• ই-পেপার

ট্রাম্পের ফোনকলে মাঠে বালোগান, এ কারণেই কি ফাইনাল দেখেননি উয়েফা সভাপতি

পারেদেস-গাভির বক্সিং ম্যাচ দেখতে চান স্প্যানিশ ভক্তরা

ক্রীড়া ডেস্ক
পারেদেস-গাভির বক্সিং ম্যাচ দেখতে চান স্প্যানিশ ভক্তরা

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর স্পেনের উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন হাস্যরস। ফাইনালে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ সমর্থকরা এক অদ্ভুত উপায়ে ট্রল করেছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও তরুণ তুর্কি গাভির মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং সংঘাতের রেশ ধরে স্পেনের ভিক্টরি প্যারেডে দেখা গেছে এক ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার হতাশা যখন মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, তখন পারেদেস চলে আসেন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্পেনের সমর্থকরা এই ঘটনাকে হালকা করতে এবং মজার ছলে তার জবাব দিতে বেছে নেন ভিন্ন পথ। মাদ্রিদের সিবেলেস চত্বরে স্পেনের জয়োল্লাসে ফুটবলাররা যখন উন্মাদনায় মেতেছিলেন, তখন নক্ষত্রখচিত সেই বাসে নড়েচড়ে বসেন লামিনে ইয়ামালরা। সে সময় এক সমর্থকের হাতে থাকা বিশেষ ব্যানারটি নজর কাড়ে সবার। 

ব্যানারটির সামনের অংশে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন-এর ছবি থাকলেও, উল্টো পিঠে লেখা ছিল এক মজার বার্তা। সেখানে পারেদেস ও গাভির মধ্যে একটি বক্সিং লড়াইয়ের আয়োজন করার দাবি তোলা হয়। মূলত ফাইনাল বাঁশি বাজার পর এরিক গার্সিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে পারেদেসের মুখোমুখি হয়েছিলেন গাভি। সেই মারমুখী মুহূর্তটিকেই ব্যঙ্গ করে তৈরি হয়েছিল ওই ব্যানার। 

বাসে থাকা ফ্যাবিয়ান রুইজ ও লামিনে ইয়ামাল ব্যানারটি দেখার পর হাসি চেপে রাখতে পারেননি। তারা গাভিকে দেখিয়ে এই হাস্যরসাত্মক লড়াইয়ের ইভেন্ট নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মজা করতে থাকেন। 

‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ। আর সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও তুমুল আলোচনা। বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের ঠিক আগে সতীর্থদের উদ্দেশে বলা লিওনেল মেসির একটি বাক্যই এখন নেটদুনিয়ায় কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যেই খবরটি নিয়ে তোলপাড় শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে—ফাইনালে নামার আগে যেখানে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা দিয়ে দেশবাসীকে ভাসিয়েছিলেন এলএমটেন, সেই তিনিই ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে নামার মুহূর্তে হঠাৎ সতীর্থদের ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ তাগিদ দিলেন কেন?

আর্জেন্টাইন ক্রীড়ামাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওর সূত্র ধরে জানিয়েছে, ড্রেসিংরুমের দরজার মুখে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে অধিনায়ক মেসি বলছিলেন, ‘সবাই শান্ত হও। মূল বিষয় হলো আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে।’

এ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ও সাধারণ অনুশাসনের মতো মনে হলেও, গোল বাঁধিয়েছে তাঁর পরের বাক্যটি। সতীর্থদের উদ্দীপ্ত করতে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘এসো, আমরা সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। এসো, শুধু খেলায় মন দিই।’

ভিডিওতে স্পষ্ট, অধিনায়কের কথা শুনছিলেন যখন এনজো ফার্নান্দেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজরা, তখন তাদের শরীরী ভাষায় ছিল চরম গাম্ভীর্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে সতীর্থদের ঠিক কী এমন ঘটনা বা বিতর্ক মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বলেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর?

৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা ঠিক কোন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফাইনালের আমেজ জমতেই রেফারির সুবিধা পাওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছিল, তার দিকেই হয়তো আঙুল তুলছেন অনেকে। ফাইনালের আগে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত খোলামেলাভাবেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন আলবিসেলেস্তেদের দিকে।

লাপোর্ত বিতর্ক উসকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে সত্যি অবাক করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেছিল, যেখানে কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি। তারা অনবরত প্রতিপক্ষ ও রেফারির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। এত বড় আসরে এমন আচরণ ফুটবলের স্বার্থেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয়।’

ধারণা করা হচ্ছে, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক আর মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে সতীর্থদের মুক্ত রাখতেই হয়তো মেসি ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ মন্ত্র দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একপেশে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের বিশ্বমঞ্চের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল স্প্যানিশরা। ম্যাচে রেফারিং নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক না হলেও, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে সেই অপ্রীতিকর ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। 

বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়ার বেদনায় পুড়ছে আর্জেন্টিনা। তবে কেবল শিরোপা হারানোই নয়, ফাইনালের শেষ মুহূর্তের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসেও কালিমালিপ্ত হলো আলবিসেলেস্তেদের নাম। খেলার অন্তিম মুহূর্তে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার বাজে রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।

ক্রীড়া বিষয়ক সাময়িকী ‘স্পোর্টস মোল’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তেতো পরিসংখ্যানের কথা।

ম্যাচে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশ করায় প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন চেলসি মিডফিল্ডার এনজো। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সিকে অপ্রয়োজনীয় এক ফাউল করে বসে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখেন তিনি।

যখন টাইব্রেকারে ম্যাচ নেওয়ার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিল লিওনেল স্কালোনির দল, ঠিক তখনই এনজোর এই ভুল ১০ জনের দলে পরিণত করে আর্জেন্টিনাকে।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১০৬তম মিনিটে। স্প্যানিশ উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে গোলকিপারকে পরাস্ত করে ম্যাচের জয়সূচক গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। পুরো ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে না পারা আর্জেন্টিনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়ার মিছিলে এনজো অনুসরণ করলেন তারই দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন ও গুস্তাভো দেজোত্তিকে। ১৯৯০ সালের রোম ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের সেই বিষাদময় রাতে লাল কার্ড পেয়েছিলেন তাঁরা দুজন। বিশ্বকাপের কোনো একক ফাইনালে একই দলের দুজন ফুটবলারের বহিষ্কৃত হওয়ার একমাত্র ঘটনা সেটিই।

রবিবারের এই ঘটনার আগে ফাইনালের মঞ্চে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই তালিকার শীর্ষে ছিল। ফরাসিদের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬-এর ঐতিহাসিক ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁস মেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে এবার এনজোর লাল কার্ডের পর এককভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিজেদের করে নিল আর্জেন্টিনা।

এই পরাজয় বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের রানার্সআপ হওয়ার বেদনাময় ইতিহাসকে আরও দীর্ঘায়িত করল। ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এবার তাদের ঝুলিতে জমা হলো চতুর্থ রানার্সআপ ট্রফি। ফলে জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার হতাশাজনক রেকর্ডেরও ভাগীদার এখন তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 
 

বিশ্বকাপ শেষ হতেই পদত্যাগ বেলজিয়াম কোচের

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ শেষ হতেই পদত্যাগ বেলজিয়াম কোচের
বেলজিয়ামের দায়িত্ব ছেড়েছেন বোমেল। ছবি : এক্স থেকে

স্পেনের কাছে হেরে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। তাতে সুতায় ঝুলছিল কোচ রুডি গার্সিয়ার চাকরি। সেই সুতো আজ ছিঁড়েই গেল। 

গার্সিয়া যেন সেটারই অপেক্ষায় ছিলেন। বিশ্বকাপ শেষ হলেই জানাবেন বেলজিয়ামের ডাগআউটে আর থাকছেন না। দ্য রয়্যাল বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আরবিএফএ) সঙ্গে সমঝোতার পর চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

তাতে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১৮ মাসের যাত্রা থামল গার্সিয়ার। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৬২ বছর বয়সী কোচ। অবশ্য ফরাসি কোচের মেয়াদও শেষ হতো ৩১ জুলাই। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দিলেন।

 

বিদায় বেলা বেলজিয়ামের ডাগআউটে কাটানো মুহূর্ত স্মরণ করলেন গার্সিয়া। তিনি বলেছেন, ‘আরবিএফএয়ের সঙ্গে আলোচনার পর, গত ১৮ মাস একসঙ্গে যে চমৎকার মুহূর্ত কাটিয়েছি তা আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বেলজিয়ামকে নেশনস লিগের ‘লিগ এ’-তে এবং বিশ্বের সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে রেখে যাচ্ছি। বেলজিয়ামের নতুন প্রজন্মের সফলতা কামনা করছি। তার শুরু করতে পেরে আমি গর্বিত।’

বেলজিয়ামের হয়ে ২০ ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন গার্সিয়া। তার অধীনে ১২ জয়ের বিপরীতে ২ হার দেখেছে বেলজিয়াম। বাকি ৬ টি ড্র হয়েছে। তার উত্তরসূরি হতে পারেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক ডিফেন্ডার মার্ক ফন বোমেল।