ব্রিটেনের রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে নতুন নেতৃত্বের অধ্যায়। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন তিনি। ব্রিটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন এবং সেই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
এ জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পরিবর্তিত হলে নতুন নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে বার্নহাম আজ ব্রিটেনের নেতৃত্ব গ্রহণ করছেন।
অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটিশ রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ। সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় আসেন।
বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যতিক্রমী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। সেই সময় থেকেই ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের পর বার্নহাম বলেছেন, দেশের মানুষের মধ্যে আবারও আশা ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই হবে তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো বেশি ক্ষমতা ও উন্নয়নের সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তার সামনে অপেক্ষা করছে বেশ কয়েকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ, অভিবাসন, আবাসন সংকট এবং জনসেবার মানোন্নয়ন—এসব ইস্যুতেই তাকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ব্রিটেনের বিদ্যমান পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের নেতৃত্বে ব্রিটিশ রাজনীতিতে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি আরো গুরুত্ব পাবে। লন্ডনকেন্দ্রিক নীতির পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণপরিবহন, সামাজিক সেবা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে পারে।
আজকের দায়িত্ব গ্রহণ কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন নয়, এটি ব্রিটেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন পুরো নজর থাকবে, উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই নেতা জাতীয় পর্যায়েও সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন এবং পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে কতটা সফল হন।





