• ই-পেপার

টি-টোয়েন্টির পর এবার ওয়ানডে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য মিরাজদের

‘এক ম্যাচের ভিত্তিতে মেসিকে বিচার করা অন্যায়’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এক ম্যাচের ভিত্তিতে মেসিকে বিচার করা অন্যায়’

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। গোটা টুর্নামেন্টে ছন্দে থাকলেও ফাইনালে একেবারে নিষ্প্রভ থেকেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় চারদিকে। এমন আবহে মেসির পাশে দাঁড়ালেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ফাইনালে হারলেও এক ম্যাচের ভিত্তিতে মহাতারকা মেসির ক্যারিয়ার বিচার করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। 

কলকাতাভিত্তিক নিউজআঠেরোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানিয়েছেন, একটা খারাপ ম্যাচ কোনোভাবেই মেসির অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ারকে ম্লান করতে পারে না। 

‘লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে কখনোই একটি ম্যাচের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, তিনিও একজন মানুষ। প্রতিদিন একই মানের পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। খারাপ দিন আসতেই পারে। মেসি ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ জিতেছেন, অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এবং নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই একটি ফাইনাল বা ম্যাচের ভিত্তিতে তার ক্যারিয়ারকে বিচার করা অন্যায়।’ বলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের সব ম্যাচ না দেখলেও সেমি ফাইনাল এবং ফাইনাল দেখেছেন বলে জানান সৌরভ। তাঁর মতে, ‘ফাইনালে পরিকল্পনার দিক থেকে স্পেন অনেক এগিয়ে ছিল। প্রথম থেকেই আর্জেন্তিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেয়নি স্পেন’ এমনটাই মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মতে, ট্যাকটিক্সের দিক থেকে স্পেন অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল। ওদের গেমপ্ল্যান ছিল নিখুঁত, আর জেতার খিদেও স্পষ্ট ছিল। সেই কারণেই ফাইনাল একপেশে ম্যাচ হয়েছে। দলগত ভাবে স্পেন অসাধারণ খেলেছে এবং যোগ্য দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে যোগ করেন এই ক্রিকেট কিংবদন্তি।

বিতর্কে ফ্রান্স তারকা ওলিসে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিতর্কে ফ্রান্স তারকা ওলিসে
ছবি : এক্স

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। তৃতীয় স্থান ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে নজরকাড়া প্লেয়ারদের মধ্যে ছিলেন মাইকেল ওলিসে। এবার মাঠের বাইরের এক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এক জার্মান মহিলা দাবি করেছেন, তাঁর ২০ মাসের কন্যাসন্তানের বাবা ওলিসে। শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। ঘটনাটা কী? কেন বিপাকে ওলিসে?

জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী ফাতিমা জোনব্রিশার জানান, তাঁর সঙ্গে ওলিসের পরিচয় অনেকদিন আগে। ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলতেন তিনি। তখনই ফাতিমার সঙ্গে ওলিসের পরিচয় হয়। এর পরে দু’বছর সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। বিচ্ছেদের প্রায় দু’সপ্তাহ পর ফাতিমা জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।

 

ফাতিমার দাবি, মিউনিখে করা ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, তাঁর মেয়ে আলিয়া নূরের বাবা মাইকেল ওলিসেই। এরপর থেকেই তিনি অভিযোগ করছেন, ওলিসে কখনোই তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা করেননি। কোনোরকম আর্থিক সাহায্যও করেননি।

ফাতিমার অভিযোগ, প্রথমে ওলিসের আইনজীবীরা মাসে ৮৩৬ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯১ হাজার টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ২০০০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) করা হয়। কিন্তু গত দু’বছরে তিনি কোনো টাকাই পাননি বলে দাবি করেছেন। 

তিনি আরো বলেন, ‘আমার সন্তানের প্রতি ওঁর এই নিষ্ঠুর আচরণ আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। ওলিসে সরাসরি কথা বলেন না। সব যোগাযোগই আইনজীবীদের মাধ্যমে করে থাকে।’

ফাতিমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাইকেল ওলিসের আইনি টিম। তাঁদের দাবি, শুরু থেকেই সন্তানের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওলিসে এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো প্রস্তুত তিনি। পাশাপাশি ওলিসের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, ফাতিমা মাসে ৬০ হাজার ইউরো (প্রায় ৬৬ লাখ টাকা) ভরণপোষণ দাবি করেছেন।

ওলিসের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আইনি বিতর্ক সামনে এলে। ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক অ্যাসিস্টও তাঁর নামে। কিন্তু ফ্রান্স ছিটকে যাওয়ার পরে এই বিতর্কে বিপাকে ওলিসে।

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটি গড়েছে এক অনন্য রেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটি গড়েছে এক অনন্য রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের শুরুতেই ভিসা ইস্যু, টিকিটের দামসহ বেশ কিছু বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সব কিছু ছাপিয়ে তিনটি স্বাগতিক দেশ, ১৬টি স্টেডিয়াম, ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে দেওয়া এক গোলে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের নতুন রেকর্ড গড়েছে বলে জানিয়েছে নিলসেন মিডিয়া রিসার্চ।

সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স জানায়, স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক দেখেছেন। একপর্যায়ে দর্শকসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজারে পৌঁছায়। 

নিলসেন মিডিয়া রিসার্চ-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তাদের সম্প্রচারে ম্যাচটি দেখেছেন ২ কোটি ২৬ লাখ দর্শক। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাষার সম্প্রচার মিলিয়ে ফাইনাল ম্যাচটি ৬ কোটিরও বেশি মানুষ উপভোগ করেছেন।

আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা উত্তর আমেরিকার ঘরে ঘরে পরিচিত মুখে পরিনত হন। যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পরও দেশটিতে টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা উচ্চ পর্যায়েই ছিল। আর টিকিটের দাম বেশি হলেও অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্বাগতিক তিন দেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ফক্স তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি ভাষায় টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ সম্প্রচার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পরও দর্শকদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য কোনো ভাটা পড়েনি।

এদিকে স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচার টেলেমুন্দোও ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি যাদের মাতৃভাষা স্প্যানিশ নয়, তাদের মধ্যেও এই সম্প্রচার ছিল সমাদৃত।

ফক্স জানিয়েছে, তাদের ফক্স, এফএসওয়ান এবং টুবি প্ল্যাটফর্মে ১০৪টি ম্যাচে গড়ে ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে এই গড় ছিল ৩৫ লাখ ৮৮ হাজার, আর ২০১৮ সালে ছিল ২৭ লাখ ৭০ হাজার।

যদিও নিলসেনের দর্শকসংখ্যা বিশ্বকাপ ফাইনালের জনপ্রিয়তার একটি ধারণা দেয়, তবু প্রকৃত দর্শকসংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ, অনেকেই বিভিন্ন ওয়াচ পার্টি বা দলবদ্ধভাবে খেলা দেখেছেন। আরও নির্ভুল হিসাব পেতে ২০২৫ সালে নিলসেন তাদের ঘরের বাইরের দর্শক পরিমাপের পদ্ধতিও সম্প্রসারণ করে।

শুরুর দিকে কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দর্শক উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

অ্যান্ডারসনকে টপকে সবচেয়ে দামি ইংলিশ খেলোয়াড় রজার্স

ক্রীড়া ডেস্ক
অ্যান্ডারসনকে টপকে সবচেয়ে দামি ইংলিশ খেলোয়াড় রজার্স
বাঁয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডানে মরগান রজার্স। ছবি : সংগৃহীত

রেকর্ড ট্রান্সফার ফি'তে অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসি যোগ দিলেন ইংল্যান্ডের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মরগান রজার্স। রেকর্ড ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে  দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। এই দলবদলের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

রজার্স স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্লুজদের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি (৬ বছর এবং আরও ১ বছর বাড়ানোর সুযোগসহ) স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে ম্যানচেস্টার সিটিতে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে যোগ দেওয়া এলিয়ট অ্যান্ডারসনের গড়া রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন।

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে গেল সোমবার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন রজার্স। 

এ সম্পর্কে রজার্স বলেন, ‘আমি খুবই উত্তেজিত। আমার জন্য লন্ডনের সবচেয়ে বড় ক্লাব চেলসি। ছোটবেলা থেকেই আমি এই ক্লাবের সমর্থক। নতুন ম্যানেজারের অধীনে চেলসির ভবিষ্যত পরিকল্পনার সাথে কাজ করতে আমি মুখিয়ে আছি। এখাকার খেলোয়াড়রা বেশ প্রতিভাবান। এজন্যই আমি এখানে খেলতে এসেছি।’

চেলসির ইতিহাসে এখন রজার্স সবচেয়ে দামী ফুটবলার। এর আগে বেনফিকা থেকে ২০২৩ সালে ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিয়েছিল চেলসি, যা এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল।