• ই-পেপার

ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আবদুল্লাহ আল মামুন আশরাফী

অনলাইন ডেস্ক
কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

সাহাবায়ে কেরাম। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশনায় সাহাবায়ে কেরামকে অনন্য অসাধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি নির্দেশনা তাঁরা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছেন এবং যথার্থভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহতায়ালা ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় ধন্য হয়েছেন। কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে সাহাবায়ে কেরামের অনেক প্রশংসার কথা বিবৃত হয়েছে। আজ আমরা কোরআন মাজিদের ভাষায় সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা নিয়ে কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ।

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ’। (আত তাওবাহ : ৭২)

এই সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি দুনিয়াতেই অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেন সাহাবায়ে কেরাম।

আল্লাহ বলেন : ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা ইমানে প্রথমে অগ্রগামী হয়েছে এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরি করে রেখেছেন, যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা আত-তাওবা : ১০০)

২. তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম

আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে অপরাপর উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন। আর এই উম্মতের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম প্রথম সারিতে আছেন। সে সুবাদে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয়মাল্য সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কিরামের গলায়ই শোভা পেয়েছে। সুতরাং তারাই হচ্ছেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। আল্লাহ বলেন- ‘(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ইমান রাখ।’ (আলে ইমরান : ১১০)

৩. তারা ইমানের মানদণ্ড

সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর প্রিয়পাত্র। তাঁরা ইমানের মানদণ্ড। তাঁদের দেখানো পথে চললেই সফলতা আসবে। সঠিক পথের দিশা পাওয়া যাবে।

ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তারাও যদি সে রকম ইমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবায়ে কেরাম) ইমান এনেছ, তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং শিগগিরই আল্লাহ তোমার সাহায্যার্থে তাদের দেখে নেবেন এবং তিনি সব কথা শোনেন ও সবকিছু জানেন।’ (সুরা বাকারাহ : ১৩৭)

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা৪. তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশী

সাহাবায়ে কেরাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া লাভকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁদের এই পবিত্র মানসিকতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ‘মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রসুল। তাঁর সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র। তুমি তাঁদের দেখবে (কখনো) রুকুতে, (কখনো) সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাঁদের আলামত তাঁদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে।’ (সুরা ফাতাহ : ২৯)

৫. তারা সত্যবাদী

সাহাবায়ে কেরাম সত্যবাদী। তাঁদের সততা প্রবাদতুল্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সততার সৌরভ জড়িয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাঁদের সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ বলেন- ‘(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) সেই গরিব মুহাজিরদের প্রাপ্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও অর্থসম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী।’ ( হাশর : ৮)

৬. তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত

সাহাবায়ে কেরাম সঠিক পথের ধারকবাহক। তাঁরা সত্য পথে অবিচল ছিলেন।

আল্লাহ বলেন- ‘ভালোভাবে জেনে রাখ যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসুল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সংকটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ইমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাঁকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছেন।’ (সুরা হুজুরাত : ৭)

৭. তারা চির সফল

আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে চির সফল বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কল্যাণের ধারকবাহক বলেও স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে- ‘কিন্তু রসুল এবং যেসব লোক তাঁর সঙ্গে ইমান এনেছে, তারা নিজেদের জানমাল দ্বারা জিহাদ করেছে। তাদেরই জন্য সর্বপ্রকার কল্যাণ এবং তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা তওবা : ৮৮)

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখজানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৭ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৪ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি
মসজিদে নববীর ফজরের সময় দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আখেরি চাহার শোম্বা’ আরবি ও ফারসি মিশ্রিত একটি শব্দগুচ্ছ। এরমধ্যে আরবি ‘আখেরি’ অর্থ শেষ আর ফারসি শব্দ ‘চাহার’ অর্থ চার এবং ‘শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ, ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ শব্দগুচ্ছের সম্মিলিত অর্থ দাঁড়ায়—শেষ বুধবার। মূলত, শব্দগুচ্ছটি দ্বারা হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবারকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইরানের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিকে পবিত্র একটি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন। মূলত এর কারণ হলো রাসুল (সা.)-এর ওফাতের (ইন্তেকাল) আগে কিছুদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে সফর মাসের শেষদিকে এসে সেই অসুস্থতা থেকে একদিন নবীজি (সা.) কিছুটা আরোগ্য লাভ করেছিলেন। ওইদিন তিনি লোকেদের উদ্দেশে খুতবাও দিয়েছিলেন। তবে এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে নবীজির (সা.) ওফাত হয়।

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রাসুল (সা.) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তার ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক (চামড়ার তৈরি পানির পাত্র) যার মুখ এখনো খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেক সহধর্মিণী হাফসা (রা.)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা ওই মশক থেকে তার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম, যতক্ষণ না তিনি তার হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। আয়েশা (রা.) আরো বলেন, নবীজি (সা.) আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামাতে সালাত (নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২৪৭)

এই হাদিসটি থেকে ওফাতের আগে সফর মাসে অসুস্থতা থেকে নবীজির (সা.) একদিন সুস্থ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে অনেকে দাবি করেন, রাসুল (সা.) যেদিন সুস্থ হয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল বুধবার। এ জন্য দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অনেকেই বিশেষ নামাজ পড়ার কথা বলে থাকেন। কেউ কেউ এই দিনে বেশি বেশি সদকা ও ভালো কাজ করার কথাও বলে থাকেন। কিন্তু এগুলোর ভিত্তি কতটুকু?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (সা.) সফর মাসের শেষের দিকে এসে সুস্থতা লাভ করেছেন। এটি সত্য হলেও সেই দিনটি কি বার ছিল, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বারের কথা নবীজি (সা.) বা সাহাবায়ে-কেরামদের থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসে উল্লেখ নেই। অর্থাৎ বুধবারের এই দিনেই তিনি (নবীজি সা.) সুস্থতা লাভ করেছেন একথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অপ্রমাণিত একটি বিষয়।

এ ক্ষেত্রে অনেকে দাবি করেন, সাহাবায়ে-কেরামরা নবীজির (সা.)-এর আরোগ্য লাভের দিনটিকে বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন। তবে এটিরও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, নবীজির (সা.) আরোগ্য লাভের দিনটিকে সাহাবায়ে-কেরাম বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন এটি সম্পূর্ণ অসত্য। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) কিংবা হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে কোনো ধরনের বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজ বা আমলের কথা কুরআন-হাদিসে নেই। কাজেই ইসলামের নামে মনগড়া কোনোকিছু করলে তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মনে রাখতে হবে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এই শরিয়াতে সংগত নয় এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫১৭)।’

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দেবে তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত (অভিশাপ)। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’য়ালা তার কোনো ফরজ আমল এবং কোনো নফল কবুল করবেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২৯৯)

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২০ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২০ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৬ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫১ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৪ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০১ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।