আজ এমপি দিপু ভাই যেভাবে আমাদের মাথার ওপর ছাতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে আমরা মৃত্যুর মুখ থেকে জীবন ফিরে পেয়েছি।’
জমির স্থায়ী স্বত্ব ও আলোর নগরীর স্বপ্ন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু অপরাধ দমনই নয়, চনপাড়ার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রকে একটি আধুনিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার শিক্ষার মানোন্নয়ন, বসবাসের উন্নয়ন এবং এলাকাটিকে পুরোপুরি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ১৯৭৪ সাল থেকে এখানে বসবাসরত ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ ওয়াসার জমিতে বসবাস করে আসছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যেন সেই জমিটুকু এখানকার বসবাসরতদের মাঝে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেয়, সে ব্যাপারে এ সরকারের পক্ষ থেকে ডিও লেটার দেওয়াসহ সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছেন এমপি দিপু ভূঁইয়া।
স্থানীয়রা বলেন, কতো এমপি আইলো- গেলো। কেউ চনপাড়াবাসীর জন্য কিছু করেনি। এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি ও অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। চনপাড়ার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আজ নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে। এমপি দিপুর এই আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত থাকলে অচিরেই চনপাড়া তার সব পুরনো অপবাদ ও অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—এটাই রূপগঞ্জের আপামর জনসাধারণের অগাধ বিশ্বাস।