• ই-পেপার

যে কূপে হারিয়েছিল নবীজির রাষ্ট্রীয় সিলমোহর

সরকারি জমিতে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
সরকারি জমিতে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

মসজিদ আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর বুকে সর্বাধিক সম্মানিত স্থানগুলোর একটি হলো মসজিদ। এখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদত করে, কোরআনের শিক্ষা গ্রহণ করে এবং দ্বীনি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাই মসজিদ নির্মাণ ইসলামের অন্যতম মহৎ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদ নির্মাণকারীর জন্য জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে ইসলাম যেমন মসজিদ নির্মাণকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি অন্যের সম্পদের অধিকার সংরক্ষণকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই সরকারি (খাস) জমিতে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরি।

ইসলামে অন্যের সম্পদের অধিকার
ইসলামে মানুষের সম্পদ, জমি ও মালিকানার অধিকার অত্যন্ত পবিত্র। কারো অনুমতি ছাড়া তার সম্পদ ব্যবহার করা কিংবা দখল করা হারাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য হলে তা বৈধ।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

তাই মালিকের সন্তুষ্টি ও বৈধ অনুমতি ছাড়া কারো সম্পদ ব্যবহার করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন, ‘সাবধান! তোমরা কারো ওপর জুলুম করো না। সাবধান! কোনো ব্যক্তির সন্তুষ্টি ব্যতীত তার সম্পদ অন্য কারো জন্য হালাল নয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২০৬৯৫)
এ হাদিস স্পষ্ট করে যে, মানুষের সম্পদের ক্ষেত্রে শরিয়তের মূলনীতি হলো—মালিকের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি।

মসজিদ নির্মাণের ফজিলত
মসজিদ নির্মাণ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর মসজিদ তো তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫০)
তবে এই ফজিলত তখনই অর্জিত হবে, যখন মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমও শরিয়তসম্মত হবে।

সরকারি (খাস) জমির শরয়ি বিধান
সরকারি বা খাস জমি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি জনসাধারণের সম্পদ, যা রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের জমি দখল বা ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত নয়। ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো, ‘অন্যের সম্পদে তার অনুমতি বা বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বৈধ নয়।’ (আদ-দুররুল মুখতার, ৯/২৯১)

আরো বলা হয়েছে, ‘কারো জন্য অন্যের মালিকানাধীন সম্পদে তার অনুমতি, প্রতিনিধিত্ব বা বৈধ অভিভাবকত্ব ছাড়া হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়।’ (শারহু মাজাল্লাতিল আহকামিল আদলিয়্যাহ, ১/২৬২)

সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া মসজিদ নির্মাণের হুকুম
যদি সরকারি জমিতে সরকারের বৈধ অনুমতি ছাড়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তাহলে অধিকাংশ সমকালীন ফকিহের ব্যাখ্যায় সেটি শরঈ ওয়াক্ফকৃত পূর্ণাঙ্গ মসজিদের মর্যাদা লাভ করে না; বরং সেটি সাধারণ নামাজ আদায়ের স্থান (মুসাল্লা/নামাজঘর) হিসেবে বিবেচিত হয়, যতক্ষণ না বৈধ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন প্রদান করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কারণ, ওয়াক্ফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওয়াক্ফকারীর বৈধ মালিকানা বা বৈধ কর্তৃত্ব থাকা জরুরি। ইমাম ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেন, ‘ওয়াক্ফ শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ওয়াকফের সময় সম্পদের বৈধ মালিকানা থাকা।’ (আল-বাহরুর রায়িক, ৫/১৮৮)

যদি পরে সরকার অনুমতি দেয়
যদি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে জমিটি মসজিদের জন্য বরাদ্দ বা অনুমোদন প্রদান করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাহলে সেই স্থান শরঈ মসজিদের মর্যাদা লাভ করবে। কিন্তু—কোনো নিম্নপদস্থ কর্মচারীর ব্যক্তিগত মৌখিক সম্মতি, অবৈধ প্রভাব খাটানো, ঘুস দিয়ে বরাদ্দ নেওয়া এসব কোনোভাবেই শরিয়তসম্মত বৈধ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না।

যদি অনুমতি না পাওয়া যায়
যদি সরকার বা বৈধ কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেয়, তাহলে মুসল্লিদের উচিত সেই নামাজঘর অন্য বৈধ স্থানে স্থানান্তর করে নতুনভাবে মসজিদ নির্মাণ করা। মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তা কখনো অন্যের হক নষ্ট করে বাস্তবায়ন করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

সেখানে আদায় করা নামাজের হুকুম
ফিকহবিদদের মতে, দখলকৃত বা গাসবকৃত জমিতে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়, কারণ জমিটি পবিত্র; তবে জমি দখল করা আলাদা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে ফিকহের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে, ‘গাসবকৃত জমিতে নামাজ শুদ্ধ হয়; কারণ জমিটি পবিত্র। তবে দখল করা পৃথক গুনাহের বিষয়।’ অতএব, পূর্বে সেখানে যে নামাজ আদায় করা হয়েছে, তা পুনরায় (কাজা) পড়তে হবে না। তবে জমির মালিকানার বিষয়টি শরিয়তসম্মতভাবে সমাধান করা অপরিহার্য।

করণীয় হলো
১. মসজিদ নির্মাণের আগে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
২. সরকারি জমি হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন নিতে হবে।
৩. কোনোভাবেই জবরদখল, প্রভাব খাটানো বা ঘুসের মাধ্যমে জমি নেওয়া বৈধ নয়।
৪. বৈধ অনুমতি না পেলে অন্য বৈধ স্থানে মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।
৫. ইসলামে উদ্দেশ্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যমও বৈধ হওয়া আবশ্যক।

মসজিদ নির্মাণ ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেক আমল। কিন্তু ইসলাম কখনো এমন শিক্ষা দেয় না যে, একটি নেক কাজ সম্পাদনের জন্য অন্যের অধিকার লঙ্ঘন করা যাবে। সরকারি জমিও একটি আমানত, যার তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্র। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমতি ছাড়া সেখানে মসজিদ নির্মাণ শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক পদ্ধতি নয়। (তথ্যসূত্র : ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ২১/৩৩১–৩৩৭)

গাছ যেভাবে আমাদের উপকার বয়ে আনে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
গাছ যেভাবে আমাদের উপকার বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ তাঁর অসংখ্য নিয়ামতের মাধ্যমে পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলেছেন। সেই নিয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো গাছ। এর মাধ্যমে মানুষের অক্সিজেন, খাদ্য, আসবাব, পশুপাখির আশ্রয়, পরিবেশের ভারসাম্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অসংখ্য প্রাণের জীবনধারণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই ইসলাম গাছকে শুধু একটি উদ্ভিদ হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর এক মহা নিয়ামত এবং মানবকল্যাণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছে। নিম্নে গাছ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আসা কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো—

১. রিজিকের অন্যতম উৎস : গাছের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বিভিন্ন মাখলুকের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। যার মধ্যে মানুষ, পশুপাখি, পোকা-মাকড় সবই অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন এমন বাগানসমূহ, যার কিছু মাচায় তোলা হয় আর কিছু তোলা হয় না এবং খেজুরগাছ ও শস্য, যার স্বাদ বিভিন্ন রকম, জয়তুন ও আনার যার কিছু দেখতে একরকম, আর কিছু ভিন্ন রকম। তোমরা তার ফল থেকে আহার করো, যখন তা ফলদান করে এবং ফল কাটার দিনেই তার হক দিয়ে দাও। আর অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৪১)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘অতঃপর তাতে আমি উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর ও শাক-সবজি,  জয়তুন ও খেজুর বন, ঘনবৃক্ষ শোভিত বাগ-বাগিচা, আর ফল ও তৃণগুল্ম। তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৭-৩২)

এ আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, গাছ শুধু মানুষের নয়; পশুপাখির রিজিকেরও অন্যতম উৎস।

২. মানুষের ব্যবহারিক কল্যাণের মাধ্যম : মহান আল্লাহ গাছের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ব্যাবহারিক কল্যাণের ব্যবস্থা করেন। যেমন—নুহ (আ.) নৌকা তৈরি করেছিলেন বলে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি তাকে (নুহকে) কাঠ ও পেরেক নির্মিত নৌযানে আরোহণ করালাম।’ (সুরা : কামার, আয়াত : ১৩)

একই ভাবে জ্বালানিরও গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস কাঠ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যিনি সবুজ বৃক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আগুন তৈরি করেছেন। ফলে তা থেকে তোমরা আগুন জ্বালাও।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৮০)

এ আয়াতগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গাছের বহুমুখী উপকারিতার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। বর্তমান যুগে আমাদের ব্যবহৃত বহু জিনিস এমন আছে, যার উৎস মূলত গাছ।

৩. ছায়া দেয় : গাছের শীতল ছায়ায় ক্লান্ত মানুষ স্বস্তি পায়। শরীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতায়ও গাছ বিশেষ ভূমিকা রাখে। মহান আল্লাহ যখন ইউনুস (আ.)-কে মাছের পেট থেকে নাজাত দিয়েছিলেন, তখন তাঁকে ছায়া দেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক একটি ছায়াদার গাছ উদ্গত করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।  অতঃপর আমি তার ওপর লাউ-কুমড়া জাতীয় লতাপাতাযুক্ত একটা গাছ বের করে দিলাম।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ১৪৫-১৪৬)

৪. পরিবেশ রক্ষায় উপকারী : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা জমিনে ফাসাদ কোরো না তার সংশোধনের পর এবং তাঁকে ডাকো ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৬)

কোনো কোনো তাফসিরবিদের মতে, এই আয়াত পরিবেশ ধ্বংস, বন উজাড়, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহারসহ সব ধরনের ফাসাদ (বিপর্যয়) থেকে বিরত থাকারও একটি মৌলিক নীতি প্রদান করে।

৫. গাছ লাগালে সদকার সওয়াব : গাছ যেহেতু বহুভাবে মানুষের জীবন ও কল্যাণের সঙ্গে জড়িত, তাই সহিহ নিয়তে তা রোপণ করা ও পরিচর্চা করারও বিশেষ সওয়াব রয়েছে। গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো মুসলিম ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায় আর তা হতে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায়, তবে তা তার পক্ষ হতে সদকা বলে গণ্য হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩২০)

এমনকি অন্য হাদিসে তিনি কিয়ামতের পূর্বক্ষণেও যদি কেউ গাছ লাগানোর সুযোগ পায়, তাহলেও যেন সে গাছটি রোপণ করে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ)

অতএব আমাদের সবার উচিত পরিবেশের বন্ধু এই সম্পদ বৃদ্ধি, রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হওয়া।

 

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৬ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৬ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১১ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৪৮ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১০ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৫ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

সাহাবি আবু খায়সামা (রা.)-এর নবীপ্রেম

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সাহাবি আবু খায়সামা (রা.)-এর নবীপ্রেম
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু খায়সামা (রা.) নবীজির প্রিয় আনসারী ধনী সাহাবি। একাধিক যুদ্ধে তিনি নবীজির সঙ্গে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর হৃদয়জুড়ে ছিল নবীপ্রেমের স্ফুলিঙ্গ। যার প্রমাণ তাবুক যুদ্ধের ঘটনা। হাদিসের ভাষায় ঘটনাটির বর্ণনা এরূপ—

নবম হিজরির ঘটনা। রোমের বাদশাহ মদিনা আক্রমণের ষড়যন্ত্র করছিল। নবীজি সংবাদ পেয়ে তার আগমনের অপেক্ষা না করে আগে বেড়ে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এদিকে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সময়টা ছিল প্রচণ্ড গরম আর মদিনার প্রধান খাদ্য খেজুর পাকার মৌসুম। 


তা ছাড়া যুদ্ধের ময়দান ছিল মদিনা থেকে বেশ দূরত্বের। সব কিছু মিলিয়ে এই যুদ্ধটা ছিল অন্যান্য যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত কিছুর পরও ঈমানের উজ্জ্বলতায় কোনো কিছুই তাঁদের রুখতে পারেনি। সব বাধা-বিপত্তি, কষ্ট-ক্লেশ উপেক্ষা করে মুনাফিকদের ছাড়া সব মুমিনই এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তবে অল্পসংখ্যক মুমিন সাহাবিও বিভিন্ন কারণে মদিনায় রয়ে গিয়েছিলেন। যাঁদের মধ্যে আবু খায়সামা (রা.)ও ছিলেন একজন। তবে তিনি অংশগ্রহণ না করতে পারায় মনের মধ্যে ছিল যথেষ্ট অস্থিরতা। আর এই অস্থিরতা ও পেরেশানি  নিয়ে একদিন তিনি  নিজের বাগানে গেলেন। 

তখন প্রচণ্ড গরম পড়ছিল। গরমের উষ্ণতায় মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। এ অগ্নিপরিবেশে স্বামীকে শীতল পরশ দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিল তাঁর দুই স্ত্রী। গাছের ছায়া, ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা, নরম-কোমল বিছানা, দস্তরখানের ওপর বাহারি রঙের খাবারের আয়োজন করে তাঁরা একটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু আবু খায়সামা (রা.)-এর মন শীতল ছায়া, ঠাণ্ডা পানি, বাহারি দস্তরখান আকর্ষণ করছিল ঠিকই; কিন্তু সেই সঙ্গে হৃদয়-সাগরে এক তরঙ্গবিক্ষুব্ধ ঝড় শুরু হলো। একটি পবিত্র ভাবনার প্রচণ্ড ধাক্কা যেন সামনের বাহারি সব আয়োজন উল্টে দিল। মনের গহিনে জেগে উঠল প্রাণপ্রিয় নবী তো এ প্রচণ্ড গরমে আল্লাহর পথে সফর করে কত কষ্ট করছেন! আর আমি এখানে সুখের মঞ্চে বসে আনন্দ উপভোগ করছি!

এ ভাবনা মনে দোলা দিতেই তিনি উটে চড়ে তাবুকের পথে রওনা হয়ে গেলেন। এরই মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম তাবুক পৌঁছে গিয়েছিলেন। নবীজি দূর থেকে দেখেই আগ্রহভরা কণ্ঠে বলেন, হয়তো আবু খায়সামা হবে। কাছে আসার পর নবীজির ধারণাই সত্য হলো। সালামের উত্তর দেওয়ার পর নবীজি বলেন, আবু খায়সামা, তোমাকে মোবারকবাদ। ধ্বংসের উপকণ্ঠ থেকে তুমি বের হয়ে এসেছ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৭১৭৫)