• ই-পেপার

গাইবান্ধায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

তাড়াশে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিরল প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
তাড়াশে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিরল প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এ কর্মসূচির আওতায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহার চত্বরে চাপালিশ, বৈলাম, বুদ্ধ নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ তাড়াশ উপজেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। উপজেলার মডেল মসজিদ, শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, ক্ষিরপোতা আনন্দ বৌদ্ধ বিহার ও মাধাইনগর খ্রিস্টান মিশনারি চার্চের আঙিনায় বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘ তাড়াশ উপজেলা শাখার সভাপতি শামীউল হক শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ, সাংবাদিক এম. আতিকুল ইসলাম বুলবুল, মো. সাজেদুল আলম, লেখক-গবেষক উজ্জল মাহাতো, এম. এ. মাজিদ, মৃণাল সরকার মিলু এবং উপজেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সনাতন দাশ।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির গাছ সংরক্ষণে মানুষকে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

লেখক ও গবেষক উজ্জল মাহাতো বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এমন কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন তাড়াশ মডেল মসজিদের তত্ত্বাবধানে থাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এম এ মাজিদ, সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন গোস্বামী, আনন্দ বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি দেবী রানী এবং গির্জার ফাদার কার্লো বুদজি পিমে।

সাতক্ষীরায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

অনলাইন ডেস্ক
সাতক্ষীরায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

ধর্মীয় মূল্যবোধ, কোরআনের শিক্ষা এবং এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী চর্চা জোরদারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ সাতক্ষীরা জেলা শাখা।

শনিবার (১৮ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধ্য মাছখোলা এলাকার হাজী শামছুদ্দিন হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. ইবরাহিম হোসেন, দ্বিতীয় হন মো. রায়হান হোসেন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মো. সাআদ হোসেন।

সাতক্ষীরা জেলা শুভসংঘের সভাপতি ফাহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–হেফজ বিভাগের হাফেজ মো. উসমান গনি, নাযেরা বিভাগের হাফেজ মো. মোকলেছুর রহমান, নূরানী বিভাগের শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মো. সুমন আলী, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুর রহমান, ক্যাশিয়ার মো. আব্দুল্লাহ, খাদেম মো. তহিদুল ইসলাম, সদস্য ও প্রভাষক মো. আব্দুস সাত্তার, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বসুন্ধরা শুভসংঘ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভাপতির বক্তব্যে ফাহাদ হোসেন বলেন, ‘কোরআনের শিক্ষা শুধু সুন্দর তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখবে।’

মাদরাসার সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এ ধরনের কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা শিশুদের মধ্যে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে এবং তাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটে। কোরআনের শিক্ষা মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও আদর্শ সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোরআনের শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যতেও ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

রূপগঞ্জে এতিম শিশুদের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের মধ্যাহ্নভোজ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
রূপগঞ্জে এতিম শিশুদের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের মধ্যাহ্নভোজ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এতিম শিশুদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখা। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর রূপগঞ্জের একটি এতিমখানায় আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে শুভসংঘের সদস্যরা এতিম শিশুদের সঙ্গে একই কাতারে বসে খাবার গ্রহণ করেন।

পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেন, সময় কাটান এবং তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন সদস্যরা। এ আয়োজনে এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া এবং আপন করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. আহসানুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রিমন রহমানের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়।

এ সময় আবদুল হান্নান মিলটন বলেন, ‘এতিম শিশুদের মুখের হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে একটি মানবিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। শুভসংঘ সেই মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. আহসানুল হক বলেন, ‘আমরা চাই এতিম শিশুরা যেন কখনো নিজেদের একা মনে না করে। তাদের পাশে সমাজের মানুষ রয়েছে—এই অনুভূতি তৈরি করাই আমাদের এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ থানা শাখার সহসভাপতি ইয়াছিন মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক লিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফুল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওহিদ, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাগরিকা, সদস্য আব্দুলসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখার অন্য সদস্যরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিনের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিনের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ
ছবি: কালের কণ্ঠ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি, কিন্তু দারিদ্র্য বারবার পথ আটকে দাঁড়িয়েছে। সংসারের হাল ধরতে চাইলেও পুঁজির অভাবে ছোট্ট একটি দোকানও করতে পারছিলেন না জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক তুহিন দেওয়ান। অবশেষে তার সেই স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

বসুন্ধরা শুভসংঘের আক্কেলপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে  তুহিন দেওয়ানের জন্য মুদি দোকানের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কিনে দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য দিয়ে তিনি নিজের বাড়িতেই একটি ছোট দোকান পরিচালনা শুরু করবেন। এতে তার পরিবারের আয় রোজগারের নতুন একটি পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তুহিনের পক্ষে ভারী বা নিয়মিত শ্রমের কাজ করা সম্ভব হয়নি। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি কখনো ভিক্ষার পথ বেছে নেননি। নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার ইচ্ছা থেকেই একটি দোকান করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।

তুহিন দেওয়ান বলেন, একটি দোকান করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পুঁজি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন দোকান চালিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে পারব বলে বিশ্বাস করছি। এই সহযোগিতা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ আক্কেলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাদমান হাফিজ শুভ জানান, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই শুভসংঘের অন্যতম লক্ষ্য। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তুহিন দেওয়ানের জন্য ব্যবসার প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কাউকে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার চেয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। তুহিনের মতো একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে ব্যবসার পুঁজি তুলে দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।