সাহাবায়ে কেরাম। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশনায় সাহাবায়ে কেরামকে অনন্য অসাধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি নির্দেশনা তাঁরা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছেন এবং যথার্থভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহতায়ালা ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় ধন্য হয়েছেন। কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে সাহাবায়ে কেরামের অনেক প্রশংসার কথা বিবৃত হয়েছে। আজ আমরা কোরআন মাজিদের ভাষায় সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা নিয়ে কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ।
কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ’। (আত তাওবাহ : ৭২)
এই সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি দুনিয়াতেই অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেন সাহাবায়ে কেরাম।
আল্লাহ বলেন : ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা ইমানে প্রথমে অগ্রগামী হয়েছে এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরি করে রেখেছেন, যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা আত-তাওবা : ১০০)
২. তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম
আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে অপরাপর উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন। আর এই উম্মতের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম প্রথম সারিতে আছেন। সে সুবাদে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয়মাল্য সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কিরামের গলায়ই শোভা পেয়েছে। সুতরাং তারাই হচ্ছেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। আল্লাহ বলেন- ‘(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ইমান রাখ।’ (আলে ইমরান : ১১০)
৩. তারা ইমানের মানদণ্ড
সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর প্রিয়পাত্র। তাঁরা ইমানের মানদণ্ড। তাঁদের দেখানো পথে চললেই সফলতা আসবে। সঠিক পথের দিশা পাওয়া যাবে।
ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তারাও যদি সে রকম ইমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবায়ে কেরাম) ইমান এনেছ, তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং শিগগিরই আল্লাহ তোমার সাহায্যার্থে তাদের দেখে নেবেন এবং তিনি সব কথা শোনেন ও সবকিছু জানেন।’ (সুরা বাকারাহ : ১৩৭)
কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা৪. তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশী
সাহাবায়ে কেরাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া লাভকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁদের এই পবিত্র মানসিকতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ‘মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রসুল। তাঁর সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র। তুমি তাঁদের দেখবে (কখনো) রুকুতে, (কখনো) সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাঁদের আলামত তাঁদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে।’ (সুরা ফাতাহ : ২৯)
৫. তারা সত্যবাদী
সাহাবায়ে কেরাম সত্যবাদী। তাঁদের সততা প্রবাদতুল্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সততার সৌরভ জড়িয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাঁদের সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
আল্লাহ বলেন- ‘(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) সেই গরিব মুহাজিরদের প্রাপ্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও অর্থসম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী।’ ( হাশর : ৮)
৬. তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত
সাহাবায়ে কেরাম সঠিক পথের ধারকবাহক। তাঁরা সত্য পথে অবিচল ছিলেন।
আল্লাহ বলেন- ‘ভালোভাবে জেনে রাখ যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসুল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সংকটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ইমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাঁকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছেন।’ (সুরা হুজুরাত : ৭)
৭. তারা চির সফল
আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে চির সফল বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কল্যাণের ধারকবাহক বলেও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে- ‘কিন্তু রসুল এবং যেসব লোক তাঁর সঙ্গে ইমান এনেছে, তারা নিজেদের জানমাল দ্বারা জিহাদ করেছে। তাদেরই জন্য সর্বপ্রকার কল্যাণ এবং তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা তওবা : ৮৮)
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখজানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর




