মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহভীতি, ঈমানের দৃঢ়তা এবং কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণের প্রতি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বন্দর বালিলা। তিনি বলেন, একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আল্লাহর দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা। দুনিয়ার ধন-সম্পদ কিংবা পার্থিব সফলতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন ঈমান, যা মৃত্যুর পর মানুষকে মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পৌঁছে দেয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইসলামের ভিত্তি গড়ে উঠেছে একমাত্র আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যের ওপর।
ইমাম বালিলা বলেন, সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ নবী করিম (সা.)-এর যুগ থেকে যত দূরে সরে যাচ্ছে, ততই বাড়ছে নানা ধরনের পরীক্ষা, ফিতনা, সন্দেহ, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং বিভ্রান্তি। এ প্রসঙ্গে তিনি আনাস (রা.) বর্ণিত সহিহ বুখারির একটি হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর এমন কোনো সময় আসবে না, যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে আরও কঠিন হবে, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (সহিহ বুখারি)
তিনি ব্যাখ্যা করেন, একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় বিপদ দারিদ্র্য বা জীবিকার সংকট নয়; বরং ঈমান দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং দ্বীনের ওপর অবিচলতা হারিয়ে ফেলা। এ কারণেই মহানবী (সা.) প্রায়ই দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের বিপদ যেন আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে না হয়।’
তাই ঈমান অটুট রাখার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো মহান আল্লাহর কাছে অবিচলতার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা। কারণ, আল্লাহ যাকে দৃঢ়তা দান করেন না, তার পক্ষে নিজ শক্তিতে দ্বীনের ওপর অটল থাকা সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, এর অর্থ নিয়ে গভীর চিন্তা, শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা এবং নবী-রাসুল ও সৎকর্মশীল পূর্বসূরিদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ ঈমানকে সুদৃঢ় করে।
খুতবায় তিনি মুসলিমদের কোরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, মুসলিম জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, মতভেদ ও বিভক্তি থেকে দূরে থাকা এবং সন্দেহ, ফিতনা ও গুনাহের পরিবেশ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব বিষয় মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখে এবং ঈমানকে নিরাপদ রাখে।
খুতবার সমাপনী বক্তব্যে শায়খ ড. বন্দর বালিলা মুসলিমদের উদ্দেশে বলেন, আল্লাহকে ভয় করতে হবে, কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণে অবিচল থাকতে হবে এবং সালাফে সালেহিনের পথ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পথভ্রষ্টতা, বিদআত ও বিভ্রান্তিকর চিন্তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। সর্বশেষ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফিতনা ও পরীক্ষার যুগে দ্বীনের ওপর ধৈর্য ধারণ করা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধরে রাখার মতো কঠিন হলেও, এ ধৈর্যই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতার চাবিকাঠি।




