• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২০ ‍জুলাই, ২০২৬

ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

মসজিদ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, ইলম শিক্ষা এবং মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। তাই একজন মুমিনের স্বপ্ন থাকে, নিজের সাধ্য অনুযায়ী এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করা, যা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।

মসজিদ নির্মাণ ও আবাদ অত্যন্ত ফজিলতের কাজ। পবিত্র কোরআনে এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির মধ্যে থাকা আবশ্যক গুণগুলোও বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, ওরা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৮)

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৫০)

এই ফজিলত অর্জন করতে সবাই চেষ্টা করেন তাদের মসজিদটি নান্দনিক ও মুসল্লিবান্ধব হয়। নিয়ত বিশুদ্ধ থাকার শর্তে মসজিদ নান্দনিক  করা দোষনীয়ও নয়।

হাদিস শরিফে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, মানুষ চায় যে তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এ-ও কি অহংকার? রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৬)

তাই মহান আল্লাহকে খুশি করার আশায় একটি মসজিদ পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত, দৃষ্টিনন্দন ও আরামদায়ক হওয়া দোষের নয়। বরং এমন পরিবেশ মুসল্লিদের ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই সৌন্দর্য যেন কখনো অহংকার, অপচয় বা লোক-দেখানো প্রতিযোগিতায় পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। কারণ লোক-দেখানো প্রতিযোগিতা ও অহংকারের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা বা অলংকরণ করা নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে সতর্ক করে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা মসজিদের সৌন্দর্য ও সুসজ্জিতকরণ নিয়ে পরস্পর গর্ব না করবে ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৩৯)

বর্তমান সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তা হলো, এখনকার যুগের মুসল্লিরাও ইবাদতের জন্য ‘ফটোজেনিক’ মসজিদ খুঁজে বেড়ান, যেখানে ইবাদতের চেয়ে মসজিদের ফটোজেনিক লুকটা বেশি প্রাধান্য পায়। কোথায় ছবি সবচেয়ে সুন্দর আসবে, কোথায় ভিডিও বা রিল বেশি আকর্ষণীয় হবে, এ বিষয়গুলোর প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই প্রবণতা মানুষের ইবাদতের মাহাত্ম্য নষ্ট করে। কারণ যেখানে উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত, সেখানে ফটো সেশন, ভিডিও ভ্লগিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রচারটা বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়। (নাউজুবিল্লাহ!)

অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর নিশ্চয় মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ১৮)

এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, মসজিদের প্রতিটি কার্যক্রম হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহকে কেন্দ্র করে। সেখানে ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রচারপ্রিয়তা ইত্যাদির অনুপ্রবেশ ঘটানো মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবলর আশঙ্কা থাকে। কারণ বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস হলো ইবাদতের প্রাণ। ইখলাস পরিপন্থী ও নিয়তের গরমিল ইবাদতকে মূল্যহীন করে দেয়। আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সি (রহ.) থেকে বর্ণিত, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আমল (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। (বুখারি, হাদিস : ১)

অতএব (নাউজুবিল্লাহ!) যদি কারো মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে নিজের উপস্থিতি প্রদর্শন করা কিংবা ফটো সেশন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়ে যায়, তবে ইখলাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর ইখলাস নষ্ট হলে আমলের মর্যাদাও কমে যায়।

তাই মসজিদে গেলে মসজিদের আদব রক্ষার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা, অপ্রয়োজনীয় কোলাহল সৃষ্টি করা, অন্য মুসল্লির ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো কিংবা ছবি, ভিডিও বা এমন কোনো কাজ করা, যাতে মানুষের মনোযোগ নষ্ট হয়—ইসলামের আদবের পরিপন্থী।

ইসলাম প্রযুক্তির বিরোধী নয়। কখনো কখনো শিক্ষামূলক, ঐতিহাসিক বা স্থাপত্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মসজিদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা জায়েজ হতে পারে, যদি তা মসজিদের মর্যাদা নষ্ট না করে, অন্য মুসল্লির ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে এবং রিয়া বা আত্মপ্রদর্শনের মাধ্যম না হয়।

কিন্তু নামাজরত মানুষের সামনে ক্যামেরা ধরানো, সেলফি তোলার জন্য কাতার ব্যাহত করা, উচ্চৈঃস্বরে ভিডিও ধারণ করা কিংবা মসজিদকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘কনটেন্ট স্টুডিও’ বানিয়ে ফেলা অবশ্যই পরিহারযোগ্য। আল্লাহর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় স্থান মসজিদে দাঁড়িয়ে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া মারাত্মক গুনাহ। এর মানে আবার এও নয় যে কোনো মসজিদ অনেক সুন্দর হলেই সেখানে নামাজ পড়া নিষেধ। বরং ইবাদতের মাহাত্ম্য নষ্টকারী প্রদর্শনমূলক কাজের উদ্দেশ্যে নান্দনিক মসজিদ খোঁজা নিষেধ। উদ্দেশ্য যদি হয় প্রশান্তচিত্তে মহান আল্লাহর ইবাদত করা, তাহলে এমন মসজিদে যেতে কোনো সমস্যা নেই। বরং তার স্থিরচিত্তে ইবাদতে মগ্ন হতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।

একজন মুমিনের কাছে মসজিদের সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার সিজদার সৌন্দর্য। স্থাপত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইখলাস। ক্যামেরার ফ্রেম ঠিক রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আল্লাহর দরবারে ইবাদতগুলো কবুল হওয়া।

তাই মসজিদে প্রবেশের সময় প্রতিটি মুমিনের উচিত, তার হৃদয়কে বিনয়ে পূর্ণ রাখা, পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রাখা, আর অন্তরকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় উদগ্রীব রাখা। যাঁরা মসজিদ নির্মাণ কিংবা মসজিদের সেবায় থাকেন, তাঁদেরও উচিত প্রতিটি পদক্ষেপে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া। শয়তানের ধোঁকা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।

মহান আল্লাহ সবাইকে বিশুদ্ধ নিয়ত ও পরিপূর্ণ তাকওয়া দান করুন। সবার ইবাদত ও শ্রমকে কবুল করুন।
 

আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি
মসজিদে নববীর ফজরের সময় দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আখেরি চাহার শোম্বা’ আরবি ও ফারসি মিশ্রিত একটি শব্দগুচ্ছ। এরমধ্যে আরবি ‘আখেরি’ অর্থ শেষ আর ফারসি শব্দ ‘চাহার’ অর্থ চার এবং ‘শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ, ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ শব্দগুচ্ছের সম্মিলিত অর্থ দাঁড়ায়—শেষ বুধবার। মূলত, শব্দগুচ্ছটি দ্বারা হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবারকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইরানের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিকে পবিত্র একটি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন। মূলত এর কারণ হলো রাসুল (সা.)-এর ওফাতের (ইন্তেকাল) আগে কিছুদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে সফর মাসের শেষদিকে এসে সেই অসুস্থতা থেকে একদিন নবীজি (সা.) কিছুটা আরোগ্য লাভ করেছিলেন। ওইদিন তিনি লোকেদের উদ্দেশে খুতবাও দিয়েছিলেন। তবে এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে নবীজির (সা.) ওফাত হয়।

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রাসুল (সা.) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তার ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক (চামড়ার তৈরি পানির পাত্র) যার মুখ এখনো খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেক সহধর্মিণী হাফসা (রা.)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা ওই মশক থেকে তার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম, যতক্ষণ না তিনি তার হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। আয়েশা (রা.) আরো বলেন, নবীজি (সা.) আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামাতে সালাত (নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২৪৭)

এই হাদিসটি থেকে ওফাতের আগে সফর মাসে অসুস্থতা থেকে নবীজির (সা.) একদিন সুস্থ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে অনেকে দাবি করেন, রাসুল (সা.) যেদিন সুস্থ হয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল বুধবার। এ জন্য দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অনেকেই বিশেষ নামাজ পড়ার কথা বলে থাকেন। কেউ কেউ এই দিনে বেশি বেশি সদকা ও ভালো কাজ করার কথাও বলে থাকেন। কিন্তু এগুলোর ভিত্তি কতটুকু?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (সা.) সফর মাসের শেষের দিকে এসে সুস্থতা লাভ করেছেন। এটি সত্য হলেও সেই দিনটি কি বার ছিল, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বারের কথা নবীজি (সা.) বা সাহাবায়ে-কেরামদের থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসে উল্লেখ নেই। অর্থাৎ বুধবারের এই দিনেই তিনি (নবীজি সা.) সুস্থতা লাভ করেছেন একথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অপ্রমাণিত একটি বিষয়।

এ ক্ষেত্রে অনেকে দাবি করেন, সাহাবায়ে-কেরামরা নবীজির (সা.)-এর আরোগ্য লাভের দিনটিকে বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন। তবে এটিরও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, নবীজির (সা.) আরোগ্য লাভের দিনটিকে সাহাবায়ে-কেরাম বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন এটি সম্পূর্ণ অসত্য। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) কিংবা হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে কোনো ধরনের বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজ বা আমলের কথা কুরআন-হাদিসে নেই। কাজেই ইসলামের নামে মনগড়া কোনোকিছু করলে তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মনে রাখতে হবে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এই শরিয়াতে সংগত নয় এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫১৭)।’

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দেবে তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত (অভিশাপ)। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’য়ালা তার কোনো ফরজ আমল এবং কোনো নফল কবুল করবেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২৯৯)

সৌদির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী ৩৪ বাংলাদেশিকে সম্মাননা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সৌদির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী ৩৪ বাংলাদেশিকে সম্মাননা
শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর মরণোত্তর সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন তাঁর ছেলে শায়খ উসামা খন্দকার। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জনকারী ৩৪ জনকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে এ প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌদি আরব থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ইসলামী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রীতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালেদ বিন সাঈদ আল হাদাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী। 

1এ প্রীতি অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-কে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সম্মাননা পদক পাওয়া উল্লেখযোগ্য গ্রাজুয়েটদের মধ্যে ছিলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সাবেক শিক্ষক ড. মাওলানা আব্দুস সালাম রিয়াদি প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে আগত গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে সৌদি আরবের ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালেদ বিন সাঈদ বলেন, ‘আপনারা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞানার্জন করে ডিগ্রি লাভ করেছেন। এরপর নিজ দেশে ফিরে এসেছেন এক মহান দায়িত্ব নিয়ে। আপনারা কেবল একটি ডিগ্রি ধারক নন, বরং আপনারা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে জ্ঞানার্জন করেছেন তার ধারক। আপনারাই সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক খুবই গভীর, যা মুসিলম ভ্রাতৃত্ব, পারষ্পরিক সৌহার্দবোধ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে বিরাজমান। আর আজকের গ্রাজুয়েটরাই এই সুসম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

অনুষ্ঠানে আরবি ভাষায় বক্তব্য দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা চাই না, সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যগত ও সাধারণ চাকরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। বরং আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে আশা করি, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে একেকজন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবেন।’

2তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যেকোনো দূরদর্শী ও অগ্রগামী চিন্তাভাবনাকে গ্রহণ করতে অত্যন্ত আন্তরিক। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদের উচিত, উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে—যার যার নিজস্ব অঙ্গনে—নেতৃত্ব দেওয়া এবং সমাজে মধ্যপন্থা, পরমতসহিষ্ণুতা ও আলোকিত চিন্তাধারার প্রসারে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।’

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছর সংগঠনটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা ৩৪ জন গ্রাজুয়েটকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। এ অনুষ্ঠানে শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-কে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের ১৯৯৮ সালে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে শায়খ উসামা খন্দকার।

উল্লেখ্য, সৌদি ইউনিভার্সিটিস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (এসইউএএবি) বা সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ হলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের একটি সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরি করা। এই সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছর সেমিনার, আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সৌদি আরব থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ড. আবদুস সালাম রিয়াদিকে বিশেষ সম্মাননা

অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরব থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ড. আবদুস সালাম রিয়াদিকে বিশেষ সম্মাননা
ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদিকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সদ্য পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্নকারী ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদিকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে এ প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ। 

সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রীতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালেদ বিন সাঈদ আল হাদাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী। 

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌদি আরব থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা ব্যক্তিবর্গ, ইসলামী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। 

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি বছর এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা ৩৪ জনকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। এ সময় শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-কে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের ১৯৯৮ সালে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে শায়খ উসামা খন্দকার।

উল্লেখ্য, সৌদি ইউনিভার্সিটিস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (এসইউএএবি) বা সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ হলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের একটি সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরি করা। এই সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছর সেমিনার, আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ড. মাওলানা আব্দুস সালাম রিয়াদি ১৯৯৬ সালে দেশের অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে সৌদি আরব গিয়ে বিশ্বখ্যাত কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০২ সালে আরবি ভাষার ওপর উচ্চতর ডিপ্লোমা এবং ২০০৭ সালে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে দেশে ফিরে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্বর্ণপদক পেয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

অতঃপর দীর্ঘ গবেষণার পর ২০২৫ সালে ড. মাওলানা আব্দুস সালাম কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার শিরোনাম ছিল- ‘বাংলাদেশে হাদিস চর্চা ও মুহাদ্দিসগণ : একটি অন্বেষণ ও বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা’। 

দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদি বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আল-জামিয়া আল-ইমদাদিয়া আযিযুল উলুম পোকখালি কক্সবাজার মাদরাসায় কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন। পরে সৌদি আরব যাওয়ার পর তিনি রিয়াদের দাওয়াহ ও গাইডনেস সেন্টারে শিক্ষক ও দাঈ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এবং দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল মা‘আরিফ আল-ইসলামিয়াতে তিনি মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জামিয়াতুশ শায়খ জমির উদ্দীন আল-ইসলামিয়ার শরিয়াহ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

ড. মাওলানা আবদুস সালাম রিয়াদি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে অতিথি হিসেবে তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ও আরবিতে তার কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।