• ই-পেপার

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাট জব্দ

ডিলারশিপ বহাল, কমিশন দ্বিগুণের দাবি বিএফএর নতুন কমিটির

বিশেষ প্রতিনিধি
ডিলারশিপ বহাল, কমিশন দ্বিগুণের দাবি বিএফএর নতুন কমিটির

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বিদ্যমান সার ডিলারশিপ ব্যবস্থা বহাল রাখা, ২০২৫ সালের সার ডিলার নীতিমালা সংশোধন বা বাতিল এবং দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ডিলার কমিশন প্রতি টনে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে।

আজ রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরের আল রাজি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যানসহ ৩৩ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচন বোর্ডের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হাসিব সরকার নবনির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাচন বোর্ডের সদস্য শেখ শামসুল আরেফীন উপস্থিত ছিলেন। শপথ শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বিদ্যমান সার ডিলারশিপ ব্যবস্থা বহাল রাখা, ২০২৫ সালের ডিলার নীতিমালা সংশোধন বা বাতিল এবং ডিলার কমিশন দ্বিগুণ করাই হবে নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়া এবং সার আমদানি ও বিতরণব্যবস্থা আরো কার্যকর করাই হবে তাঁর লক্ষ্য।

তিনি জানান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০২৫ সালের সার ডিলার নীতিমালার সমালোচনা করে মোশাররফ হোসেন বলেন, এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর দাবি, গত ১৬ বছর ধরে বিদ্যমান ডিলাররা সফলভাবে সার বিতরণ করেছেন এবং কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এর পরও বর্তমান ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুন করে বিসিআইসির ডিলার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার বিরোধিতা করবে বিএফএ।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন মূল ডিলার এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে খুচরা ডিলার থাকায় সার সরবরাহে কোনো সংকট নেই। বর্তমান ডিলাররা ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে প্রায় দুই লাখ টাকা জামানত দিয়ে ডিলারশিপ নিয়েছিলেন, যা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে বড় বিনিয়োগ ছিল। তাই তাঁদের বাদ দিয়ে নতুন ডিলার অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নেই।

ডিলার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে কমিশনের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি টনে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকার দ্রুত এ প্রস্তাব অনুমোদন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো বলেন, নবনির্বাচিত পরিচালকরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো বোর্ডে তুলে ধরবেন। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, সময়মতো সার সরবরাহ এবং কৃষি উৎপাদন আরো শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএফএর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান রাজু, এস এম বাবুল, মো. নুর আলম পাটোয়ারি, মোহাম্মদ হাকিম আলী এবং পরিচালক (অর্থ) মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডিলারদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হোংবো।

রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এই সাক্ষাৎ হয়েছে। 

সাক্ষাতের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের সভাপতিত্বের সময় আইএলওর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। 

আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমখাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, শিশুশ্রম পরিস্থিতি, শ্রম আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

উপদেষ্টা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে আইএলওর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে শ্রমখাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে আইএলওর কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের শ্রমখাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং শিশুশ্রম হ্রাসে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতেও এ খাতে আইএলওর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো

অনলাইন ডেস্ক
চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো
সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হলেও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে সচিব কমিটির পর্যালোচনা এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট জারি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই গণনা করা হবে।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পে স্কেল নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সচিব কমিটি কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। এরপর তাদের সুপারিশ চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

ওই বৈঠকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইনি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজেটের চাপ বিবেচনায় সরকার একটি সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি কমিশনের সুপারিশগুলো খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুত করছে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’ শুরু

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের যৌথ উদ্যোগে ১৩ দিনব্যাপী ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’ শুরু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডে এর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই যৌথ প্রশিক্ষণ সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করবে। এটি শুধু একটি সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতীক।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বলেন, ‘টাইগার লাইটনিং’ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারি আরো সুদৃঢ় হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ফরমেশন প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মহড়া আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ড থেকে ৯১ জন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড ও বিভিন্ন ফরমেশন থেকে ৯৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এ যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যৌথ আভিযানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।