বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল দল মাদ্রিদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে রদ্রি-পেদ্রিরা। ইবেরিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ বিমানে চেপে পুরো দল নিজ দেশে ফেরেন।
মাদ্রিদের আদোলফো সুয়ারেজ বারাহাস বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার সময় স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি এবং কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন।
বিমানবন্দর থেকেই খেলোয়াড়দের একনজর দেখতে এবং অভিনন্দন জানাতে হাজারো সমর্থক ভিড় জমান। পুরো এলাকা পরিণত হয় লোকে-লোকারণ্যে।
মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর স্প্যানিশ দল প্রথমে স্পেনের রাজপ্রাসাদে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে অফিশিয়াল দেখা করে পুরো টিম।
অফিশিয়াল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে পুরো দল মাদ্রিদের রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। উদযাপনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বিখ্যাত প্লাজা দে সিবেলেস। যেখানে প্রায় ১০ লাখের বেশি ভক্তের উপস্থিতিতে ট্রফি উৎসব উদযাপনে যোগ দেয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর আর্জেন্টিনার উদীয়মান মিডফিল্ডার নিকো পাস ভক্তদের উদ্দেশে একটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বার্তা দিয়েছেন। ফাইনাল ম্যাচে বেঞ্চে থাকলেও ম্যাচ শেষে স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে পরবর্তী বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে জয় পায় স্পেন। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা যখন হতাশায় মাঠ ছাড়ছিলেন। তখন ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর ২১ বছর বয়সী তরুণ তারকা সতীর্থ ও সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতে এগিয়ে আসেন।
ফেসবুকে দলের একটি ছবি শেয়ার করে স্পেনে জন্মগ্রহণকারী এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লেখেন, ‘আজকের দিনে এই দেশ ও এই জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এবং এমন একদল অসাধারণ মানুষের অংশ হতে পেরে আমি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত।’
‘যারা এই জার্সির জন্য জীবন দিতে পারে এবং প্রতি মুহূর্তে তাদের হৃদয় ও আত্মা উজাড় করে দেয়। আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে পারি। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, এই বিশ্বকাপ ট্রফি আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনতে আমি আমার সবকিছু বিলিয়ে দেব।’
অভিনন্দন স্পেন এবং সব স্প্যানিশদের। আর্জেন্টিনা, সব সময় ভালো এবং খারাপ উভয় সময়েই পাশে আছে বলে যোগ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্বকাপে জয়ের পর আনন্দে এক প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের ১৯ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কিউবারসি বলেছেন, মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়াটা ছিল এক বিশাল সৌভাগ্য।
ফুটবলে নিজের আইডল মানা লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আবেগঘন মন্তব্যটি করেন তিনি।
কিউবারসি বলেন, ‘আমার খারাপ লাগছিল, কারণ তিনি আমার আদর্শ এবং তাকে এভাবে হারতে দেখা আমার পছন্দ নয়।’
সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে কেঁদে বের হয়ে গেলেন স্কালোনি
ক্রীড়া ডেস্ক
টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা হলো না স্কালোনিদের। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ইতিহাস গড়ার এত কাছে এসেও খালি হাতে ফেরার যন্ত্রণা পুরো দলকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লিওনেল স্কালোনি। এ সময় নিজের ভবিষ্যৎ, ম্যাচ এবং দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে বেশ কিছু আবেগঘন মন্তব্য করেছেন।
৩৯ বছর বয়সেও মেসির ফুটবল খেলা এবং তার অবিশ্বাস্য নেতৃত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘৩৯ বছর বয়স, ভাইরা…এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমার পক্ষ থেকে আমি খুব ভালো করেই জানতাম এবং আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলাম যে ও যত দিন নিজে থেকে থামার সিদ্ধান্ত না নেবে, তত দিন খেলা চালিয়ে যাবে।’
জাতীয় দলে ওর সতীর্থরা এবং ওর চারপাশের প্রত্যেকে ওর জন্য নিজের সব কিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। আমি আশা করি, ও ওর সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত এবং আমার মনে হয়, ও সত্যিই গর্বিত। আমি এটাও আশা করি যে দেশের মানুষ তাদের জাতীয় দল, ওকে এবং ও যা কিছু দিয়েছে, তা নিয়ে গর্ব বোধ করবে বলে যোগ করেন তিনি।
ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষে আর্জেন্টিনার কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট আভাস দিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব। এরপর সম্ভবত আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিন্ন হতে যাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদটি অত্যন্ত চমৎকার এবং একটি স্বপ্নের মতো জায়গা।’
‘আশা করি, অন্য আরো অনেকের এখানে আসার সুযোগ হবে। আমি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলব। আমার মনে হয়, এত বড় কিছু অর্জনের পর (টানা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা) একই স্তরের সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমাদের ভাবার ও আলোচনার প্রয়োজন আছে।’
ম্যাচে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে। স্কালোনি খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মনে কষ্ট আছে, কিন্তু একই সঙ্গে গর্বও হচ্ছে যে আমরা মাঠের ভেতর আমাদের সর্বস্ব দিয়েছি। মানুষ যেভাবে জেতার পর আনন্দ করে, সেভাবে আমাদের হারটাও মেনে নিতে শিখতে হবে। আজ আমরা সেটিই দেখিয়েছি।’
‘আমি এই খেলোয়াড়দের কাছে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব আমাদের আরো একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল উপহার দেওয়ার জন্য এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার জন্য। আজকের ম্যাচে স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো দল ছিল, এটাই সত্যি এবং আমাদের তা মেনে নিতে হবে।’
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখতে না পারলেও এই অর্জনকে ছোট করে দেখছেন না স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো একটি বড় মঞ্চে দ্বিতীয় হওয়াটাও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই পর্যায় পর্যন্ত আসা কতটা কঠিন, তা আমাদের অনুধাবন করতে হবে এবং এর মূল্য দিতে হবে।’
এক পর্যায়ে তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে কেঁদে বের হয়ে যান।